উন্মুক্ত ইসলামি গ্রন্থাগার 📲 অ্যাপ ইনস্টল করুন
কামেলাইসলামি ডিজিটাল লাইব্রেরি
শরী‘আতের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও বিদ‘আতের ভয়াবহতা

শরী‘আতের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও বিদ‘আতের ভয়াবহতা

লেখক
মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন, আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের
অনুবাদক
জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের
ভাষা
বাংলা
পৃষ্ঠা
৩৩
📖 পিডিএফ পড়ুন ⬇ ডাউনলোড
👁 পড়া হয়েছে ১ বার

এই বইয়ের লেখা এখনও যুক্ত হয়নি; পিডিএফ আকারে পড়ুন।

<ul><li><a href="#t1">শরী'আতের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও বিদ'আতের ভয়াবহতা</a>
<ul>
<li><a href="#t2">ভূমিকা</a>
</li>
<li><a href="#t3">রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত দীন একটি পূর্ণাঙ্গ দীন:</a>
</li>
<li><a href="#t4">কুরআনে সব কিছুর বর্ণনা রয়েছে: </a>
</li>
<li><a href="#t5">একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর:</a>
</li>
<li><a href="#t6">দীনে নতুন কিছু আবিষ্কার করা বিদ'আত বা গোমরাহী:</a>
</li>
<li><a href="#t7">উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তির ব্যাখ্যা:</a>
</li>
<li><a href="#t8">মাদ্রাসা নির্মাণ, কিতাব লিখন ও সংকলন করা বিদ'আত নয়</a>
</li>
<li><a href="#t9">রাসূলের ইত্তেবার বাস্তবায়নের শর্তসমূহ:</a>
</li>
<li><a href="#t10">ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত: </a>
</li>
<li><a href="#t11">মানবাত্মার ওপর বিদ'আতের কু-প্রভাব:</a>
</li>
<li><a href="#t12">পরিশিষ্ট</a>
</li>
</ul></li>
</ul><h1 class="ltr left" id="p1"><a id="t1" class="anchor"> </a><a href="#t1">শরী'আতের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও বিদ'আতের ভয়াবহতা</a></h1><p class="ltr center" id="p13">শাইখ মুহাম্মদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন
রহ.</p><p class="ltr center" id="p14">অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের </p><p class="ltr center" id="p15">সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ
যাকারিয়া </p><h2 class="ltr left" id="p2"><a id="t2" class="anchor"> </a><a href="#t2">ভূমিকা</a></h2><p class="rtl center" id="p16">بِسْمِ
اللَّهِ الرَّحْمَـنِ
الرَّحِيمِ</p><p class="ltr justify" id="p17">আল্লাহ তা'আলা তার দীনকে পরিপূর্ণ করেছেন। ফলে দীনে
নতুন করে কোনো কিছু সংযোজন বা বিয়োজনের কোনো প্রয়োজন নেই। কিয়ামত অবধি মানবজাতির সব
সমস্যার সমাধান এ দীনে অবশ্যই রয়েছে। এ দীন বা ইসলাম পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত দীন। এতদসত্বেও
দেশ ও সমাজে বিদ'আত ও কু-সংস্কারের ছড়াছড়ি। এ থেকে মুসলিম
উম্মাহকে সতর্ক করা ও এর ভয়াবহ পরিণতি থেকে বেঁচে থাকার জন্য তাদের দাওয়াত দেওয়া খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। শাইখ মুহাম্মদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন রহ.-এর লিখিত 'আল-ইবদা' ফী কামালিশ শার'ঈ ওয়া খাতরুল ইবতি'দা' নামক পুস্তিকাটি এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর
ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। পুস্তিকাটিতে দীনের পরিপূর্ণতা ও নিখুঁত হওয়ার বিষয়টি
কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং বিদ'আতীদের বিভিন্ন আপত্তি ও তাদের বিভিন্ন যুক্তির উত্তর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও
পুস্তিকাটিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইত্তেবা বা অনুসরণ-অনুকরণ সাব্যস্ত
হওয়ার জন্য যে সব বিষয়গুলো জরুরি তা সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হয়েছে। একজন সুন্নাতের
অনুসারী বা রাসূলের উম্মতের জন্য এ বিষয়গুলো জেনে থাকা খুবই জরুরি। বিষয়বস্তুর
গুরুত্ব,
