السؤال
👤 السائل: আবিদ হুসাইন — চট্রগ্রাম, বাংলাদেশ
ইমামের পেছনে কিরাআতের বিধান কি?
👤 السائل: আবিদ হুসাইন — চট্রগ্রাম, বাংলাদেশ
ইমামের পেছনে কিরাআতের বিধান কি?
ইমামের পেছনে কিরাআতের বিধান
📌 ফিকহি মাসায়েলগুলোর মধ্যে একটি বিতর্কিত বিষয় হলো — ইমামের পেছনে কিরাআত পাঠ।
এটি এমন একটি বিষয়, যাতে বিশিষ্ট ইমামদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। প্রত্যেক ইমামের কাছে রয়েছে নিজস্ব দলিল, হয় কুরআনের আয়াত থেকে (যদি পাওয়া যায়), অথবা সুন্নাহ থেকে।
আমরা তাদের কারও ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করি না, এবং কারও প্রতি অন্যায় করতেও চাই না, কারণ তারা সকলেই শ্রদ্ধার যোগ্য।
বরং, আমরা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করি, যারা দ্বীনকে খেলা বানিয়ে ফেলেছে ধর্ম নিয়ে উপহাস করে, বিদ্বেষ ছড়ায়।
আমরা এখানে দলিল উপস্থাপন করবো ইমামুল আইম্মাহ (ইমামদের ইমাম) আবু হানিফা (رحمه الله)-এর মতের পক্ষে, কুরআন ও সুন্নাহ থেকে।
আমাদের দলীল কুরআনে করীম থেকেঃ
﴿وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾
📖 جامع البيان في تأويل القرآن — ص ٢٥٧٦
আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখো এবং নিশ্চুপ থাকো যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।
হাফিয ইবন তায়মিয়্যাহ বলেন:
أَجْمَعَ النَّاسُ عَلَى أَنَّهَا نَزَلَتْ فِي الصَّلَاةِ وَأَنَّ الْقِرَاءَةَ فِي الصَّلَاةِ مُرَادَةٌ مِنْ هَذَا النَّصِّ
📖 مجموع الفتاوى — ص ٢٩٤١
“উম্মাহ’র সর্বসম্মত (ইজমা) হয়েছে যে, এই আয়াত সালাত সম্পর্কে নাজিল হয়েছে, এবং এই নস (আয়াতে) যে ‘কিরাআত’ উল্লেখ রয়েছে তা দ্বারা সালাতের কিরাআতই বোঝানো হয়েছে।”
হাদীস থেকে আমাদের দলীলঃ
ইমাম বুখারী উবাদাহ ইবনে সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ "
📖 الدعاء للطبراني — ص ٦٠
যে, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পড়ল না তার সালাত হলো না।
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন,
لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الكِتَاب فَصَاعِدًا
📖 شرح زاد المستقنع - الشنقيطي - التفريغ — ص ١١٣١
"যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) এবং তদুর্ধ্ব (অর্থাৎ এরপর আরও কিরাআত) পাঠ করেনি — তার সালাত নেই।"
সুতরাং প্রমাণিত হল, ইমামের পিছনে শুধু ফাতেহা নয় বরং ফাতেহার পর আরো তিলাওয়াত করার বিধান নিয়ে ইখতেলাফ। যারা ইমামের পিছনে মুক্তাদীর ফাতেহা পড়াকে ওয়াজিব বলেন, তাদের উচিৎ বাকী অংশ পড়াকেও ওয়াজিব ফতোয়া দেয়া।
তিরমিযির এক সহীহ রেওয়ায়াতে এসেছে:
مَنْ صَلَّى رَكْعَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَمْ يُصَلِّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ وَرَاءَ الإِمَامِ
📖 الجامع لأحكام القرآن = تفسير القرطبي — ص ٦٦
"যে ব্যক্তি এমন একটি রাকআত আদায় করল, যাতে সে ‘উম্মুল কুরআন’ (সূরা ফাতিহা) পড়েনি সে আসলে সালাত আদায় করেনি,
অবশ্য সে যদি ইমামের পেছনে থাকে, তবে (তবে ব্যতিক্রম)।"
— এবং এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত আসছে। ।
আমি বলি:
সুতরাং একথা প্রমাণিত যে, সূরা ফাতিহা বরং কিরাআত পুরোপুরিই শুধুমাত্র ইমাম এবং একাকী সালাত আদায়কারীর জন্যই আবশ্যকীয়।
মুকতাদীর (ইমামের পেছনে সালাত আদায়কারীর) উপর কোনো কিরাআত আবশ্যক নয়।
ইমাম যখন কুরআন পাঠ করেন তোমরা তখন চুপ থাকোঃ
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا
ইমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা তখন চুপ থাকো।
