مكتبة إسلامية مفتوحة 📲 ثبّت التطبيق
كاملةالمكتبة الإسلامية الرقمية

কোরআন ও হাদিসের আলোকে মিলাদ ও ক্বিয়াম ?…

📅 التاريخ: ٠٦-١١-٢٠٢٦ 🏷 العبادات ⚖ المذهب: الحنفي ✍ المفتي: Muhammad Ainul Huda 👁 قُرئ ٦ مرة

السؤال

👤 السائل: Nurul Islam Mubin — সিলেট, বাংলাদেশ

কোরআন ও হাদিসের আলোকে মিলাদ ও ক্বিয়াম ?

💬 تعليق ٠

الجواب

কোরআন ও হাদিসের আলোকে মিলাদ ও ক্বিয়াম জায়েজ, মুস্তাহসান / উত্তম কাজ।

আমরা যে মীলাদের কথা বলি, তা এমন একটি মজলিস-যেখানে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সীরাত, শামায়িল ও ফাদাইল আলোচনা করা হয়, তাঁর প্রতি অধিক পরিমাণে দরূদ ও সালাম পাঠ করা হয়, উম্মতকে তাঁর সুন্নাহ ও মহান চরিত্র স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, মানুষকে খাবার খাওয়ানো হয় এবং বিভিন্ন নেক ও কল্যাণকর কাজ করা হয়-সেই সঙ্গে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যা হারাম করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা হয়।

তাঁকে নিয়ে আনন্দ উদ্‌যাপন শরীআতসম্মত, কাম্য এবং গ্রহণযোগ্য আমল। তাঁর গোটা জীবনই আমাদের জন্য আনন্দ উদ্‌যাপন ও প্রার্থনার উপলক্ষ। যে তাঁকে নিয়ে আনন্দিত হয়েছে সে সৌভাগ্যবান হয়েছে, আর যে তাঁকে নিয়ে আনন্দিত হয়নি সে দূরে সরে গেছে। যে বাড়াবাড়ি কিংবা শিথিলতা করেছে সে বিতাড়িত হয়েছে, আর যে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে সে-ই সঠিক পথ গ্রহণ করেছে। কারণ অস্বীকারের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি প্রমাণ ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে শিথিলতাও ক্ষতিকর। এ দুটিই নানা ভ্রষ্টতা ও কুসংস্কারের ভিত্তি। মধ্যপন্থাই হলো সেই আদর্শ, যা নিয়ে এসেছেন সাইয়্যিদুস সাদাত ﷺ এবং যা আমাদের প্রতিপালক, সমগ্র সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা নাযিল করেছেন।

এই বিষয়ে আমার একাধিক কিতাব আছে। আল-ইহতিফাল আরবী কিতাব ৮০০ পৃষ্টা, দারুল কুতুব বৈরুত থেকে ছাপা হয়েছে। বাংলাতেও আছে একাধিক কিতাব। মূল কিতাব বাংলা অনুবাদ শীঘ্রই ছাপা হবে ইনশাআল্লাহ।
আমার নাম ( মুহাম্মাদ আইনুল হুদা ) দিয়ে সার্চ করলে কিছু কিতাব পেয়ে যাবেন।

