উন্মুক্ত ইসলামি গ্রন্থাগার 📲 অ্যাপ ইনস্টল করুন
কামেলাইসলামি ডিজিটাল লাইব্রেরি
কে আমাকে সৃষ্টি করেছেন? এবং কেন করেছেন ?প্রতিটি বস্তুই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে।

কে আমাকে সৃষ্টি করেছেন? এবং কেন করেছেন ?প্রতিটি বস্তুই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে।

ভাষা
বাংলা
পৃষ্ঠা
৩৭
📖 পিডিএফ পড়ুন ⬇ ডাউনলোড
👁 পড়া হয়েছে ০ বার

এই বইয়ের লেখা এখনও যুক্ত হয়নি; পিডিএফ আকারে পড়ুন।

<h1 style="direction: ltr;">কে আমাকে সৃষ্টি করেছেন? এবং কেন করেছেন ?প্রতিটি বস্তুই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে।</h1><p style="direction: ltr;">আসমানসমূহ, যমীন এবং তার মধ্যবর্তী মহান সৃষ্টিসমূহ যা আয়ত্তে আনা সম্ভব নয় তা কে সৃষ্টি করেছেন?</p><p style="direction: ltr;">আসমান ও যমীনে এ সূক্ষ্ম-সুদৃঢ় ব্যবস্থা কে তৈরী করেছেন?</p><p style="direction: ltr;">কে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বিবেক প্রদান করেছেন এবং তাকে জ্ঞান অর্জন ও সত্য চিনতে সক্ষম করেছেন?</p><p style="direction: ltr;">আপনার শরীরের অঙ্গে এবং অন্যান্য জীবন্ত প্রাণীর দেহে এই সূক্ষ্ম ব্যবস্থাটিকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? এবং কে তাদের সৃষ্টি করেছেন?</p><p style="direction: ltr;">কিভাবে এই সুবিশাল মহাবিশ্ব তাকে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণকারী নিয়মসহ স্থির রয়েছে ও পরিচালিত হচ্ছে।</p><p style="direction: ltr;">কে সেই সত্তা, যিনি এই পৃথিবী (জীবন-মৃত্যু, জীবিতদের বংশ পরম্পরা, দিন-রাত্রি এবং ঋতুসমূহের পরবর্তন ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন?</p><p style="direction: ltr;">এই বিশ্ব কি নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছে? নাকি এটি কোন অস্তিত্বহীন বস্তু থেকে এসেছে? নাকি এটি কাকতালীয়ভাবে পাওয়া গেছে?</p><p style="direction: ltr;">কেন একজন মানুষ এমন জিনিসের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে যা সে দেখে না? যেমন উপলব্ধি, বিবেক, আত্মা, আবেগ এবং ভালোবাসা? কারণ তিনি এর প্রভাব দেখতে পান তাই না? তাহলে কীভাবে একজন মানুষ এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বীকার করবে, অথচ সে তাঁর সৃষ্টির নির্দশন, তাঁর কর্মের প্রভাব এবং তাঁর রহমত প্রত্যক্ষ করে?!</p><p style="direction: ltr;">কেউ বিশ্বাস করবে না যদি বলা হয় এই বাড়ীটি কারো বানানো ছাড়াই এমনিতেই অস্তিত্বে এসেছে অথবা যদি তাকে বলা হয় এই বাড়িটিকে অনিস্তত্বই অস্তিত্ব দান করেছে! তাহলে কিছু মানুষ কিভাবে তাকে বিশ্বাস করতে পারে, যে বলে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টিকর্তা ব্যতীতই অস্তিত্বে এসেছে? একজন বিবেকবান মানুষ কিভাবে এ কথা গ্রহণ করতে পারে যে, মহাবিশ্বের এই সূক্ষ্ম গাঁথুনি হটাৎ অস্তিত্ব লাভ করেছে?</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:(أَمۡ خُلِقُواْ مِنۡ غَيۡرِ شَيۡءٍ أَمۡ هُمُ ٱلۡخَٰلِقُونَ، أَمۡ خَلَقُواْ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۚ بَل لَّا يُوقِنُونَ). أَمۡ خُلِقُواْ مِنۡ غَيۡرِ شَيۡءٍ أَمۡ هُمُ ٱلۡخَٰلِقُونَ، أَمۡ خَلَقُواْ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۚ بَل لَّا يُوقِنُونَ : "তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।"[৫২: ৩৫-৩৬]।</p><h2 style="direction: ltr;">আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা</h2><p style="direction: ltr;">এখানে অবশ্যই একজন প্রভু (রব) এবং সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন, যার অনেক নাম এবং মহান গুণাবলী রয়েছে যা তাঁর পরিপূর্ণতাকে নির্দেশ করে। যেমন তাঁর কতক নাম: আল-খালিক (সৃষ্টিকর্তা), আর-রহীম (দয়াময়), আর-রযযাক (রিযিকদাতা), আল-কারীম (সম্মানিত)। রব সুবহানাহু ওয়াতালার নামসমূহের ভেতর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম হলো "আল্লাহ" নামটি। আর তার অর্থ হলো: তিনি একাই ইবাদতের উপযুক্ত তার কোনো শরীক নেই।</p><p style="direction: ltr;">আল-কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন ([১]):﴿قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ : "বলুন, 'তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়,"* ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ : * 'আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী।*لَمۡ یَلِدۡ وَلَمۡ یُولَدۡ لَمۡ یَلِدۡ وَلَمۡ یُولَدۡ : * তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি।*وَلَمۡ یَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدُۢ﴾ وَلَمۡ یَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدُۢ : * আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই।"[১১২: ১-৪]।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:﴿اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَلا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ﴾ اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَلا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। তাঁর জন্যই আসমানসমূহে যা রয়েছে তা এবং যমীনে যা আছে তা। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও জমিন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দু'টোর সংরক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ, মহান।"[২ : ২৫৫]।</p><h2 style="direction: ltr;">সুমহান রব আল্লাহ তা'আলার সিফাত (গুণাবলী)</h2><p style="direction: ltr;">আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বশীভূত করেছেন আর তাকে তাঁর সৃষ্টির জন্য উপযোগী করেছেন। তিনিই আকাশমন্ডলী এবং তার মধ্যকার বৃহদাকার মাখলূকসমূহ সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি সূর্য, চন্দ্র এবং রাতের জন্য এই সুনিপুণ ব্যবস্থা তৈরী করেছেন যা তাঁর মহিমা ও শক্তিকে নির্দেশ করে।</p><p style="direction: ltr;">তিনিই হচ্ছেন সেই সত্তা, যিনি বাতাসকে আমাদের বশীভূত করেছেন যা ছাড়া আমাদের জীবন অসম্ভব। তিনিই আমাদের উপরে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং আমাদের জন্য সাগর ও নদীকে বশীভূত করেছেন। তিনিই আমাদের কোনো শক্তি ছাড়াই আমাদের খাদ্যদান করেছেন যখন আমরা আমাদের মায়ের পেটে ভ্রুণ হিসাবে ছিলাম। তিনিই আমাদের শিরায় রক্ত সঞ্চালন করেন এবং তিনিই আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হৃদয়কে বিরামহীনভাবে স্পন্দিত করেছেন।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:﴿وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾ وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ : "আর আল্লাহ্ তোমাদেরকে নির্গত করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না এবং তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয়, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।"(১৬: ৭৮)।</p><h2 style="direction: ltr;">মা'বূদ (ইবাদাতের হকদার) রবকে অবশ্যই পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত হওয়া চাই</h2><p style="direction: ltr;">আমাদের রব (আল্লাহ) আমাদেরকে বিবেক দিয়েছেন যা তাঁর মহত্তকে অনুধাবন করে এবং আমাদের মধ্যে এমন স্বভাব (ফিতরাত) গেঁথে দিয়েছেন, যা তাঁর পূর্ণতা এবং কোনো ত্রুটি দ্বারা বিশেষিত হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় প্রমাণ করে।</p><p style="direction: ltr;">ইবাদাত একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্যই হতে হবে; কারণ তিনিই পরিপূর্ণ এবং ইবাদাতের একমাত্র যোগ্য এবং তাঁকে ব্যতীত যা কিছুর উপাসনা করা হয় তা বাতিল, অসম্পূর্ণ এবং মৃত্যু ও ধ্বংসের মুখোমুখী।</p><p style="direction: ltr;">মা'বূদ কোন মানুষ, মূর্তি, গাছ অথবা প্রাণী হতে পারে না!</p><p style="direction: ltr;">একজন পরিপূর্ণ সত্তা ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত (উপাসনা) করা কোনো বিবেকবান ব্যক্তির জন্য শোভনীয় নয়, তাহলে তার চেয়েও নিকৃষ্ট সৃষ্টির ইবাদাত (উপাসনা) কীভাবে করা যায়?</p><p style="direction: ltr;">রবের জন্য সম্ভব নয় যে, তিনি কোন নারীর গর্ভে ভ্রূণ হিসেবে থাকবেন এবং বাচ্চারা যেভাবে জন্মগ্রহণ করে, সেভাবে তিনি জন্ম গ্রহণ করবেন!</p><p style="direction: ltr;">রব হচ্ছেন তিনি, যিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টিজগত তাঁর কবজায় এবং তাঁর কর্তৃত্বাধীন। কোনো মানুষের পক্ষে তাঁর ক্ষতি করা সম্ভব হবে না এবং কারো পক্ষে তাঁকে শূলে চড়ানো, যন্ত্রনা দেওয়া ও তাঁকে অপমান করা সম্ভব হবে না!</p><p style="direction: ltr;">রব মৃত্যুবরণ করবেন এটা সম্ভব নয়!