“বাংলাদেশে সালাফি ঘরানার এক আলেম অস্বীকার করেছেন যে, ‘وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا’ (যখন সে [ইমাম] কিরাআত করে, তখন তোমরা চুপ থাকো) — এই বাক্যটি নবী ﷺ-এর কথা।”
তাহকীক দেখুন,
✅ ইমাম মুসলিমের তাহকীক তাঁর সহীহ গ্রন্থে:
حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ يَعْنِي "وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا هُوَ عِنْدِي صَحِيحٌ ". فَقِيْلَ لِمَ لَمْ تَضَعْهُ هَا هُنَا قَالَ لَيْسَ كُلُّ شَىْءٍ عِنْدِي صَحِيْحٌ وَضَعْتُهُ هَا هُنَا . إِنَّمَا وَضَعْتُ هَا هُنَا مَا أَجْمَعُوا عَلَيْهِ
📖 المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج — ص ٣٥٩
আবু হুরাইরা (رضي الله عنه)-এর হাদীস প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
“وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا (যখন ইমাম কিরাআত করে তখন চুপ থাকো) — এই হাদীসটি আমার নিকট সহীহ।”
তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: “তবে আপনি এটি এখানে (সহীহ মুসলিমে) উল্লেখ করেননি কেন?”
তিনি উত্তর দিলেন: “কারণ, আমি যা কিছু আমার নিকট সহীহ মনে করেছি — তার সবই এখানে রাখিনি। আমি এখানে কেবল সেই হাদীসগুলো সংকলন করেছি — যেগুলোর উপর ইজমা (সর্বসম্মত মত) হয়েছে।” (এখানে ইজমা বা ঐক্যমত বলতে ইমাম মুসলিমের ৪ জন উস্তাজের ঐক্যমত।)
📌 হাফিয ইবন তায়মিয়্যাহ’র তাহকীক:
فَإِنَّ هَذِهِ الزِّيَادَةَ صَحَّحَهَا مُسْلِمٌ وَقَبِلَهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَغَيْرُهُ وَضَعَّفَهَا الْبُخَارِيُّ وَهَذِهِ الزِّيَادَةُ مُطَابِقَةٌ لِلْقُرْآنِ فَلَوْ لَم يَرِدْ بِهَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ لَوَجَبَ الْعَمَلُ بِالْقُرْآنِ فَإِنَّ فِي قَوْلِهِ: ﴿وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾ أَجْمَعَ النَّاسُ عَلَى أَنَّهَا نَزَلَتْ فِي الصَّلَاةِ وَأَنَّ الْقِرَاءَةَ فِي الصَّلَاةِ مُرَادَةٌ مِنْ هَذَا النَّصِّ
📖 مجموع الفتاوى — ص ٢٩٤١
“এই অতিরিক্ত বাক্যাংশ (وإذا قرأ فأنصتوا) — ইমাম মুসলিম সহীহ বলেছেন, এবং ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল ও অন্যান্য আলেমরাও তা গ্রহণ করেছেন। তবে ইমাম বুখারী একে দুর্বল বলেছেন।
এই অতিরিক্ত বাক্যাংশটি কুরআনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুতরাং যদি এ বিষয়ে সহীহ হাদীস না-ও থাকত—তবুও কুরআনের এই আয়াত অনুসারে তা অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক হতো।
আল্লাহ তাআলার বাণীতে এসেছে:
﴿وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾
📖 جامع البيان في تأويل القرآن — ص ٢٥٧٦
“যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত করা হয়।”
(সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ২০৪)
মানুষ এ বিষয়ে একমত যে, এই আয়াত সালাতের সম্পর্কেই নাজিল হয়েছে,
এবং এই নাস বা আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে সালাতের কিরাআত।”
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন,
سُئِلَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ الإِمَامِ ، فَقَالَ: لاَ قِرَاءَةَ مَعَ الإِمَامِ فِي شَىْءٍ
📖 كتاب القراءة خلف الإمام — ص ٩١
আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার যায়দ ইবনু সাবিতকে সালাতে ইমামের পিছনে কিরাআত তিলাওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন জবাবে যায়দ ইবনু সাবিত বলেছিলেনঃ সালাতে ইমামের পিছনে কিরাআতের প্রয়োজন নেই।
ইবনু মাজাহ সহীহ সনদে আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
قَالَ ﷺ ـ " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا
📖 شرح بلوغ المرام — ص ٥٠٤
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনুসরণ করার জন্যই তো ইমাম নিযুক্ত করা হয়। সুতরাং ইমাম যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলো। যখন তিনি কিরাআত পড়েন তখন তোমরা নীরব থাকো।
ইবনু মাজাহ সহীহ সনদে আবূ মূসা আল-আশআরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " إِذَا قَرَأَ الإِمَامُ فَأَنْصِتُوا
📖 نصب الراية لأحاديث الهداية مع حاشيته بغية الألمعي في تخريج الزيلعي — ص ٢٧٤
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ইমামের কিরাআাত পাঠের সময় তোমরা নীরব থাকবে।
ইবনু মাজাহ হাসান সনদে জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَإِنَّ قِرَاءَةَ الإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ "
📖 شرح زاد المستقنع - الشنقيطي - التفريغ — ص ٩٢٣
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাদের ইমাম আছে ইমামের কিরাআতই তার কিরাআত।
শায়খ আলবানী বলেন,
এ বিষয়ে (ইমামের পেছনে কিরাআত না করার বিষয়ে) একদল সাহাবি থেকে রেওয়ায়ত এসেছে, তাদের মধ্যে আছেন:
• জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী,
• আবদুল্লাহ ইবন উমর,
• আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ,
• আবু হুরায়রা,
• ইবন আব্বাস (رضي الله عنهم أجمعين)।
এ বিষয়ে আরও রেওয়ায়ত আছে:
• আবু দারদা,
• আলী ইবন আবি তালিব,
• এবং আল-শাʿবী (তাবেয়ি), তবে এগুলো মুরসাল রেওয়ায়াত হিসেবে এসেছে।
📌 ইমাম আল-বূসায়রীর (البوصيري) তাহকীক:
তিনি ইমামের পেছনে কিরাআত না করার বিষয়ক হাদীসের তিনটি সনদ উল্লেখ করার পর বলেন:
إِسْنَادُ حَدِيثِ جَابِرٍ الْأَوَّلِ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ، وَالثَّانِي عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ
📖 إتحاف الخيرة المهرة بزوائد المسانيد العشرة — ص ٣٥٠
জাবির (رضي الله عنه)-এর প্রথম সনদটি সহীহ এবং বুখারি-মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয়টি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।”
📚 এই হাদীসের বিভিন্ন সনদ:
1. মুহাম্মাদ বলেন:
“আমাদেরকে হাদীস বলেছিলেন ইমাম আবু হানিফা,
তিনি বলেন: হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাসান মূসা ইবনু আবি আয়েশাহ, তিনি আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ ইবনুল হাদ থেকে, তিনি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন:
مَنْ صَلَّى خَلْفَ الإِمَامِ فإنَّ قِرَاءَةَ الإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ
📖 مسند الإمام الأعظم أبي حنيفة النعمان بن ثابت الكوفي رحمه الله تعالى — ص ٦٠
“যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে সালাত আদায় করে, ইমামের কিরাআতই তার কিরাআত।”
আমি বলি:
এর সনদ সহীহ — কারণ:
• আবু হানিফা: ইমামুল আইম্মা, তাকে ইয়াহইয়া ইবনু মাʿঈন ‘বিশ্বস্ত’ বলেছেন।
• মূসা ইবনু আবি আয়েশাহ ও আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ — উভয়েই বুখারির রাবী।
• জাবির — সাহাবি।
2. ইবনু আবি শাইবা রেওয়ায়াত করেন:
“আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মালিক ইবন ইসমাঈল, তিনি হাসান ইবন সালেহ থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে,
তিনি জাবির থেকে, রাসূল ﷺ বলেছেন:
كَلُّ مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَقِرَاءَتُهُ لَهُ قِرَاءَةٌ
📖 شرح سنن أبي داود — ص ٦٧١
“যার ইমাম আছে, ইমামের কিরাআতই তার কিরাআত।”
আমি বলি: ইবনুত তুরকুমানী বলেন: “এই সনদ সহীহ।”
3. আহমদ ইবনু মানিʿ তার মুসনাদে রেওয়ায়াত করেন:
“আমাদের খবর দেন ইসহাক আল-আযরাক, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ও শরীক, তারা মূসা ইবন আবি আয়েশাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ থেকে, তিনি জাবির থেকে — এবং এটি রাসূল ﷺ পর্যন্ত মারফূ‘ হাদীস।”
“যে ব্যক্তি সালাতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পড়ল না তার সালাত হলো না” হাদীসের ব্যাখ্যাঃ
সুনান তিরমিযীতে আছে,
وَأَمَّا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فَقَالَ مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ ﷺ " لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ " . إِذَا كَانَ وَحْدَهُ . وَاحْتَجَّ بِحَدِيثِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ حَيْثُ قَالَ مَنْ صَلَّى رَكْعَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَمْ يُصَلِّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ وَرَاءَ الإِمَامِ . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فَهَذَا رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ تَأَوَّلَ قَوْلَ النَّبِيِّ ﷺ " لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ " . أَنَّ هَذَا إِذَا كَانَ وَحْدَهُ
📖 إمام الكلام في القراءة خلف الإمام ¶ المؤلف: عبد الحي اللكنوي (ت1304ه) ¶ اعتنى به: الدكتور صلاح أبو الحاج ¶ الناشر: مركز العلماء العالمي للدراسات وتقنية المعلومات ¶ [الكتاب مرقم ترقيما آليا للموسوعة غير مطابق للمخطوط] ¶ ملاحظة: [هذا الكتاب من كتب المس — ص ٦
আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেন, “যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করেনি তার নামায হয়নি” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ বাণী একাকি নামায আদায়কারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ সে যদি একাকি নামায আদায় করে এবং সূরা ফাতিহা পাঠ না করে তবে তার নামায হবে না। তিনি তার এ দাবির সমর্থনে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীস পেশ করেছেন। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি নামায আদায় করল এবং তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, সে যেন নামাযই আদায় করল না, অবশ্য ইমামের পিছনে হলে অন্য কথা।”
ইমাম আহমাদ বলেন, জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী। তিনি তার হাদীস “যে সূরা ফাতিহা পাঠ করেনি তার নামায হয়নি" -এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ হুকুম একাকী নামায পাঠকারীর বেলায় প্রযোজ্য।
(তিরমিযী বলেন) এতদসত্ত্বেও ইমাম আহমাদ (রহঃ) ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পাঠ করার নীতি অনুসরণ করেছেন এবং (বলেছেন) লোকেরা যেন ইমামের সাথে নামায আদায় করলেও সূরা ফাতিহা পাঠ করা ছেড়ে না দেয়।
📌 আমি বলি:
“(হাদীস) ‘إلَّا أَنْ يَكُونَ وَرَاءَ الإِمَامِ’ (যদি ইমামের পেছনে হয়, তাহলে ব্যতিক্রম) — এই বাক্যটি জাবির (رضي الله عنه) থেকে মাওকূফ (সাহাবির বক্তব্য) এবং মারফূ‘ (নবী ﷺ পর্যন্ত বর্ণিত) — উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আর আমি মনে করি, মাওকূফ ও মারফূ‘ — উভয় রেওয়ায়াতই সহীহ।
এছাড়া ইবন আব্বাস (رضي الله عنه) থেকেও এটি মারফূ‘ রূপে বর্ণিত হয়েছে।”
🟢 মাওকূফ রেওয়ায়াত (জাবির থেকে সাহাবির বক্তব্য):
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ বলেন:
مَنْ صَلَّى رَكْعَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَمْ يُصَلِّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ وَرَاءَ الإِمَامِ .