আমার কিতাবে যা প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে
• মীলাদ মাহফিলের সঠিক পদ্ধতি।
• মীলাদ মাহফিলে করণীয় ও বর্জনীয়।
• নবীজির মাহফিলে মীলাদ মানে যদি মীলাদ আলোচনা হয়, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে করীমে নবীদের মীলাদ আলোচনা করেছেন।
• নবীজির মাহফিলে মীলাদ মানে যদি নবীজীর জীবনের যে কোন আংশ নিয়ে আলোচনা হয়, দলীলের কোন অভাব নেই।
• নফল ইবাদতের মাধ্যমে নবীজীর মীলাদের শুকরিয়া আদায় করেছেন স্বয়ং নবীজী। যে কারণে উম্মাহ’র বৃহত্তম অংশ (আস সাওয়াদুল আজম) মনে করেন যে কোন নফল বন্দেগীর মাধ্যমে নবীজীর মীলাদের শুকরিয়া আদায় করা শরীয়ত সম্মত।
• অনিয়মিতভাবে আলোচনা মাহফিল শুরু হয় উমাইয়াদের সময় (৪১ – ১৩২ হিজরি) সাহাবায়ে কেরামের যুগে, কারবালার গণহত্যার আগে, আহলে বায়তের সাইয়িদদের ঘরে ঘরে। এই মাহফিল সাইয়িদদের ঘরে ঘরে এখনো চালু আছে।
• ফাতেমী বা আইয়ুবীরা এই আমল শুরু করেনি। তারা আহলে বায়তের ঘরোয়া মাহফিলকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদযাপন করেছে। ফাতেমীদের উত্থান শুরু ২৮০ হিজরি থেকে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদযাপন এখনো অব্যাহত আছে পৃথিবীর বহু রাষ্ট্রে।
• মীলাদুন্নবী উদযাপন উম্মাহ’র একটি আমলে মুতাওয়ারাস।
• যাদের দ্বারা ইতিহাস রচিত হয়েছে তাঁরা সকলেই এই মাহফিল উদযাপন করতেন। তাঁরা সবাই ছিলেন সূফী কিংবা সূফী ভাবধারার।
• বর্তমান সময়ে যেসব বেদাতীরা এই মাহফিলের বিরোধিতা করে ইসলামের ইতিহাসে তাদের কী অবদান আছে?
• বেদাত ও মাসাইলুত তারক- আকীদাগত বেদাতীরা এ ব্যাপারে অজ্ঞ।

মীলাদুন্নবী ﷺ উদ্‌যাপনের সংজ্ঞা কী?
ইমাম সুয়ূতী রহ. বলেছেন:

عِنْدِي أَنَّ أَصْلَ عَمَلِ الْمَوْلِدِ الَّذِي هُوَ اجْتِمَاعُ النَّاسِ وَقِرَاءَةُ مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ وَرِوَايَةُ الْأَخْبَارِ الْوَارِدَةِ فِي مَبْدَأِ أَمْرِ النَّبِيِّ ﷺ وَمَا وَقَعَ فِي مَوْلِدِهِ مِنَ الْآيَاتِ، ثُمَّ يُمَدُّ لَهُمْ سِمَاطٌ يَأْكُلُونَهُ وَيَنْصَرِفُونَ مِنْ غَيْرِ زِيَادَةٍ عَلَى ذَلِكَ - هُوَ مِنَ الْبِدَعِ الْحَسَنَةِ الَّتِي يُثَابُ عَلَيْهَا صَاحِبُهَا لِمَا فِيهِ مِنْ تَعْظِيمِ قَدْرِ النَّبِيِّ ﷺ وَإِظْهَارِ الْفَرَحِ وَالِاسْتِبْشَارِ بِمَوْلِدِهِ الشَّرِيفِ.
📖 الحاوي للفتاوي — ص ١٤٨

“আমার মতে, মীলাদ উদ্‌যাপনের মূল রূপ হলো-মানুষ একত্রিত হওয়া, পবিত্র কুরআন থেকে যতটুকু সহজসাধ্য তিলাওয়াত করা, নবী ﷺ-এর নবুওয়াতের সূচনাকাল সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ এবং তাঁর জন্মের সময় সংঘটিত নিদর্শনাবলি বর্ণনা করা। অতঃপর তাদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হবে, তারা তা গ্রহণ করে চলে যাবে; এর সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু করা হবে না।
এটি এমন একটি উত্তম বিদআত (বিদআতে হাসানাহ), যার জন্য এর আয়োজনকারী সাওয়াব লাভ করবেন। কেননা এতে নবী ﷺ-এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর পবিত্র জন্ম উপলক্ষে আনন্দ ও উৎফুল্লতা প্রকাশ করা হয়।”

আমাদের শায়খ ও ইমাম, মুহাদ্দিসুল হিজায আল্লামা সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ইবন আলাবী আল-মালিকী রহ. বলেছেন:

مَفْهُوْمُ الْمَوْلِدِ فِيْ نَظَرِيْ: إنَّنَا نَرَى أنَّ الاحْتِفَالَ بِالْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيْفِ لَيْسَتْ لَه كَيْفِيَّةٌ مَخْصُوْصَةٌ لَابُدَّ مِنَ الالْتِزَامِ أوْ إلْزَامِ النَّاسِ بِهَا ، بَلْ إنَّ كُلَّ مَا يَدْعُوْ إلَى الْخَيْرِ وَيَجْمَعُ النَّاسَ عَلَى الْهُدَى وَ يُرْشِدُهُمْ إلَى مَا فِيْهِ مَنْفَعَتُهُمْ فِيْ دِيْنِهِمْ وَدُنْيَاهُمْ يُحْصَلُ بِه تَحْقِيْقُ الْمَقْصُوْدِ مِنَ الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ . وَلِذلِكَ فَلَوِ اجْتَمَعْنَا عَلَى شَيْئٍ مِنَ الْمَدَائِح الَّتِيْ فِيْهَا ذِكْرُ الْحَبِيْبِ ﷺ وَفَضْلِه وَجِهَادِه وَخَصَائِصِه وَلَمْ نَقْرَأِ الْقِصَّةَ الَّتِيْ تَعَارَفَ النَّاسُ عَلَى قِرَاءَتِهَا وَاصْطَلَحُوْا عَلَيْهَا حَتَّى ظَنَّ الْبَعْضُ أنَّ الْمَوْلِدَ النَّبَوِيَّ لَا يَتِمُّ إلَّا بِهَا ، ثُمَّ اسْتَمَعْنَا إلَى مَا يُلْقِيْهِ الْمُتَحَدِّثُوْنَ مِنْ مَوَاعِظَ وَإرْشَادَاتٍ وَإلَى مَا يَتْلُوْهُ الْقَارِئُ مِنْ آيَاتٍ . أقُوْلُ : لَوْ فَعَلْنَا ذلِكَ فَإنَّ ذَلِكَ دَاخِلٌ تَحْتَ الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيْفِ وَيَتَحَقَّقُ بِه مَعْنَی الاحْتِفَالِ بِالْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيْفِ ، وَأظُنُّ أنَّ هذَا الْمَعْنَى لَا يَخْتَلِفُ عَلَيْهِ اثْنَانِ وَلَا يَنْتَطِحُ فِيْهِ عَنْـزَانِ
📖 الرد القوي على الرفاعي والمجهول وابن علوي وبيان أخطائهم في المولد النبوي — ص ٢٠٥

আমার দৃষ্টিতে মীলাদের ধারণা: আমাদের মতে, পবিত্র নববী মীলাদ উদ্‌যাপনের এমন কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই, যা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে কিংবা মানুষকে তা অনুসরণে বাধ্য করতে হবে। বরং এমন প্রত্যেক কাজ, যা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, মানুষকে হিদায়াতের ওপর সমবেত করে এবং তাদের দীন ও দুনিয়ার উপকারী বিষয়ের পথনির্দেশ করে-তার মাধ্যমে নববী মীলাদ উদযাপনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়।
এ কারণে আমরা যদি এমন কিছু প্রশংসাগাঁথা পাঠের জন্য একত্রিত হই, যাতে প্রিয় নবী ﷺ-এর আলোচনা, তাঁর মর্যাদা, তাঁর জিহাদ ও তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলির বর্ণনা রয়েছে; আর প্রচলিত সেই মীলাদের কাহিনি পাঠ না-ও করি, যা পাঠ করতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং যার প্রচলন এতটাই হয়েছে যে, কেউ কেউ ধারণা করে বসেছে-এটি ছাড়া নববী মীলাদই পূর্ণ হয় না; অতঃপর আমরা বক্তাদের উপদেশ ও দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা শুনি এবং কারীর তিলাওয়াতকৃত কুরআনের আয়াতসমূহ শ্রবণ করি-আমি বলব, আমরা যদি এমনটি করি, তবে তাও পবিত্র নববী মীলাদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং এর মাধ্যমে পবিত্র নববী মীলাদ উদ্‌যাপনের তাৎপর্য বাস্তবায়িত হবে।
আমার ধারণা, এ অর্থের ব্যাপারে দুজন ব্যক্তিও দ্বিমত করবে না এবং এ নিয়ে দুটি ছাগলও শিং ঠোকাঠুকি করবে না।

আমরা ১৬টি হাদিস উল্লেখ করেছি আমাদের কিতাবে। এখানে ১ম হাদিসটি উল্লেখ করছি,
ইমাম মুসলিম রহ. বর্ণনা করেছেন, আবূ কাতাদা আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে সোমবার রোযা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:

‏ "‏ فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَىَّ"
📖 نزول القرآن الكريم والعناية به في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم — ص ٤٦

“এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে।”

মোল্লা আলী কারী রহ. মিশকাতের ব্যাখ্যায় বলেন:

