An open Islamic library 📲 Install app
KamelaIslamic Digital Library

Fatwa No. 9

বর্তমানে আমাদের দেশের মোবাইলে যে বিবাহ হয় সে বিষয়ে জানতে চাই…

📅 Date: 06-11-2026 🏷 Creed ⚖ Madhhab: Hanafi ✍ Mufti: Muhammad Ainul Huda 👁 Read 40 times

Question

👤 Asked by: মোহাম্মদ আবু তাহের — কুমিল্লা, বাংলাদেশ

বর্তমানে আমাদের দেশের মোবাইলে যে বিবাহ হয় সে বিষয়ে জানতে চাই

💬 Comment 0

Answer

আপনি সম্ভবত বাংলাদেশে প্রচলিত মোবাইল বা ভিডিও কলে বিয়ে সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। হানাফী মাযহাবের বহু নির্ভরযোগ্য ফতোয়া অনুযায়ী, সরাসরি ফোনে ইজাব-কবুল করা এবং ফোনে উকিল নিযুক্ত করে বিয়ে করা—দুটির হুকুম আলাদা।

১. বর-কনে দুই জায়গায় থেকে ফোনে সরাসরি ইজাব-কবুল করলে

যেমন—বর বিদেশে, কনে বাংলাদেশে; কাজি ফোনে বরকে জিজ্ঞেস করলেন এবং বর বললেন, ‘কবুল করলাম।’ উল্লেখিত হানাফী ফতোয়া অনুযায়ী এভাবে নিকাহ শুদ্ধ হয় না। কারণ, নিকাহের ইজাব-কবুল ও সাক্ষীদের একই মজলিসে থাকার শর্ত পূরণ হয় না। শুধু লাউডস্পিকার বা ভিডিও চালু থাকলেই এ শর্ত পূরণ হয় না। আধুনিক এ পদ্ধতি নিয়ে আলেমদের ঐক্যমত হয়নি।

যে কারণে শুদ্ধ হয় না তার একটি কারণ হচ্ছে, সন্দেহের অবকাশ থেকে যায়। যদি সন্দেহের অবকাশ মোটেই না থাকে, তাহলে কারো কারো মতে আকদ শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে নিকাহ রেজিস্টার এই নিকাহ রেজিস্ট্রি করলে দেশীয় আইনে তা বৈধ হবে কি না আমার জানা নেই। আমার পরামর্শ হচ্ছে যখন বর কনে দেখা হবে তখন আকদ রিনিউ করে নিতে হবে সন্দেহমুক্ত হওয়ার জন্য। ওয়াল্লাহু আলামু।

২. ফোনে উকিল নিযুক্ত করে বিয়ে করলে

এটি জায়েয পদ্ধতি। যেমন—বিদেশে থাকা বর দেশে তাঁর বাবা, ভাই বা অন্য কাউকে স্পষ্টভাবে নিজের নিকাহের উকিল বা প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন। এরপর সেই প্রতিনিধি কনে বা কনের অনুমোদিত প্রতিনিধির সঙ্গে একই মজলিসে শরিয়তসম্মত সাক্ষীদের সামনে ইজাব-কবুল করলেন। অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে এ নিকাহ সহীহ হবে। এখানে ‘উকিল’ বলতে আইনজীবী বোঝানো হচ্ছে না।

হানাফী মতে মুসলিম বর-কনের নিকাহে সাক্ষী হিসেবে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী থাকতে হবে; তাঁরা একই মজলিসে ইজাব ও কবুল উভয়টি শুনবেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে উম্মে হাবীবাহ বিনতে আবু সুফিয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বিবাহ প্রতিনিধি বা উকিলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল। তিনি তখন হাবশায় ছিলেন, আর রাসূলুল্লাহ ﷺ মদীনায়।

উম্মে হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার পূর্ববর্তী স্বামী ছিলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহশ। হাবশায় তাঁর মৃত্যুর পর নাজাশী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে উম্মে হাবীবাহর বিবাহ সম্পন্ন করেন এবং নবীজির পক্ষ থেকে মোহর প্রদান করেন। বিষয়টি সুনান আবু দাউদের ২১০৭ নম্বর হাদীসে এসেছে।

عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَحْشٍ فَمَاتَ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ فَزَوَّجَهَا النَّجَاشِيُّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَمْهَرَهَا عنه أَرْبَعَةَ آلاَفٍ وَبَعَثَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ شُرَحْبِيلَ ابْنِ حَسَنَةَ ‏ .‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَسَنَةُ هِيَ أُمُّهُ ‏.‏
📖 جامع الأصول في أحاديث الرسول — p. 2578

সীরাতের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী ঘটনাটি এভাবে ঘটেছিল:

১. রাসূলুল্লাহ ﷺ আমর ইবনে উমাইয়্যা আদ্ব-দ্বামরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে নাজাশীর কাছে বিবাহের প্রস্তাব ও নির্দেশ দিয়ে পাঠান।

২. উম্মে হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনিল আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে নিজের বিবাহের উকিল নিযুক্ত করেন।

৩. হাবশায় উপস্থিত মুসলমানদের সমাবেশে বিবাহ সম্পন্ন হয়। নাজাশী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিনিধি হিসেবে এবং খালিদ ইবনে সাঈদ কনের প্রতিনিধি হিসেবে আকদ সম্পন্ন করেন। ইবনে কাসীর স্পষ্টভাবে লিখেছেন:

وَكَانَ وَكِيلَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي قَبُولِ الْعَقْدِ أَصْحَمَةُ النَّجَاشِيُّ مَلِكُ الْحَبَشَةِ
📖 البداية والنهاية — p. 838

“আকদ কবুল করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উকিল ছিলেন হাবশার বাদশাহ আসহামা নাজাশী।”

—ইবনে কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, উম্মে হাবীবাহর বিবাহ-সংক্রান্ত অধ্যায়।

নাজাশী নবীজির পক্ষ থেকে চার হাজার দিরহাম মোহর দেন। পরে উম্মে হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে শুরাহবীল ইবনে হাসানাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে পাঠান।

আগে হয়ে যাওয়া কোনো বিয়ের বিষয়ে হলে পদ্ধতির বিস্তারিত না জেনে সেটিকে অশুদ্ধ বলা উচিত নয়। আপনি যে বিয়ের কথা বলছেন, সেখানে কি বর নিজে ফোনে ‘কবুল’ বলেছেন, নাকি দেশে তাঁর নিযুক্ত কোনো প্রতিনিধি তাঁর পক্ষ থেকে কবুল করেছেন?

✍ Answered by: Muhammad Ainul Huda · 06-11-2026 · Madhhab: Hanafi

💬 Comment 0

Follow-up questions & answers (1)

Q 1 মুজিবুর রহমান
আসসালামু আলাইকুম, আশাকরি ভালো আছেন।
আমার প্রশ্ন হলো মসজিদের ফ্লোরে নতুন টাইলস লাগানোর কারণে পুরনো টাইলস খুলে ফেলা হচ্ছে এগুলো মসজিদের কোন কাজে আসবেনা।
এগুলো বিক্রি করা কি জায়েজ। ক্রেতা এই টাইলস কোন কোন জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেনা দয়াকরে জানাবেন।
A ✍ Muhammad Ainul Huda

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী মসজিদের পুরাতন টিন, কাঠ, দরজা, জানালা ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী শর্তসাপেক্ষে বিক্রি করা জায়েয। তবে মসজিদের প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য থাকলে বিনা প্রয়োজনে বিক্রি করা জায়েয নয়।
হানাফী ফিকহের দলিল

وَإِنْ تَعَذَّرَ إِعَادَةُ عَيْنِهِ إِلَى مَوْضِعِهِ بِيْعَ وَصُرِفَ ثَمَنُهُ إِلَى الْمَرَمَّةِ، صَرْفًا لِلْبَدَلِ إِلَى مَصْرِفِ الْمُبْدَلِ.

অনুবাদ: ওয়াকফকৃত স্থাপনার ভাঙা সামগ্রী পুনরায় যথাস্থানে ব্যবহার করা সম্ভব না হলে তা বিক্রি করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সেই স্থাপনার মেরামতের কাজে ব্যয় করতে হবে। কেননা মূল বস্তুর পরিবর্তে প্রাপ্ত অর্থকে মূল বস্তুর নির্ধারিত খাতেই ব্যয় করতে হয়।
সূত্র: আল-ইনায়া শারহ আল-হিদায়া, কিতাবুল ওয়াকফ ৬/২২৪।

❓ Ask a follow-up question

If something is still unclear, ask here. Your question and the answer will appear here once the mufti replies.

✍ Ask your own question

Comments (0)