📖 الجامع لأحكام القرآن = تفسير القرطبي — ص ٦٦
“যে ব্যক্তি এমন একটি রাকআত পড়েছে যাতে সে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করেনি, তার সালাত হয়নি তবে যদি সে ইমামের পেছনে হয়, তাহলে (সালাত শুদ্ধ)।”
📚 ইমাম তিরমিজি বলেন: "هذا حديث حسن صحيح"
👉 অর্থাৎ: “এই হাদীস হাসান সহীহ।”
🟢 মারফূ‘ রেওয়ায়াত (নবী ﷺ-এর বক্তব্য):
📚 তাহাওয়ী বর্ণনা করেন:
বাহর ইবনু নাসর → ইয়াহইয়া ইবনু সালাম → মালিক → ওয়াহব ইবন কাইসান → জাবির → নবী ﷺ:
مَنْ صَلَّى رَكْعَةً , فَلَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ , فَلَمْ يُصَلِّ إِلَّا وَرَاءَ الْإِمَامِ
📖 الصحيفة في مناقب الإمام أبي حنيفة الجزء الأول — ص ٢٧٤
"যে ব্যক্তি একটি রাকআত পড়ল এবং তাতে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করেনি — তার সালাত হয়নি, তবে যদি সে ইমামের পেছনে হয়, তাহলে (হয়েছে)।”
ইবনু উমার বলেন, “ইমামের কিরাআত তোমার জন্য যথেষ্টঃ
📖 তাহাওয়ী বর্ণনা করেছেন:
আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনু মারযূক, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ওহব, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন শু‘বাহ, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু দিনার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (رضي الله عنهما) থেকে, তিনি বলেন:
يَكْفِيكَ قِرَاءَةُ الْإِمَامِ
“ইমামের কিরাআত তোমার জন্য যথেষ্ট।”
📖 রেওয়ায়াত:
ইমাম তাহাবী বলেন, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন দাউদ, তিনি বলেন: আমাদেরকে হাদীস বলেছেন ইউসুফ ইবনু আদি, তিনি বলেন: আমাদেরকে হাদীস বলেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনু আমর, তিনি আয়ূব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে,
তিনি আনাস ইবনু মালিক (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন:
صَلَّى رَسُولُ اللهِ ﷺ , ثُمَّ أَقْبَلَ بِوَجْهِهِ فَقَالَ: أَتَقْرَءُونَ وَالْإِمَامُ يَقْرَأُ؟ فَسَكَتُوا فَسَأَلَهُمْ ثَلَاثًا فَقَالُوا إِنَّا لَنَفْعَلَ , قَالَ: فَلَا تَفْعَلُوا
📖 نخب الأفكار في تنقيح مباني الأخبار في شرح معاني الآثار — ص ٨٠٣
“রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাত আদায় করলেন, তারপর কিবলা থেকে মুখ ফিরিয়ে (মুসল্লিদের দিকে) তাকিয়ে বললেন: ‘তোমরা কি কিরাআত করছো, অথচ ইমামও কিরাআত করছেন?’ তারা চুপ থাকলো। তিনি তিনবার জিজ্ঞাসা করলেন, তারা বললো: ‘হ্যাঁ, আমরা তাই করি।’ তখন তিনি বললেন: ‘তোমরা এমন করো না।’
📖 ইমাম আবু জাফর (الطحاوي رحمه الله) বলেন:
“আমরা যে হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি, সেগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়,