فَوَقْتٌ يَكُونُ مَنْشَأً لِلنِّعَمِ الدُّنْيَوِيَّةِ وَالْأُخْرَوِيَّةِ حَقِيقٌ بِأَنْ يُوجَدَ فِيهِ الطَّاعَةُ الظَّاهِرِيَّةُ وَالْبَاطِنِيَّةُ فَيَجِبُ شُكْرُهُ - تَعَالَى - عَلَيَّ، وَالْقِيَامُ بِالصِّيَامِ لَدَيَّ، لِمَا أَوْلَى مِنْ تَمَامِ النِّعْمَةِ إِلَيَّ
📖 مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح — ص ١٤٧٦

“যে সময়টি দুনিয়া ও আখিরাতের নিয়ামতসমূহের সূচনাস্থল, সে সময়ে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ইবাদত-বন্দেগি করা যথার্থ। অতএব, আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি যে পরিপূর্ণ নিয়ামত দান করেছেন, তার জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা এবং আমার জন্য রোযা পালন করা আবশ্যক।”

ইবনুল মালাক রহ. এর ব্যাখ্যায় বলেন:

أجَابَ - ﷺ - بِمَا يَدُلُّ عَلَى أنَّ هَذَا الْيَوْمَ مُبَارَكٌ، وَصَوْمُه مَحْبُوْبٌ
📖 شرح مصابيح السنة للإمام البغوي — ص ٤١٣

“নবী ﷺ এমনভাবে উত্তর দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে, এই দিনটি বরকতময় এবং এ দিনে রোযা রাখা প্রিয় ও পছন্দনীয়।”

ইমাম তীবী রহ. বলেন:

أيْ فِيْهِ وُجُوْدُ نَبِيِّكُمْ ، وَفِيْهِ نُزُوْلُ كِتَابِكُمْ ، وَثُبُوْتُ نُبُوَّتِه ، فَأيُّ يَوْمٍ أفْضَلُ وَأوْلَى لِلصِّيَامِ مِنْهُ؟ فَاقْتَصَرَ عَلىَ العِلَّةِ ، أيْ سَلُوْا عَنْ فَضِيْلَتِه. لِأنَّه لَا مَقَالَ فِيْ صِيَامِه ، فَهُوَ مِنَ الأسْلُوْبِ الحَكِيْمِ
📖 شرح الطيبي على مشكاة المصابيح المسمى ب (الكاشف عن حقائق السنن) — ص ٧٢٧

“অর্থাৎ, এ দিনেই তোমাদের নবীর অস্তিত্ব লাভ হয়েছে, এ দিনেই তোমাদের কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁর নবুওয়াত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং রোযা রাখার জন্য এর চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও উপযুক্ত দিন আর কোনটি হতে পারে?

অতএব, তিনি ﷺ শুধু এর কারণটিই উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, যেন বলা হয়েছে-তোমরা এ দিনের ফাদাইল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো। কেননা, এ দিনে রোযা রাখার ব্যাপারে কোনো আপত্তির অবকাশ নেই। এটি ‘উসলূবুল হাকীম’ (الأسلوب الحكيم)-এর অন্তর্ভুক্ত।”

আল্লামা মুযহিরুদ্দীন আয-যাইদানী রহ. এর ব্যাখ্যায় বলেন:

فَأجَابَه بِمَا يَدُلُّ عَلَى أنَّ هذَا الْيَوْمَ مُبَارَكٌ وَصَوْمَه مَحْبُوْبٌ
📖 الاحتفال بالمولد وأدلة المنهج المقتصد — ص ٢٥

“তিনি ﷺ এমনভাবে উত্তর দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে, এই দিনটি বরকতময় এবং এ দিনে রোযা রাখা প্রিয় ও পছন্দনীয়।”

আল্লামা সাঈদ হাওওয়া রহ. বলেন:
নবী ﷺ-এর বাণী,

ذلِكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيْهِ وَفِيْهِ أنْزِلَ عَلَيَّ": يَدُلُّ عَلَى أنَّ يَوْمَ مِيْلَادِه مِنْ أيَّامِ اللهِ، واللهُ تَعَالَى قَالَ فِيْ الْقُرْآنِ: ﴿وَذَكِّرْهُمْ بِأَيَّامِ اللَّهِ﴾ وَمِنْ هَا هُنَا أخَذَ بَعْضُهُمْ فِكْرَةَ تَعْظِيْمِ يَوْمِ الْمَوْلِدِ وَاعْتَبَرُوْا هذَا الْحَدِيْثَ دَلِيْلاً يَدُلُّ عَلَى الْجَوَازِ
📖 الأساس في السنة وفقهها - العبادات في الإسلام — ص ٢٧٥٩

