উন্মুক্ত ইসলামি গ্রন্থাগার 📲 অ্যাপ ইনস্টল করুন
কামেলাইসলামি ডিজিটাল লাইব্রেরি

ফতোয়া নং ১১

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। হযরত আমার একটি প্রশ্ন ছিল অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং তথা ফরেক্স এক্সচ…

📅 তারিখ: ০৭-১১-২০২৬ 🏷 লেনদেন ⚖ মাযহাব: হানাফি ✍ ফতোয়াদাতা: Muhammad Ainul Huda 👁 পড়া হয়েছে ১০ বার

প্রশ্ন

👤 প্রশ্নকারী: মোহাম্মদ গোলামুর রহমান হাসান চৌধুরী — ফেনী, বাংলাদেশ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
হযরত আমার একটি প্রশ্ন ছিল
অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং তথা ফরেক্স এক্সচেঞ্জ জায়েজ আছে কিনা?
এর জন্য পদ্ধতি কি হতে পারে?

💬 মন্তব্য ০

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

প্রচলিত অনলাইন রিটেইল ফরেক্স ট্রেডিংয়ের অধিকাংশ পদ্ধতি শরিয়াহসম্মত নয়। তবে প্রকৃত মুদ্রা বিনিময় শর্তসাপেক্ষে জায়েয। অনলাইনে হচ্ছে—এটি নিজে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ নয়; মূল বিষয় হলো চুক্তি, মালিকানা, দখল ও সুদের উপস্থিতি।

প্রচলিত ফরেক্সে সমস্যা কোথায়?
- প্রকৃত মুদ্রা কেনাবেচা হয় না: অনেক প্ল্যাটফর্মে ডলার বা ইউরোর মালিক হওয়ার পরিবর্তে শুধু দাম বাড়া-কমার পার্থক্য অনুযায়ী লাভ-লোকসান মেটানো হয়। একে সাধারণত CFD—Contract for Difference বলে।
- দখল ছাড়া বিক্রি: কেনা মুদ্রা নিজের ব্যবহারের উপযোগী দখলে আসার আগেই আবার বিক্রি করা হয়।
- সুদযুক্ত লেনদেন: কিছু ব্যবস্থায় রাতভর ট্রেড খোলা রাখলে সুদ বা ‘সোয়াপ’ নেওয়া-দেওয়া হয়।
এসব কারণে দারুল ইফতা আহলুস সুন্নাত ও দারুল ইফতা নিউইয়র্ক প্রচলিত রিটেইল ফরেক্সকে নাজায়েয বলেছেন। শুধু ‘Islamic Account’ বা ‘Swap-free’ নাম থাকলেই লেনদেন হালাল হয়ে যায় না।

জায়েয পদ্ধতি কী হতে পারে?

মুদ্রা বিনিময়ের শরিয়াহসম্মত রূপে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

১. প্রকৃত মুদ্রা কিনতে হবে। যেমন—নিজের ডলার দিয়ে ইউরো কিনলেন এবং সেই ইউরো সত্যিকার অর্থে আপনার মালিকানায় এল।

২. উভয় পক্ষের বিনিময়মূল্য শরিয়াহস্বীকৃতভাবে হস্তগত হতে হবে। হাতে নগদ নেওয়া ছাড়াও কার্যকরভাবে ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে মুদ্রাটি উত্তোলন বা স্থানান্তরের অধিকার পাওয়া ‘হুকমী দখল’ হতে পারে। শুধু ট্রেডিং স্ক্রিনে লাভ-লোকসানের অঙ্ক দেখা যথেষ্ট নয়। ব্যাংকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগত বিলম্বের অবকাশ থাকলেও দখল কার্যকর হওয়ার আগে সেই মুদ্রা আবার বিক্রি করা যাবে না।

৩. সুদ, সুদযুক্ত ঋণ ও নিষিদ্ধ শর্ত থাকতে পারবে না। ব্যবহারিকভাবে নিজের টাকায়, ঋণ বা লিভারেজ ছাড়া প্রকৃত মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবস্থা বেছে নিতে হবে; শুধু লিভারেজ বাদ দিলেই অবশ্য অন্য ত্রুটিগুলো দূর হয় না।

৪. ভবিষ্যতে মুদ্রা বুঝিয়ে দেওয়ার শর্তে আজ বিনিময়চুক্তি করা যাবে না। আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমি মুদ্রার বাকিতে বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে।

এ বিষয়ে মূল হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الْأَصْنَافُ فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ
📖 شرح بلوغ المرام — পৃষ্ঠা ১০৮৫

“এ শ্রেণিগুলো ভিন্ন হলে তোমরা ইচ্ছামতো বিনিময় করো, যদি তা হাতে হাতে হয়।”

—সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৮৭। মুদ্রা বিনিময়ের বিধানে ফকীহগণ এ মূলনীতি প্রয়োগ করেছেন।

অর্থাৎ, নিজের টাকায় প্রকৃত মুদ্রা কিনে শরিয়াহসম্মত দখল নেওয়ার পর পরে তা বিক্রি করে লাভ করা নীতিগতভাবে জায়েয হতে পারে। কিন্তু প্রচলিত ব্রোকারের ‘Buy/Sell’ বোতামে লেনদেন করাকে যাচাই ছাড়া এ পদ্ধতি বলা যাবে না।

✍ ফতোয়াদাতা: Muhammad Ainul Huda · ০৭-১১-২০২৬ · মাযহাব: হানাফি

💬 মন্তব্য ০

আরও প্রশ্ন ও উত্তর

❓ এই ফতোয়া নিয়ে আরও প্রশ্ন করুন

উত্তর পড়ার পরও কিছু অস্পষ্ট থাকলে বা পরের প্রশ্ন থাকলে লিখুন। মুফতি উত্তর দিলে প্রশ্ন ও উত্তর দুটোই এখানে প্রকাশিত হবে।

✍ আপনিও ফতোয়া জিজ্ঞেস করুন

মন্তব্য (০)