</p><p style="direction: ltr;">রব যিনি ভুলে যান না, ঘুমান না এবং খাবারও খান না। তিনি মহান তাঁর স্ত্রী বা সন্তান থাকতে পারে না। সুতরাং সৃষ্টিকর্তার মহত্ত্বের অসংখ্য গুণাবলী রয়েছে এবং যাকে কখনই মুখাপেক্ষী বা ত্রুটি দ্বারা গুণান্বিত করা যায় না। এবং নবীদের সাথে সম্পৃক্ত সমস্ত নস যেখানে সৃষ্টিকর্তার মহত্ত্বের বিরোধিতা রয়েছে সেগুলো বিকৃত। সেগুলি ঐ বিশুদ্ধ অহীর অন্তর্ভুক্ত নয় যা মূসা, ঈসা এবং অন্যান্য নবীগণ আলাইহিমুস সালাম নিয়ে এসেছেন।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ (73) يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ: "হে মানুষ! একটি উপমা দেয়া হচ্ছে, মনোযোগের সাথে তা শোনঃ তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা তো কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, এ উদ্দেশ্যে তারা সবাই একত্র হলেও। এবং মাছি যদি কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের কাছ থেকে, এটাও তারা তার কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী ও অন্বেষণকৃত কতই না দুর্বল; (৭৩)مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ (74) مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ : তারা আল্লাহ্ কে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি যেমন মর্যাদা দেয়া উচিত ছিল, নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমতাবান, পরাক্রমশালী। (৭৪)"[২২ : ৭৩-৭৪]।</p><h2 style="direction: ltr;">এটা কী যৌক্তিক যে সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে অহী ছাড়াই ছেড়ে দিবেন?</h2><p style="direction: ltr;">এটা কি যৌক্তিক যে আল্লাহ তা'আলা কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই এই সমস্ত মাখলূককে সৃষ্টি করেছেন? মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় হওয়া সত্ত্বেও তিনি কি এগুলোকে নিরর্থকভাবে সৃষ্টি করেছেন?</p><p style="direction: ltr;">এটা কি যুক্তিযুক্ত যে যিনি আমাদেরকে এত সূক্ষ্মতা ও দক্ষতার সাথে সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের জন্য নভোমন্ডল ও পৃথিবীর সমস্ত কিছুকে বশীভূত করেছেন, তিনি আমাদের উদ্দেশ্য ছাড়াই সৃষ্টি করবেন বা আমাদেরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর ছাড়াই ছেড়ে দিবেন, যেমন: আমরা এখানে কেন? মৃত্যুর পর কী হবে? আমাদেরকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী?</p><p style="direction: ltr;">বরং আল্লাহ তা'আলা রসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন যাতে আমরা আমাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পারি। আর তিনি আমাদের কাছ থেকে কী চান তা জানতে পারি!</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন আমাদেরকে এ সংবাদ দেওয়ার জন্য যে, আল্লাহ তা'আলা একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত এবং আমরা যেন জানতে পারি কীভাবে তাঁর ইবাদত করতে হবে এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধগুলো আমাদের পর্যন্ত পৌঁছাতে এবং আমাদেরকে এমন মূল্যবোধ শেখানোর জন্য যে আমরা যদি সেগুলি মেনে চলি, তবে আমাদের জীবন ভাল হবে, কল্যাণ ও বরকতময় হবে।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ অনেক রাসূল প্রেরণ করেছেন, যেমন: (নূহ, ইবরাহীম, মূসা এবং ঈসা)। তিনি এ সমস্ত রাসূলকে নিদর্শন ও মুজিযাসমূহ দিয়েছেন, যা তাদের সত্যতা এবং তারা সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে প্রেরিত প্রমাণ করে।</p><p style="direction: ltr;">আর রাসূলদের মধ্যে সর্বশেষ হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ তাঁর উপরে কুরআন কারীম নাযিল করেছেন।</p><p style="direction: ltr;">রাসূলগণ দ্ব্যর্থহীনভাবে আমাদেরকে এই বার্তা দিয়েছেন যে, এই জীবন একটি পরীক্ষা মাত্র আর প্রকৃত জীবন তো মৃত্যুর পরেই হবে।</p><p style="direction: ltr;">আর সেখানে মুমিনদের জন্য জান্নাত রয়েছে যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করেছে, যার কোনো শরীক নেই এবং সকল রাসূলের উপরে ঈমান এনেছে। এবং সেখানে জাহান্নাম রয়েছে যা আল্লাহ কাফিরদের জন্য তৈরি করেছেন যারা আল্লাহর সাথে অন্যান্য ইলাহের উপাসনা করেছে অথবা আল্লাহর রাসূলদের মধ্য হতে কোন একজন রাসূলকে অস্বীকার করেছে।