“এটি এমন একটি দিন, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে”-
এ কথা প্রমাণ করে যে, তাঁর জন্মদিন ‘আইয়ামুল্লাহ’ তথা আল্লাহর বিশেষ দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন: ﴿وَذَكِّرْهُمْ بِأَيَّامِ اللَّهِ﴾ “আর তাদের আল্লাহর দিনসমূহ স্মরণ করিয়ে দাও।”
এ থেকেই কোনো কোনো আলিম মীলাদের দিনকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের ধারণা গ্রহণ করেছেন এবং এ হাদীসকে এর বৈধতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেছেন।

মুহাদ্দিসুল হিজায আল্লামা মুহাম্মাদ ইবন আলাওয়ী আল-মালিকী রহ. বলেন:

أنَّه ﷺ كَانَ يُعَظِّمُ يَوْمَ مَوْلِدِه، وَيَشْكُرُ اللهَ تَعَالَى فِيْهِ عَلَى نِعْمَتِه الْكُبْرَى عَلَيْهِ، وَتَفَضُّلِه عَلَيْهِ بِالْوُجُوْدِ لِهذَا الْوُجُوْدِ؛ إذْ سَعِدَ بِه كُلُّ مَوْجُوْدٍ وَكَانَ يُعَبِّرُ عَنْ ذلِكَ التَّعْظِيْمِ بِالصِّيَامِ كَمَا جَاءَ فِيْ الْحَدِيْثِ عَنْ أبِيْ قَتَادَةَ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الاثْنَيْنِ. فَقَالَ: "فِيْهِ وُلِدْتُّ وَفِيْه أنْزِلَ عَلَيَّ" .
وَهذَا مَعْنَى الاحْتِفَالِ بِه، وَالْمَعْنَى مَوْجُوْدٌ سَوَاءً كَانَ ذلِكَ بِصِيَامٍ، أمْ إطْعَامِ طَعَامٍ، أوِ اجْتِمَاعٍ عَلَى ذِكْرٍ، أوْ صَلَاةٍ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ وَسَمَاعِ شَمَائِلِه الشَّرِيْفَةِ
📖 تاريخ دمشق — ص ١٣٠١٦

নবী ﷺ তাঁর জন্মদিনকে সম্মান করতেন এবং এ দিনে আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে মহা নিয়ামত দান করেছেন এবং তাঁকে অস্তিত্ব দানের মাধ্যমে যে বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন, তার জন্য আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করতেন। কেননা, তাঁর অস্তিত্বের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টিজগৎ সৌভাগ্যবান হয়েছে।

আর তিনি ﷺ এই সম্মান ও কৃতজ্ঞতা রোযা রাখার মাধ্যমে প্রকাশ করতেন। যেমন আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে-রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে সোমবার রোযা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَيَّ
“এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে।”
আর এটাই হলো মীলাদ উদযাপনের মর্মার্থ। এই মর্মার্থ বিদ্যমান থাকে-তা রোযা রাখার মাধ্যমে হোক, খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে হোক, যিকরের জন্য সমবেত হওয়ার মাধ্যমে হোক, নবী ﷺ-এর প্রতি সালাত পাঠের মাধ্যমে হোক কিংবা তাঁর পবিত্র শামায়িল শ্রবণের মাধ্যমে হোক।

ইবনুল হাজ্জ আল-মালিকী রহ. আল-মাদখাল গ্রন্থে রবীউল আউয়াল মাসের মীলাদ প্রসঙ্গে বলেন:

فَآلَةُ الطَّرَبِ وَالسَّمَاعِ أَيُّ نِسْبَةٍ بَيْنَهَا وَبَيْنَ تَعْظِيمِ هَذَا الشَّهْرِ الْكَرِيمِ الَّذِي مَنَّ اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْنَا فِيهِ بِسَيِّدِ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ. فَكَانَ يَجِبُ أَنْ يُزَادَ فِيهِ مِنَ الْعِبَادَاتِ وَالْخَيْرِ شُكْرًا لِلْمَوْلَى سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَلَى مَا أَوْلَانَا مِنْ هَذِهِ النِّعَمِ الْعَظِيمَةِ وَإِنْ كَانَ النَّبِيُّ - ﷺ - لَمْ يَزِدْ فِيهِ عَلَى غَيْرِهِ مِنَ الشُّهُورِ شَيْئًا مِنَ الْعِبَادَاتِ وَمَا ذَاكَ إلَّا لِرَحْمَتِهِ - ﷺ - بِأُمَّتِهِ وَرِفْقِهِ بِهِمْ لِأَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - كَانَ يَتْرُكُ الْعَمَلَ خَشْيَةَ أَنْ يُفْرَضَ عَلَى أُمَّتِهِ رَحْمَةً مِنْهُ بِهِمْ كَمَا وَصَفَهُ الْمَوْلَى سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى فِي كِتَابِهِ حَيْثُ قَالَ ﴿بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ ﴾ لَكِنْ أَشَارَ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - إلَى فَضِيلَةِ هَذَا الشَّهْرِ الْعَظِيمِ بِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - لِلسَّائِلِ الَّذِي سَأَلَهُ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ فَقَالَ لَهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - ذَلِكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ فَتَشْرِيفُ هَذَا الْيَوْمِ مُتَضَمِّنٌ لِتَشْرِيفِ هَذَا الشَّهْرِ الَّذِي وُلِدَ فِيهِ. فَيَنْبَغِي أَنْ نَحْتَرِمَهُ حَقَّ الِاحْتِرَامِ وَنُفَضِّلَهُ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ الْأَشْهُرَ الْفَاضِلَةَ وَهَذَا مِنْهَا لِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ وَلَا فَخْرَ وَلِقَوْلِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ آدَم وَمَنْ دُونَهُ تَحْتَ لِوَائِي انْتَهَى.
📖 المدخل — ص ١٧٧

“বাদ্যযন্ত্র ও গান-বাজনার সঙ্গে সেই সম্মানিত মাসের মর্যাদা প্রদর্শনের কী সম্পর্ক থাকতে পারে-যে মাসে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সাইয়িদ ﷺ-কে দান করে অনুগ্রহ করেছেন?
বরং এই মহান নিয়ামতের জন্য মহান প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শুকরিয়াস্বরূপ এ মাসে ইবাদত ও কল্যাণমূলক কাজ আরও বৃদ্ধি করা উচিত।

যদিও নবী ﷺ অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসে অতিরিক্ত কোনো ইবাদত করেননি। আর এর কারণ ছিল কেবল তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর রহমত ও কোমলতা। কেননা, তিনি ﷺ কখনো কোনো আমল এ আশঙ্কায় ছেড়ে দিতেন যে, তা তাঁর উম্মতের ওপর ফরয করে দেওয়া হতে পারে-তাদের প্রতি দয়া করে। যেমন মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁকে বর্ণনা করে বলেছেন:
﴿بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ﴾ ‘তিনি মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।’
তবে নবী ﷺ এই মহান মাসের ফাদাইলের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। যখন এক ব্যক্তি তাঁকে সোমবার রোযা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন তিনি ﷺ তাকে বলেছিলেন:
ذَلِكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ ‘এটি সেই দিন, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি।’

সুতরাং এ দিনের সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে সেই মাসেরও সম্মান নিহিত রয়েছে, যে মাসে তিনি ﷺ জন্মগ্রহণ করেছেন। অতএব, আমাদের উচিত এ মাসকে যথাযথ সম্মান করা এবং আল্লাহ তাআলা যেভাবে মর্যাদাপূর্ণ মাসসমূহকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন, সেভাবে একেও মর্যাদা দেওয়া। আর এ মাসও সেসব মর্যাদাপূর্ণ মাসের অন্তর্ভুক্ত। কারণ নবী ﷺ বলেছেন:
أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ وَلَا فَخْرَ ‘আমি আদম-সন্তানের সাইয়িদ; এতে কোনো অহংকার নেই।’