সময়ের দাবি, সমাজের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে
সামনে রেখে পুস্তিকাটির বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ কর্ম বলে অনুভব
করি। তাই বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম ভাইদের জন্য পুস্তিকাটির সরল বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা
হলো। বাংলায় পুস্তিকাটির
নাম দেওয়া হলো, 'শরী'আতের স্বয়ংসম্পূর্ণতা
ও বিদ'আতের ভয়াবহতা'।</p><p class="ltr justify" id="p18">আশা করি পুস্তিকাটি অধ্যয়ন করে আপনারা উপকৃত হবেন। সুন্নাতের প্রতি আপনাদের
আগ্রহ বাড়বে। বিদ'আত বর্জন করবেন, বিদ'আত ও বিদ'আতী থেকে
সতর্ক থাকবেন। অবশেষে আল্লাহর নিকট এ মুনাজাত করি, তিনি যেন
আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং পরকালে নাজাতের কারণ ও উপায় হিসেবে তা গ্রহণ
করেন। আমীন। </p><p class="ltr center" id="p19"> জাকেরুল্লাহ
আবুল খায়ের</p><p class="rtl center" id="p20">بِسْمِ اللَّهِ
الرَّحْمَـنِ
الرَّحِيمِ</p><p class="ltr justify" id="p21">সমস্ত প্রশংসা মহান
আল্লাহর। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি,
তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের আত্মার অনিষ্টতা এবং আমাদের
আমলসমূহের মন্দ পরিণতি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন,
তাকে গোমরাহ করার কেউ নেই এবং যাকে গোমরাহ করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ারও
কেউ নেই। আর আমি
সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ
নেই, তার কোন শরীক নেই। আর আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,
মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে আল্লাহ তা'আলা হিদায়াত ও সত্য দীন দিয়ে প্রেরণ করেন। ফলে তিনি রিসালাতের দায়িত্ব যথাযথ
পালন করেন এবং আমানতকে পৌঁছে দেন। উম্মতের কল্যাণ সাধন করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত
আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেন।</p><h2 class="ltr left" id="p3"><a id="t3" class="anchor"> </a><a href="#t3">রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত দীন একটি পূর্ণাঙ্গ দীন:</a></h2><p class="ltr justify" id="p22">রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে দীনের বিষয়ে দিনের আলোর মত সু-স্পষ্ট দলীলের
ওপর রেখে যান। একমাত্র হতভাগা ছাড়া কেউ তা থেকে বিচ্যুত বা পথভ্রষ্ট হতে পারে না। উম্মতের
প্রয়োজনীয় সবকিছুই তিনি স্পষ্ট করেন। এমনকি আবু যর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p23"><span class="c3">«ما ترك النبي صلى الله عليه وسلّم طائراً يقلب جناحيه في السماء إلا ذكر لنا منه علماً»</span>.</p><p class="ltr justify" id="p24"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতাসে দুই ডানা মেলে উড়ন্ত পাখীর বিষয়েও আমাদের শিক্ষা
দিতে ছাড়েন নি"</span>।<a id="ref_1" class="anchor"></a><a href="#note_1" name="r_1" class="fnote">[1]</a> </p><p class="ltr justify" id="p25">একজন মুশরিক সালমান
ফারসী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p26"><span class="c3">«علمكم نبيكم حتى الخراة ـ آداب قضاء الحاجة ـ قال: «نعم، لقد نهانا أن نستقبل القبلة بغائط أو بول أو أن نستنجي بأقل من ثلاثة أحجار، أو أن نستنجي باليمين أو أن نستنجي برجيع أو عظم»</span>.</p><p class="ltr justify" id="p27"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“তোমাদের নবী তোমাদেরকে
সবকিছু শিখিয়েছেন, এমনকি পায়খানা পেশাবের নিয়ম-পদ্ধতি। তিনি
বললেন, 'হ্যাঁ'। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পায়খানা ও পেসাবের সময় কিবলামূখ হওয়া, তিনটির কম পাথর দ্বারা পবিত্রতা হাসিল করা, ডান
হাত দ্বারা পবিত্রতা হাসিল করা অথবা গোবর ও হাড় দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে নিষেধ করেছেন"</span>।<a id="ref_2" class="anchor"></a><a href="#note_2" name="r_2" class="fnote">[2]</a></p><p class="ltr justify" id="p28">আর তুমি কুরআন