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:</p><p style="direction: ltr;">يَابَنِي آدَمَ إِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي فَمَنِ اتَّقَى وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (35) يَا بَنِي آدَمَ إِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي فَمَنِ اتَّقَى وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ : "হে বনী আদম! যদি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেন, যারা আমার আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বিবৃত করবেন, তখন যারা তাকওয়া অবলম্বন করবে এবং নিজেদের সংশোধন করবে, তাদের কোন ভয় থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না। (৩৫)وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (36) وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ : আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে এবং তার ব্যাপারে অহংকার করেছে , তারাই অগ্নিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।(৩৬)"[৭: ৩৫-৩৬]।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:﴿ أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ ﴾ أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ : "তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমরা তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?"[২৩ : ১১৫]।</p><h2 style="direction: ltr;">আল-কুরআনুল কারীম</h2><p style="direction: ltr;">কুরআন কারীম হল আল্লাহ তা'আলার বাণী, যা তিনি শেষ নবী মুহাম্মাদের উপর নাযিল করেছিলেন। এটি হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বড় মুজিযা, যা তার নবুওয়াতের সত্যতা প্রমান করে। কুরআনের বিধানসমূহ হক আর তার কাহিনীও সত্য। আল্লাহ অস্বীকারকারীদের এই কুরআনের মতো একটি সূরা তৈরি করার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, কিন্তু তারা এর স্বতন্ত্র শৈলী এবং এর শব্দচয়নের অনন্যতার কারণে তা করতে অক্ষম হয়েছিল। অসংখ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং যুক্তি প্রমাণ করে যে, এই কিতাব মানুষের দ্বারা তৈরি করা সম্ভব না, বরং এটি সমগ্র মানবজাতীর পালনকর্তা সুমহান রবের বাণী।</p><h2 style="direction: ltr;">অসংখ্য রাসূল কেন?</h2><p style="direction: ltr;">কালের সূচনা থেকেই মানবজাতিকে তাদের রব আল্লাহর দিকে আহবান করার জন্য এবং তাদের কাছে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য আল্লাহ অসংখ্য রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাদের সকলের দাও'আতই ছিল: 'একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করা।' যখনই কোন জাতী দীনের কোন অংশ পরিত্যাগ করেছে অথবা রাসূল আনিত তাওহীদের বিধানকে বিকৃত করেছে, তখনই আল্লাহ তা'আলা তাদের পথ ঠিক করা এবং মানুষকে সুষ্ঠু ফিতরাতের উপরে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্য রাসূল প্রেরণ করেছেন, যতক্ষণ না শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র মানব জাতীর জন্য কিয়ামাত পর্যন্ত প্রযোজ্য স্থায়ী এমন শরী'আত নিয়ে এসেছেন, যা পূর্বের সকল শরী'আতকে রহিতকারী এবং পূর্ণতাদানকারী। আর মহান রব আল্লাহ তা'আলা নিজেই কিয়ামাত পর্যন্ত এ শরী'আত ও রিসালাতের স্থায়ীত্ব ও অব্যাহত রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।</p><p style="direction: ltr;">এ কারণে আমরা মুসলিমরা আল্লাহর আদেশ মোতাবেক পূর্ববর্তী সমস্ত রাসূল এবং কিতাবগুলিতে বিশ্বাস করি।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:﴿ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَاۤ أُنزِلَ إِلَیۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَـٰۤىِٕكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ أَحَدࣲ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُوا۟ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَیۡكَ ٱلۡمَصِیرُ﴾ ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَاۤ أُنزِلَ إِلَیۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَـٰۤىِٕكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ أَحَدࣲ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُوا۟ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَیۡكَ ٱلۡمَصِیرُ : "রাসূল তাঁর প্রভুর পক্ষ থেকে যা তাঁর কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগনের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলেঃ আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব। আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।"