নবী ﷺ-এর থেকে যা উবাদাহ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেছেন, তার সঙ্গে ভিন্নতা রয়েছে। আর যখন এসব রেওয়ায়াতে মতভেদ দেখা দিল — তখন আমরা ‘তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’ (نَظَر) এর মাধ্যমে এর হুকুম নির্ধারণ করতে চাইলাম।
আমরা দেখলাম, সব আলেমই একমত — যদি কেউ ইমামের কাছে আসে এবং ইমাম তখন রুকুতে থাকে, সে তখন তাকবীর বলে রুকুতে চলে যায় — এবং সেই রাকাআতটি তার জন্য গণ্য হয়,
যদিও সে ঐ রাকাআতে কিছুই কিরাআত করেনি।
📌 সুতরাং যখন এমন করায় সালাত শুদ্ধ হলো,
👉 হয়তো এটা ‘ضرورت’ (অবস্থার চাপে) কারণে বৈধ হলো,
👉 অথবা, এটা এই কারণে বৈধ হয়েছে যে, ইমামের পেছনে কিরাআত ফরজ নয়।
আমরা পরখ করে দেখলাম — আলেমরা একমত যে, যে ব্যক্তি রুকুতে ইমামের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়, কিন্তু তাকবীর না বলে রুকুতে চলে যায় —তার সেই রাকাআত গণ্য হবে না, যদিও তার অজুহাত থাকে — ‘রাকাআত মিস হয়ে যাবে’ এই ভয়।
অতএব, তাকবীর এবং দাঁড়িয়ে যাওয়াটা (قيام) সালাতের ফরজ অংশ, যা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না — যে অবস্থাই হোক না কেন (দরকার থাকুক বা না থাকুক)।
📌 কিন্তু কিরাআতের বিষয়টি এই রকম নয় — এটা তো রুকু-পূর্ব সময়ে প্রয়োজনে বাদ যায়।
👉 তাই, এটা ফরজ নয় বলে প্রমাণিত হয়। এটি ফরজের গোত্রভুক্ত নয় বলে বোঝা যায়, এমনকি সাধারণ অবস্থাতেও।
✅ এবং এটাই হলো ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (رحمهم الله)-এর মতামত।
📌 আমি বলি:
“তাহাওয়ী, একাধিক হাদীস ও আছার (সাহাবিদের বক্তব্য) উল্লেখ করার পর বলেন:
فَهَؤُلَاءِ جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ ﷺ , قَدْ أَجْمَعُوا عَلَى تَرْكِ الْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ.
📖 شرح معاني الآثار — ص ١٥١
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবিদের এই জামাত, তারা সবাই একমত হয়েছেন যে—
👉 ইমামের পেছনে কিরাআত করা যাবে না (এবং তারা তা ত্যাগ করেছেন)।
আর তারা যা বলেছেন, তার সঙ্গে একমত হয়েছে সেসব হাদীসও যেগুলোর আমরা আগেই উল্লেখ করেছি। এবং এই বিষয়ের পক্ষে আমাদের উপস্থাপিত যুক্তিগুলো (نَظَر) সাক্ষ্য দিয়েছে। তাই, তারা যা বলেছেন — সেটাই অধিক গ্রহণযোগ্য, সে তুলনায় যেসব মত তার বিরোধিতা করেছে।”
📝 আমি বলি:
“এই বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ, তবে আমরা এই সামান্য অংশেই সন্তুষ্ট হচ্ছি। এতে কোনো জাল বা দুর্বল হাদীস উল্লেখ হয়নি।
আর ইমাম আবু হানিফা (رحمه الله)-এর মাযহাব— কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে প্রমাণিত। সুতরাং, মুকতাদীর (যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে সালাত আদায় করছে) জন্য ইমামের পেছনে কিরাআত করা আবশ্যক নয়।
শুরুতে হোক বা শেষে, সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর জন্য।
-
দলীলসহ বিস্তারিত জানতে সালাতুল হাবীব কিতাব দেখা যেতে পারে।
✍ أجاب: Muhammad Ainul Huda · ٠٦-١١-٢٠٢٦ · المذهب: الحنفي