অধ্যয়ন করলে দেখতে পাবে, আল্লাহ তা'আলা তাতে দীনের মৌলিক বিষয়সমূহ এবং শাখা-প্রশাখা
সবই বর্ণনা করেছেন। তাওহীদের প্রকারসমূহ স্ব-বিস্তারে কুরআনে বর্ণনা করেছেন। এমনকি
কারো ঘরে প্রবেশ করতে হলে কীভাবে অনুমতি গ্রহণ করতে হবে এবং একটি মজলিশে বসলে কি
কি শিষ্টাচার অবলম্বন করতে হবে, তাও কুরআনে বর্ণনা করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা
বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p29">﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ
ءَامَنُوٓاْ إِذَا قِيلَ لَكُمۡ تَفَسَّحُواْ فِي ٱلۡمَجَٰلِسِ فَٱفۡسَحُواْ يَفۡسَحِ
ٱللَّهُ لَكُمۡۖ وَإِذَا قِيلَ ٱنشُزُواْ فَٱنشُزُواْ يَرۡفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ
مِنكُمۡ وَٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ دَرَجَٰتٖۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ
١١﴾ <span class="c5">[المجادلة: ١١]</span> </p><p class="ltr justify" id="p30"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“হে মুমিনগণ, তোমাদেরকে যখন বলা হয়, 'মজলিসে স্থান করে দাও',
তখন তোমরা স্থান করে দেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্থান করে দেবেন।
আর যখন তোমাদেরকে বলা হয়, 'তোমরা উঠে যাও', তখন তোমরা উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান
দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে
সম্পর্কে সম্যক অবহিত"</span>। <span class="c5">[সূরা আল-মুজাদালাহ,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ১১]</span> </p><p class="ltr justify" id="p31">আল্লাহ তা'আলা
আরো বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p32">﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ
ءَامَنُواْ لَا تَدۡخُلُواْ بُيُوتًا غَيۡرَ بُيُوتِكُمۡ حَتَّىٰ تَسۡتَأۡنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ
عَلَىٰٓ أَهۡلِهَاۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ ٢٧ فَإِن لَّمۡ
تَجِدُواْ فِيهَآ أَحَدٗا فَلَا تَدۡخُلُوهَا حَتَّىٰ يُؤۡذَنَ لَكُمۡۖ وَإِن قِيلَ
لَكُمُ ٱرۡجِعُواْ فَٱرۡجِعُواْۖ هُوَ أَزۡكَىٰ لَكُمۡۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ
عَلِيمٞ ٢٨﴾ <span class="c5">[النور : ٢٧، ٢٨]</span> </p><p class="ltr justify" id="p33"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজদের গৃহ ছাড়া অন্য কারও গৃহে প্রশে করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নেবে এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম দেবে। এটাই তোমাদের
জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। অতঃপর যদি
তোমরা সেখানে কাউকে না পাও তাহলে তোমাদেরকে অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে
প্রবেশ করো না। আর যদি তোমাদেরকে বলা হয়, 'ফিরে যাও'
তাহলে ফিরে যাবে। এটাই তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র। তোমরা যা কর আল্লাহ
সে বিষয়ে সম্যক অবগত"</span>। <span class="c5">[সূরা আন-নূর,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২৭,২৮]</span> লিবাস-পোশাকের
শিষ্টাচার বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p34">﴿وَٱلۡقَوَٰعِدُ مِنَ
ٱلنِّسَآءِ ٱلَّٰتِي لَا يَرۡجُونَ نِكَاحٗا فَلَيۡسَ عَلَيۡهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعۡنَ
ثِيَابَهُنَّ غَيۡرَ مُتَبَرِّجَٰتِۢ بِزِينَةٖۖ وَأَن يَسۡتَعۡفِفۡنَ خَيۡرٞ لَّهُنَّۗ
وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٞ ٦٠﴾ <span class="c5" data-redactor-tag="span">[النور :
٦٠]</span> </p><p class="ltr justify" id="p35"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আর বৃদ্ধা
নারীরা,