[2: 285]. [২: ২৮৫]।</p><h2 style="direction: ltr;">কোন ব্যক্তি সকল রাসূলদের উপরে ঈমান আনা ব্যতীত মুমিন হতে পারে না।</h2><p style="direction: ltr;">আল্লাহই সেই সত্তা যিনি রাসূলদেরকে পাঠিয়েছেন। যে কেউ তাদের একজনের রিসালাতের ব্যাপারে অবিশ্বাস করল, সে তাদের সকলকেই অবিশ্বাস করল। মহান আল্লাহ তা'আলার অহীকে প্রত্যাখ্যান করার চেয়ে মানুষের বড় কোন পাপ নেই; কাজেই জান্নাতে প্রবেশের জন্য সকল রাসূলের প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক।</p><p style="direction: ltr;">সুতরাং বর্তমানে প্রত্যেক ব্যক্তির উপরে আবশ্যক হচ্ছে আল্লাহর সমস্ত রাসূলের প্রতি ঈমান আনায়ন করা। আর এটি সকল রাসূলের শেষ রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে ঈমান আনা ও তার অনুসরণ করা ব্যতীত সম্ভব হবে না।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ আল-কুরআনুল কারীমে উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর রাসূলদের মধ্য হতে কোনো রাসূলের প্রতি ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করবে, সে আল্লাহকে অস্বীকারকারী এবং তাঁর অহীকে মিথ্যারোপকারী:</p><p style="direction: ltr;">নিচের আয়াতটি পাঠ করুন:"إنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ ورُسُلِهِ ويُرِيدُونَ أنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ ورُسُلِهِ ويَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ ونَكْفُرُ بِبَعْضٍ ويُرِيدُونَ أنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا إنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ ورُسُلِهِ ويُرِيدُونَ أنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ ورُسُلِهِ ويَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ ونَكْفُرُ بِبَعْضٍ ويُرِيدُونَ أنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا : নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের সাথে কুফরী করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের মধ্যে (ঈমানের ব্যাপারে) তারতম্য করতে চায় এবং বলে, 'আমরা কতক-এর উপর ঈমান আনি এবং কতকের সাথে কুফরী করি' আর তারা মাঝামাঝি একটা পথ অবলম্বন করতে চায়,أُولَئِكَ هُمُ الكافِرُونَ حَقًّا وأعْتَدْنا لِلْكَفَرَيْنِ عَذابًا مُهِينًا﴾". أُولَئِكَ هُمُ الكافِرُونَ حَقًّا وأعْتَدْنا لِلْكَفَرَيْنِ عَذابًا مُهِينًا : তারাই প্রকৃত কাফির। আর আমরা প্রস্তুত রেখেছি কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।"[৪: ১৫০-১৫১]।</p><h2 style="direction: ltr;">ইসলাম কী?</h2><p style="direction: ltr;">ইসলাম হল তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার কাছে আত্মসমর্পণ করা, ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করা এবং সন্তুষ্টি ও কবুল করার মাধ্যমে তাঁর শরী'আতকে পালন করা।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা রাসূলদেরকে একটি রিসালাতের জন্যই প্রেরণ করেছেন, তা হচ্ছে: এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহবান করা, যার কোনো শরীক নেই।</p><p style="direction: ltr;">ইসলামই হচ্ছে সকল নবীদের দীন (ধর্ম)। সুতরাং তাদের দীন একই তবে শরী'আত ভিন্ন ভিন্ন। মুসলিমরাই আজকের দিনে একমাত্র সঠিক ধর্মকে মেনে চলছেন, যে দীন সহকারে সমস্ত নবীগণ আগমণ করেছিলেন। এ যুগে ইসলামের বাণী হচ্ছে হক। সুতরাং যে রব ইবরাহীম, মূসা এবং ঈসা আলাইহিস সালামকে পাঠিয়েছেন, তিনিই রাসূলদের সর্বশেষ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন। আর ইসলামের শরী'আত তার পূর্বে আগত সকল শরী'আতকে রহিতকারী হিসেবে এসেছে।</p><p style="direction: ltr;">ইসলাম বাদ দিয়ে আজ যে সমস্ত ধর্ম মানুষ অনুসরণ করে, সেগুলি হয় মানবসৃষ্ট ধর্ম অথবা এমন ধর্ম যা মূলত ইলাহী ছিল তারপর মানুষের হাত তাতে বিকৃত এনেছে, ফলে তা কুসংস্কারের ধ্বংসাবশেষ, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পৌরাণিক কাহিনী এবং মানবিক গবেষণালব্ধ বিষয়াদির সংমিশ্রনে পরিণত হয়েছে। পক্ষান্তরে মুসলিমদের আকীদা হলো স্পষ্ট এক আকিদা, যা কখনো পরিবর্তন হয় না। তুমি আল-কুরআনুল কারীমের দিকে তাকিয়ে দেখ, সমস্ত মুসলিম বিশ্বে একই গ্রন্থ।