এবং তিনি ﷺ বলেছেন: آدَمُ وَمَنْ دُونَهُ تَحْتَ لِوَائِي

‘আদম এবং তাঁর পরবর্তী সকলেই আমার পতাকার নিচে থাকবেন।’ সমাপ্ত।

وَفَضِيلَةُ الْأَزْمِنَةِ وَالْأَمْكِنَةِ بِمَا خَصَّهَا اللَّهُ تَعَالَى بِهِ مِنَ الْعِبَادَاتِ الَّتِي تُفْعَلُ فِيهَا لِمَا قَدْ عُلِمَ أَنَّ الْأَمْكِنَةَ وَالْأَزْمِنَةَ لَا تَتَشَرَّفُ لِذَاتِهَا وَإِنَّمَا يَحْصُلُ لَهَا التَّشْرِيفُ بِمَا خُصَّتْ بِهِ مِنَ الْمَعَانِي. فَانْظُرْ رَحِمَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكَ إلَى مَا خَصَّ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ هَذَا الشَّهْرَ الشَّرِيفَ وَيَوْمَ الِاثْنَيْنِ.
📖 المدخل — ص ١٧٧

সময় ও স্থানের ফাদাইল ও মর্যাদা মূলত আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে যেসব বিশেষ ইবাদত ও বৈশিষ্ট্য দ্বারা নির্দিষ্ট করেছেন, তার কারণেই হয়ে থাকে। কেননা, এ কথা সুবিদিত যে, স্থান ও সময় নিজ সত্তার কারণে সম্মানিত হয় না; বরং সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্যের কারণেই সেগুলো মর্যাদা লাভ করে।
অতএব, আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে রহম করুন-লক্ষ্য করুন, আল্লাহ তাআলা এই সম্মানিত মাস এবং সোমবারকে কী বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন।

أَلَا تَرَى أَنَّ صَوْمَ هَذَا الْيَوْمِ فِيهِ فَضْلٌ عَظِيمٌ لِأَنَّهُ - ﷺ - وُلِدَ فِيهِ. فَعَلَى هَذَا يَنْبَغِي إذَا دَخَلَ هَذَا الشَّهْرُ الْكَرِيمُ أَنْ يُكَرَّمَ وَيُعَظَّمَ وَيُحْتَرَمَ الِاحْتِرَامَ اللَّائِقَ بِهِ وَذَلِكَ بِالِاتِّبَاعِ لَهُ - ﷺ - فِي كَوْنِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - كَانَ يَخُصُّ الْأَوْقَاتَ الْفَاضِلَةَ بِزِيَادَةِ فِعْلِ الْبِرِّ فِيهَا وَكَثْرَةِ الْخَيْرَاتِ. أَلَا تَرَى إلَى قَوْلِ الْبُخَارِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى كَانَ النَّبِيُّ - ﷺ - أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ فَنَمْتَثِلُ تَعْظِيمَ الْأَوْقَاتِ الْفَاضِلَةِ بِمَا امْتَثَلَهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - عَلَى قَدْرِ اسْتِطَاعَتِنَا
📖 المدخل — ص ١٧٧

আপনি কি দেখেন না যে, সোমবার রোযা রাখার মধ্যে মহান ফাদাইল রয়েছে, কারণ এ দিনেই নবী ﷺ জন্মগ্রহণ করেছেন?

সুতরাং এর ভিত্তিতে যখন এই সম্মানিত মাস আগমন করে, তখন তাকে যথাযথভাবে মর্যাদা দেওয়া, সম্মান করা এবং তার উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
আর তা হবে নবী ﷺ-এর অনুসরণের মাধ্যমে। কারণ তিনি ﷺ মর্যাদাপূর্ণ সময়গুলোকে অধিক নেক আমল ও প্রচুর কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে বিশেষায়িত করতেন।

আপনি কি ইমাম বুখারী রহ.-এর বর্ণনা লক্ষ্য করেন না:

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ، وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ
📖 تاريخ دمشق — ص ٥٦٤

“নবী ﷺ ছিলেন কল্যাণের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল; আর রমযান মাসে তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন।”

অতএব, আমরা আমাদের সাধ্যানুযায়ী নবী ﷺ যেভাবে মর্যাদাপূর্ণ সময়সমূহকে সম্মান করেছেন, সেভাবেই সেগুলোর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা করব।

✍ أجاب: Muhammad Ainul Huda · ٠٦-١١-٢٠٢٦ · المذهب: الحنفي

💬 تعليق ٠

أسئلة وأجوبة لاحقة

❓ اسأل سؤالًا لاحقًا

إن بقي شيء غير واضح فاسأل هنا، وسيُنشر السؤال والجواب بعد رد المفتي.

✍ اطلب فتوى

التعليقات (٠)