যারা বিয়ের প্রত্যাশা করে না, তাদের
জন্য কোন দোষ নেই, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না
করে তাদের কিছু পোশাক খুলে রাখে এবং এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। আর
আল্লাহ সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী"</span>। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আন-নূর,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৬০]</span> </p><p class="ltr justify" id="p36">আল্লাহ তা'আলা
আরও বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p37">﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ
قُل لِّأَزۡوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ مِن
جَلَٰبِيبِهِنَّۚ ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَن يُعۡرَفۡنَ فَلَا يُؤۡذَيۡنَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ
غَفُورٗا رَّحِيمٗا ٥٩﴾ <span class="c5" data-redactor-tag="span">[الاحزاب
: ٥٩]</span> </p><p class="ltr justify" id="p38">“হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও
মুমিনদের নারীদেরকে বল, 'তারা যেন তাদের জিলবাবে<a id="ref_3" class="anchor"></a><a href="#note_3" name="r_3" class="fnote">[3]</a>র কিছু অংশ
নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে
কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে
কষ্ট দেওয়া হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আল-আহযাব,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৫৯]</span> </p><p class="ltr justify" id="p39">আল্লাহ তা'আলা
আরও বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p40">﴿وَلَا يَضۡرِبۡنَ بِأَرۡجُلِهِنَّ
لِيُعۡلَمَ مَا يُخۡفِينَ مِن زِينَتِهِنَّۚ ٣١﴾ <span class="c5">[النور : ٣١]</span> </p><p class="ltr justify" id="p41"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আর তারা যেন
নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে"</span>। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আন-নূর,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৩১]</span> </p><p class="ltr justify" id="p42">আল্লাহ তা'আলা
আরো বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p43">﴿وَلَيۡسَ ٱلۡبِرُّ بِأَن
تَأۡتُواْ ٱلۡبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَٰكِنَّ ٱلۡبِرَّ مَنِ ٱتَّقَىٰۗ وَأۡتُواْ
ٱلۡبُيُوتَ مِنۡ أَبۡوَٰبِهَاۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ١٨٩﴾ <span class="c5">[البقرة: ١٨٩]</span> </p><p class="ltr justify" id="p44"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আর ভালো কাজ
এটা নয় যে, তোমরা পেছন দিক দিয়ে গৃহে প্রবেশ করবে। কিন্তু ভালো
কাজ হলো, যে তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা গৃহসমূহে তার
দরজা দিয়ে প্রবেশ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল
হও"</span>। <span class="c5">[সূরা আল-বাকারা,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ১৮৯]</span></p><p class="ltr justify" id="p45">এ ছাড়াও অসংখ্য আয়াত
রয়েছে,
যদ্বারা এ কথা স্পষ্ট হয় যে, এ দীন পরিপূর্ণ,
নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ। এ দীনে কোনো কিছু বাড়ানো বা কমানোর কোনো প্রয়োজন
নেই। এ কারণেই আল্লাহ তা'আলা কুরআনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে
গিয়ে বলেন<span dir="rtl">, </span></p><p class="rtl justify" id="p46">﴿وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ
ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُسۡلِمِينَ
٨٩﴾ <span class="c5">[النحل: ٨٩]</span> </p><p class="ltr justify" id="p47"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আর আমি তোমার
উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ"</span>। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আন-নাহাল,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৮৯]</span></p><h2 class="ltr left" id="p4"><a id="t4" class="anchor"> </a><a href="#t4">কুরআনে সব কিছুর বর্ণনা রয়েছে: </a></h2><p class="ltr justify" id="p48">মানবজাতি তাদের
মু'আমালা <span class="c2">(লেনদেন)</span> মু'আশারা <span class="c2">(দাম্পত্যজীবন)</span>সহ জীবনের যাবতীয় ক্ষেত্রে যা কিছুর
প্রয়োজন অনুভব করে তার সবকিছুর বর্ণনাই আল্লাহ তা'আলা কুরআনে দিয়েছেন। হয় সরাসরি
বর্ণনা করেছেন অথবা ইশারায় বা অর্থ দ্বারা বুঝিয়েছেন অথবা কথা দ্বারা বুঝিয়ে
দিয়েছেন।</p><p class="ltr justify" id="p49">হে আমার
ভাইয়েরা! অনেকেই আল্লাহ তা'আলার বাণী-</p><p class="rtl justify" id="p50">﴿وَمَا مِن دَآبَّةٖ
فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا طَٰٓئِرٖ يَطِيرُ بِجَنَاحَيۡهِ إِلَّآ أُمَمٌ أَمۡثَالُكُمۚ
مَّا فَرَّطۡنَا فِي ٱلۡكِتَٰبِ مِن شَيۡءٖۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِمۡ يُحۡشَرُونَ ٣٨﴾ <span class="c5">[الانعام: ٣٨]</span> </p><p class="ltr justify" id="p51"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আর
যমীনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণী এবং দু'ডানা দিয়ে উড়ে এমন
প্রতিটি পাখি, তোমাদের মতো এক একটি উম্মত। আমরা কিতাবে
কোনো ত্রুটি করি নি। অতঃপর তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে"</span>। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আল-আন'আম,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৩৮]</span> -এর তাফসীর করতে গিয়ে এ ব্যাখ্যা
করেছেন যে, <span dir="rtl">مَّا فَرَّطۡنَا فِي
ٱلۡكِتَٰبِ مِن شَيۡءٖۚ</span> এখানে <span dir="rtl">ٱلۡكِتَٰبِ</span>
কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য কুরআন – বস্তুত এ ব্যাখ্যটি সঠিক নয়। </p><p class="ltr justify" id="p52">সঠিক ব্যাখ্যা
হলো, এখানে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য লাওহে মাহফুয বুঝানো হয়েছে। কারণ, কুরআনের
গুণাগুণ আল্লাহ তা'আলা উল্লিখিত আয়াতের নাফী তথা না সূচক বর্ণনা <span class="c2">(ত্রুটি করি নি)</span> এর
ছেয়েও অধিক প্রাঞ্জল ও স্পষ্ট ভাষায় হাঁ সূচক শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন। আর তা
হলো, আল্লাহ তা'আলার বাণী, তিনি বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p53"> ﴿وَنَزَّلۡنَا
عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُسۡلِمِينَ
٨٩﴾ <span class="c5">[النحل: ٨٩]</span> </p><p class="ltr justify" id="p54"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আর আমরা আপনার ওপর
কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত,
রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ"</span>। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আন-নাহাল,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৮৯]</span> এ কথাটি
উল্লিখিত আয়াত— <span dir="rtl">مَّا فَرَّطۡنَا
فِي ٱلۡكِتَٰبِ مِن شَيۡءٖۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِمۡ يُحۡشَرُونَ</span> -এর তুলনায় অধিক সুন্দর ও স্পষ্ট। </p><h2 class="ltr left" id="p5"><a id="t5" class="anchor"> </a><a href="#t5">একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর:</a></h2><p class="ltr justify" id="p55">কেউ যদি এ
প্রশ্ন করে যে, কুরআনের কোথায় সালাতের রাকা'আতসমূহের বর্ণনা রয়েছে? যদি আমরা
কুরআনে সালাতের রাকাতসমূহের বর্ণনা না পাই তাহলে আল্লাহ তা'আলার বাণী,</p><p class="rtl justify" id="p56">﴿وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ
ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُسۡلِمِينَ
٨٩﴾ <span class="c5">[النحل: ٨٩]</span> </p><p class="ltr justify" id="p57"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আর আমরা আপনার ওপর
কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত,
রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ"</span>। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আন-নাহাল,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৮৯]</span> – এ
দাবি কীভাবে সঠিক হয়ে থাকে?</p><p class="ltr justify" id="p58">এর উত্তর হলো,
আল্লাহ তা'আলা তার স্বীয় কিতাবে আমাদের এ নির্দেশ দিয়ে বলেছেন যে, আমাদের জন্য
ওয়াজিব হলো, আমরা যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন এবং
তিনি যে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তার অনুসরণ করি। আল্লাহ তা'আলা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p59">﴿مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ
فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظٗا
٨٠﴾ <span class="c5">[النساء : ٨٠]</span> </p><p class="ltr justify" id="p60"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“যে রাসূলের
আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হলো, তবে আমি তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করি নি"</span>। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আন-নিসা,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৮০]</span> </p><p class="ltr justify" id="p61">আল্লাহ তা'আলা
আরও বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p62">﴿وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ
فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ
شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٧﴾ <span class="c5">[الحشر: ٧]</span> </p><p class="ltr justify" id="p63"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“রাসূল তোমাদের
যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা
থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি
প্রদানে কঠোর"</span>। <span class="c5">[সূরা আল-হাসর,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ৭]</span></p><p class="ltr justify" id="p64">সুন্নত দ্বারা
বর্ণিত বিষয়গুলো অবশ্যই কুরআনে নির্দেশিত। কারণ, সুন্নাত অহীর প্রকারদ্বয়ের এক
প্রকার; যা আল্লাহ তা'আলা তার রাসূলের ওপর নাযিল করেছেন এবং তাকে শিক্ষা দিয়েছেন।
যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p65">﴿وَأَنزَلَ ٱللَّهُ عَلَيۡكَ
ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمۡ تَكُن تَعۡلَمُۚ وَكَانَ فَضۡلُ ٱللَّهِ
عَلَيۡكَ عَظِيمٗا ١١٣﴾ <span class="c5" data-redactor-tag="span">[النساء
: ١١٣]</span> </p><p class="ltr justify" id="p66"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আর আল্লাহ
তোমার প্রতি নাযিল করেছেন কিতাব ও হিকমাত এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে
না। আর তোমার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে মহান"</span>। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আন-নিসা,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ১১৩]</span> </p><p class="ltr justify" id="p67">এরই ভিত্তিতে বলা
চলে যা সুন্নাতে বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত কুরআনেরই বর্ণনা। </p><p class="ltr justify" id="p68">হে
আমার ভাইয়েরা!</p><p class="ltr justify" id="p69">যখন তোমাদের
নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হলো, তা হলে তোমরা বল, যে দীন তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট পৌঁছে
দেবে সে দীনের এমন কোন বিধান অবশিষ্ট আছে কি যার বর্ণনা তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেন নি, অথচ তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে গেছেন?