</p><p style="direction: ltr;">মহিমান্বিত কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:</p><p style="direction: ltr;">قُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَالنَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (84) قُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَالنَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ : "বলুন, 'আমরা আল্লাহ্তে ও আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং ইব্রাহীম, ইসমা'ঈল, ইসহাক, ইয়া'কূব ও তাঁর বংশধরগণের প্রতি যা নাযিল হয়েছিল এবং যা মূসা, 'ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছিল তাতে ঈমান এনেছি; আমরা তাঁদের কারও মধ্যে কোন তারতম্য করি না। আর আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী।'وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ 85). وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ : আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।"[৩ : ৮৪-৮৫]।</p><h2 style="direction: ltr;">মুসলিমরা ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে কী বিশ্বাস রাখে?</h2><p style="direction: ltr;">তুমি জান কী মুসলিমদের উপরে আবশ্যক হচ্ছে যে, তারা আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালামের উপরে ঈমান আনবে, তাকে ভালবাসবে, তাকে সম্মান জানাবে এবং তাঁর সে রিসালাতের প্রতি ঈমান আনয়ন করবে, যার মূল কথা হলো এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদাতের দিকে আহবান জানানো যার কোনো শরীক নেই! মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, ঈসা আলাইহিস সালাম ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুজনেই নবী ছিলেন এবং তারা উভয়েই মানুষকে আল্লাহর পথ এবং জান্নাতের পথ দেখানোর জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন।</p><p style="direction: ltr;">আমরা বিশ্বাস করি যে, ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ প্রেরিত রাসূলদের মধ্যে একজন অন্যতম সম্মানিত রাসূল ছিলেন। আমরা আরো বিশ্বাস করি যে, তিনি অলৌকিকভাবে জন্ম গ্রহণ করেছেন। কুরআনে আল্লাহ তা'আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ঈসাকে পিতা ব্যতীত সৃষ্টি করেছেন যেভাবে আদমকে তিনি পিতা-মাতা ব্যতীত সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ সকল বস্তুর উপরে ক্ষমতাবান।</p><p style="direction: ltr;">আমরা বিশ্বাস করি যে ঈসা ইলাহ (উপাস্য) নন, আবার আল্লাহর পুত্রও নন এবং তিনি ক্রুশবিদ্ধ হননি, বরং তিনি জীবিত। আল্লাহ তা'আলা তাকে নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন, যেন শেষ যামানাতে তিনি ন্যায়পরায়ন বিচারক হিসেবে আগমন করেন এবং তিনি মুসলিমদের সাথে থাকবেন। কেননা মুসলিমরাই হচ্ছে ঈসাসহ সমস্ত নবী যে তাওহীদ নিয়ে আগমন করেছেন, তার উপরে ঈমান আনয়নকারী।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ আল-কুরআনুল কারীমে আমাদেরকে সংবাদ প্রদান করেছেন যে, ঈসা আলাইহিস সালামের (রিসালাত) বাণীকে খ্রিস্টানরা পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং সেখানে বিপথগামীরা ছিল যারা ইনজিলকে কলুষিত ও পরিবর্তন করেছে এবং ঈসা আলাইহিস সালাম বলেননি এমন সব কথা সেখানে সংযুক্ত করেছে, ইনজিলের বিভিন্ন সংষ্করণ ও তার মধ্যে বিদ্যমান অসংখ্য অসংগতি এ কথা প্রমাণ করে।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, ঈসা তাঁর রব আল্লাহর ইবাদত করতেন, তিনি কখনো কাউকে তাঁর ইবাদত করতে বলেননি, বরং তিনি তার উম্মতকে তার সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করতে আদেশ করতেন, কিন্তু শয়তান খ্রিস্টানদেরকে ঈসার ইবাদতকারী বানিয়েছে। কুরআনে আল্লাহ আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করেছে এমন কোন ব্যক্তিকে তিনি কখনো ক্ষমা করবেন না। আর ঈসাও কিয়ামাতের দিনে যারা তার ইবাদাত করেছে, তাদের থেকে নিজেকে সম্পর্কমুক্ত করে তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ইবাদতের আদেশ করেছি, আমি তোমাদেরকে আমার ইবাদত করতে বলিনি। এ কথার দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার বাণী:</p><p style="direction: ltr;">﴿یَـٰۤأَهۡلَ ٱلۡكِتَـٰبِ لَا تَغۡلُوا۟ فِی دِینِكُمۡ وَلَا تَقُولُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡحَقَّۚ إِنَّمَا ٱلۡمَسِیحُ عِیسَى ٱبۡنُ مَرۡیَمَ رَسُولُ ٱللَّهِ وَكَلِمَتُهُۥۤ أَلۡقَىٰهَاۤ إِلَىٰ مَرۡیَمَ وَرُوحࣱ مِّنۡهُۖ فَـَٔامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦۖ وَلَا تَقُولُوا۟ ثَلَـٰثَةٌۚ ٱنتَهُوا۟ خَیۡرࣰا لَّكُمۡۚ إِنَّمَا ٱللَّهُ إِلَـٰهࣱ وَ ٰ⁠حِدࣱۖ سُبۡحَـٰنَهُۥۤ أَن یَكُونَ لَهُۥ وَلَدࣱۘ لَّهُۥ مَا فِی ٱلسَّمَـٰوَ ٰ⁠تِ وَمَا فِی ٱلۡأَرۡضِۗ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِیلࣰا﴾ یَـٰۤأَهۡلَ ٱلۡكِتَـٰبِ لَا تَغۡلُوا۟ فِی دِینِكُمۡ وَلَا تَقُولُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡحَقَّۚ إِنَّمَا ٱلۡمَسِیحُ عِیسَى ٱبۡنُ مَرۡیَمَ رَسُولُ ٱللَّهِ وَكَلِمَتُهُۥۤ أَلۡقَىٰهَاۤ إِلَىٰ مَرۡیَمَ وَرُوحࣱ مِّنۡهُۖ فَـَٔامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦۖ وَلَا تَقُولُوا۟ ثَلَـٰثَةٌۚ ٱنتَهُوا۟ خَیۡرࣰا لَّكُمۡۚ إِنَّمَا ٱللَّهُ إِلَـٰهࣱ وَ ٰ⁠حِدࣱۖ سُبۡحَـٰنَهُۥۤ أَن یَكُونَ لَهُۥ وَلَدࣱۘ لَّهُۥ مَا فِی ٱلسَّمَـٰوَ ٰ⁠تِ وَمَا فِی ٱلۡأَرۡضِۗ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِیلࣰا : "হে আহলে কিতাবগণ! স্বীয় দ্বীনের মধ্যে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ব্যতীত কিছু বলো না। মারইয়াম-তনয় ঈসা মসীহ কেবল আল্লাহ্র রাসূল এবং তার বাণী, যা তিনি মারইয়ামের কাছে পাঠিয়েছিলেন ও তার পক্ষ থেকে রূহ। কাজেই তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলদের উপর ঈমান আন এবং বলো না, তিন! নিবৃত্ত হও, এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আল্লাহই তো এক ইলাহ; তার সন্তান হবে---তিনি এটা থেকে পবিত্ৰ-মহান। আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই; আর কর্মবিধায়করূপে আল্লাহই যথেষ্ট।"[৪: ১৭১]।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা বলেন:(وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَٰهَيْنِ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ ۚ إِن كُنتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ ۚ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ ۚ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَٰهَيْنِ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ ۚ إِن كُنتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ ۚ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ ۚ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ : "আরও স্মরণ করুন, আল্লাহ্ যখন বলবেন, 'হে মারইয়াম –তনয় 'ঈসা! আপনি কি লোকদেরকে বলেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহ্ ছাড়া আমাকে এবং আমার জননীকে দুই ইলাহরূপে গ্রহণ কর? 'তিনি বলবেন, 'আপনিই মহিমান্বিত! যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভন নয়। যদি আমি তা বলতাম তবে আপনি তো তা জানতেন। আমার অন্তরের কথাতো আপনি জানেন, কিন্তু আপনার অন্তরের কথা আমি জানি না ; নিশ্চয় আপনি অদৃশ্য সম্বদ্ধে সবচেয়ে ভাল জানেন।'"[৫ : ১১৬]।</p><p style="direction: ltr;">যে ব্যক্তি আখিরাতে মুক্তি চায়, তার উপরে আবশ্যক হচ্ছে ইসলামে প্রবেশ করা এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা।</p><p style="direction: ltr;">যে বাস্তবতার উপরে সমস্ত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম একমত ছিলেন, তাহলো আখিরাতে মুসলিমগণ ছাড়া কেউ নাজাত পাবেন না, যারা আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান এনেছেন এবং তার ইবাদতে কাউকে শরীক করেননি এবং আরো ঈমান এনেছেন সকল নবী-রাসূলের প্রতি। সুতরাং যারা নবী মূসা আলাইহিস সালামের সময়ে ছিলেন, তার উপরে ঈমান এনেছেন এবং তার শিক্ষাসমূহ অনুসরণ করেছেন, তারা ছিলেন মুমিন, মুসলিম। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা ঈসা আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করার পরে মূসার অনুসারীদের উপরে আবশ্যক হয়ে গেল ঈসা আলাইহিস সালামের উপরে ঈমান আনা এবং তাকে অনুসরণ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈসার উপরে ঈমান আনবে এরাই তখন নেককার মুসলিম আর যে ঈসার উপরে ঈমান আনার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করবে আর বলবে আমি মূসার দীনের উপরেই অবস্থান করতে থাকব, সে ব্যক্তি মুমিন নয়; কেননা সে এমন একজন নবীর উপরে ঈমান আনা প্রত্যাখ্যান করেছে যাকে আল্লাহ তা'আলা প্রেরণ করেছেন। এরপরে যখন আল্লাহ তা'আলা সর্বশেষ নবী রাসূল মুহাম্মাদকে প্রেরণ করলেন, তখন সবার উপরে আবশ্যক হয়ে গেল তার উপরে ঈমান আনয়ন করা; কাজেই রব হলেন সেই সত্তা যিনি মূসা ও ঈসাকে প্রেরণ করেছেন এবং তিনিই শেষ রাসূল মুহাম্মাদকে প্রেরণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লামের (রিসালাতের) বাণী অস্বীকার করবে আর বলবে: আমি মূসা অথবা ঈসার দীনের উপরেই অবস্থান করতে থাকব, সে ব্যক্তি মুমিন নয়।