কখনই না!</p><p class="ltr justify" id="p70">রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীনের যাবতীয় সবকিছুই তার কথা, কর্ম, ও স্বীকৃতি
দ্বারা বাতলিয়ে দিয়েছেন। কখনো তিনি পূর্ণাঙ্গ বাক্য দ্বারা, আবার কখনো প্রশ্নের
উত্তর দ্বারা, আবার কখনো আল্লাহ তা'আলা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কোনো অপরিচিত লোককে
পাঠানো দ্বারা -আল্লাহ তাকে পাঠাতেন যাতে রাসূলের দরবারে এসে দীনের এমন বিষয়গুলো
জিজ্ঞাসা করত যা রাসূলের সাথে সার্বক্ষণিক অবস্থানকারী সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করত না।
এ কারণেই তারা রাসূলের দরবারে এমন একজন গ্রাম্য লোকের আগমনে তারা খুশি হতো, যে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল সম্পর্কে
জিজ্ঞাসা করবে।</p><p class="ltr justify" id="p71">একজন মানুষ তার
ইবাদত, মু'আমালা ও মু'আশারাসহ যাবতীয় বিষয়ে যত কিছুর প্রয়োজন অনুভব করে তার
সবকিছুর বর্ণনাই আল্লাহর রাসূল তাদের জন্য তুলে ধরেছেন। এর প্রমাণ আল্লাহ তা'আলার
বাণী -তিনি বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p72">﴿ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ
لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ
دِينٗاۚ ٣﴾ <span class="c5">[المائدة: ٣]</span> </p><p class="ltr justify" id="p73"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আজ আমি তোমাদের
জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিআমত সম্পূর্ণ করলাম এবং
তোমাদের জন্য দীন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে"</span>। <span class="c5" data-redactor-tag="span">[সূরা
আল-মায়েদা,<span class="c6"> আয়াত:</span> ৩]</span> </p><h2 class="ltr left" id="p6"><a id="t6" class="anchor"> </a><a href="#t6">দীনে নতুন কিছু আবিষ্কার করা বিদ'আত বা গোমরাহী:</a></h2><p class="ltr justify" id="p74">হে মুসলিম ভাই,
তোমার নিকট এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর, মনে রেখো, যে ব্যক্তি আল্লাহর
দীনে নতুন কোনো শরী'আত ভালো উদ্দেশ্যে হলেও আবিষ্কার করে, তার আবিষ্কৃত বিদ'আতটি
গোমরাহী বা ভ্রষ্টতা হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে অনাস্থা, প্রশ্ন তোলা
হিসেবেই গণ্য হবে। আর আল্লাহকে তার স্বীয় বাণী- <span dir="rtl">ٱلۡيَوۡمَ
أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ </span> তে মিথ্যুক
সাব্যস্ত করা হবে। কারণ, যে
ব্যক্তি আল্লাহর দীনে কোনো শরী'আত বা বিধান আবিষ্কার করল, যা দীনের অন্তর্ভুক্ত
নয়, তার অবস্থা দাবী করছে যে সে যেন বললো, দীন পূর্ণাঙ্গ নয়, দীন এখনো পরিপূর্ণতা
লাভ করে নি। কারণ সে মনে করছে দীনের যে বিধানটি সে আবিষ্কার করল, যদ্বারা সে
আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায় তা এখনো অবশিষ্ট রয়ে গেছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো,
মানুষ এমন এমন বিদ'আত আবিষ্কার করে যা আল্লাহ তা'আলার সত্ত্বা, নামসমূহ ও
সিফাতসমূহের সাথে সম্পর্ক রাখে। তারপর সে দাবি করে যে, সে এ দ্বারা তার রবের মহত্ব
সাব্যস্তকারী, তার রবের পবিত্রতা বর্ণনাকারী এবং এ দ্বারা সে আল্লাহ তা'আলার এ
বাণীর<span dir="rtl">﴿</span><span dir="rtl">فَلَا تَجۡعَلُواْ
لِلَّهِ أَندَادٗا وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٢٢</span><span dir="rtl">﴾ <span class="c5" data-redactor-tag="span">[البقرة: ٢٢]</span> </span> <span class="c1" data-redactor-tag="span">“তোমরা আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করো না অথচ তোমরা