</p><p style="direction: ltr;">কোন ব্যক্তির মুসলিমদের সম্মান করার দাবি করা যথেষ্ট নয় এবং আখিরাতে তার নাজাতের জন্য সদকা করা ও গরীবদের সাহায্য করা যথেষ্ট নয়। বরং তাকে আল্লাহ, তাঁর কিতাব, রাসূল এবং শেষ দিনের উপরে ঈমানদার হওয়া জরুরি; যাতে আল্লাহ তার থেকে এগুলো গ্রহণ করেন! আল্লাহকে অস্বীকার করা, তাঁর সাথে শিরক করা, আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত অহীকে প্রত্যাখ্যান করা অথবা শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তকে প্রত্যাখ্যান করার চেয়ে বড় কোনো পাপ নেই। ইহুদি ও খ্রিস্টানরা, যারা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরেও ঈমান আনতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং ইসলামে প্রবেশ করাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুনে অবস্থান করবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:</p><p style="direction: ltr;">{إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ أُولَـٰئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ} إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ أُولَـٰئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّة : "নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্টতম।"[৯৮ : ৬]।</p><p style="direction: ltr;">যেহেতু আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য শেষ নবুয়তী বাণী অবতীর্ণ হয়েছে, তাই ইসলাম এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে শ্রবণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির উপর তার প্রতি ঈমান আনয়ন করা, তার শরী'আত অনুসরণ করা এবং তার আদেশ ও নিষেধের ব্যাপারে তার আনুগত্য করা ওয়াজিব। অতএব, যে ব্যক্তি এই শেষ নবুয়তী বাণী শুনবে এবং তা প্রত্যাখ্যান করবে, মহান আল্লাহ তার কাছ থেকে কিছুই গ্রহণ করবেন না এবং আখিরাতে তাকে শাস্তি দেবেন। এ কথার দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার বাণী:</p><p style="direction: ltr;">﴿وَمَن یَبۡتَغِ غَیۡرَ ٱلۡإِسۡلَـٰمِ دِینࣰا فَلَن یُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِی ٱلۡـَٔاخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَـٰسِرِینَ﴾ وَمَن یَبتَغِ غَیرَ ٱلإِسلَـٰمِ دِینا فَلَن یُقبَلَ مِنهُ وَهُوَ فِی ٱلـَٔاخِرَةِ مِنَ ٱلخَـٰسِرِینَ "আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।"[৩: ৮৫]।</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:(قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ) قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ : "বল, 'হে কিতাবীগণ, তোমরা এমন কথার দিকে আস, যেটি আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান যে, আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত না করি। আর তার সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করি এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসাবে গ্রহণ না করি'। তারপর যদি তারা বিমুখ হয় তবে বল, 'তোমরা সাক্ষী থাক যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম'।"(৩: ৬৪)।</p><h2 style="direction: ltr;">মুসলিম হতে হলে আমাকে কী করতে হবে?</h2><p style="direction: ltr;">ইসলামে প্রবেশ করতে হলে এই ছয়টি রুকনের উপরে ঈমান আনা আবশ্যক:</p><p style="direction: ltr;">আল্লাহ তা'আলার উপরে ঈমান আনয়ন করা এবং তিনিই হলেন সৃষ্টিকর্তা (الخالق), রিযিকদাতা (الرازق), পরিচালনাকারী (المدبر), মালিক (المالك), তাঁর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কেউ নেই, তাঁর কোন স্ত্রী নেই, কোন সন্তান নেই আর একমাত্র তিনিই ইবাদতের হকদার।</p><p style="direction: ltr;">ফেরেশতাদের প্রতি ঈম

পাঠকের মন্তব্য (০)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

ছবিসহ ও লিংকসহ মন্তব্য অ্যাডমিন দেখে প্রকাশ করেন।