জান"</span> এর নির্দেশনা বাস্তবায়নকারী। তুমি এর চেয়ে
আরও বেশি আশ্চর্য হবে, যখন দেখবে, আল্লাহ তা'লার সত্ত্বার সাথে সম্পৃক্ত এমন একটি
বিদ'আত আবিষ্কার করল, যার ওপর উম্মতের পূর্বসূরী বা ইমামগণের কোনো সমর্থন নেই, অথচ
সে দাবি করে, সে আল্লাহর বড়ত্ব ও পবিত্রতা বর্ণনাকারী এবং আল্লাহ তা'আলা বাণী-</p><p class="rtl justify" id="p75"> ﴿فَلَا
تَجۡعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادٗا وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٢٢﴾ <span class="c5">[البقرة: ٢٢]</span> </p><p class="ltr justify" id="p76"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“তোমরা আল্লাহর
জন্য শরীক সাব্যস্ত করো না অথচ তোমরা জান"</span> <span class="c5">[সূরা আল-বাকারাহ,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২২]</span> এর যথাযথ বাস্তবায়নকারী। আর যে তার আবিষ্কৃত বিদ'আতের বিরোধিতা
করবে, তাকে সে সাদৃশ্য সাব্যস্তকারী বা দৃষ্টান্তস্থাপনকারী ইত্যাদি জঘন্য খারাপ
উপাধি দ্বারা ভূষিত করে। অনুরূপভাবে তুমি
আশ্চর্য হবে এমন সম্প্রদায়ের বিষয়ে যারা আল্লাহর দীনে নেই এমন কিছু
বিদ'আত আবিষ্কার করে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে
সম্পৃক্ত। এ দ্বারা তারা দাবি করে যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের প্রেমিক, রাসূলের সম্মান রক্ষাকারী। আর যে তাদের আবিষ্কৃত সেসব
বিদ'আতের সাথে ঐক্যমত পোষণ করে না, তাকে রাসূলের শত্রু ও অসম্মানকারী ইত্যাদি
খারাপ উপাধিতে আখ্যায়িত করে গালি দেয়। </p><p class="ltr justify" id="p77">আরও আশ্চর্যজনক
বিষয় হলো, এ ধরনের লোকেরা বলে, আমরাই আল্লাহ ও তার রাসূলের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনকারী।
অথচ তারা যখন আল্লাহর দীন বা তার দেওয়া শরী'আত -যা নিয়ে দুনিয়াতে আল্লাহর রাসূল
আগমন করেছেন, তাতে এমন কিছু আবিষ্কার করে, যা তার দীনের অংশ নয়, তখন তারা অবশ্যই
আল্লাহ ও তার রাসূলের সামনে অগ্রগামী হলো। অথচ আল্লাহ তা'আলা
বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p78">﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ
ءَامَنُواْ لَا تُقَدِّمُواْ بَيۡنَ يَدَيِ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ
إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٞ ١﴾ <span class="c5" data-redactor-tag="span">[الحجرات:
١]</span> </p><p class="ltr justify" id="p79"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না এবং তোমরা আল্লাহর
তাকওয়া অবলম্বন কর, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ"</span>। <span class="c5">[সূরা আল-হুজরাত,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ১]</span> </p><p class="ltr justify" id="p80">হে মুসলিম
ভাইয়েরা! আমি তোমাদের প্রশ্ন করি এবং আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আমি চাই তোমরা আমার
প্রশ্নের উত্তর তোমাদের অন্তর থেকে দিবে শুধু আবেগে মুখ দিয়ে নয়, তোমাদের দীনের দাবী
অনুযায়ী উত্তর দিবে কারো অন্ধ অনুসরণে নয়, যে ব্যক্তি দীনের মধ্যে এমন কোনো বিধান
আবিষ্কার করল, যা দীনের বিষয় নয়, চাই তা আল্লাহর সত্ত্বার সাথে সম্পৃক্ত হোক বা তার
সিফাত তথা গুণাগুণের সাথে বা নামের সাথে অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর সাথে সম্পৃক্ত হোক। তারপর তারা বলে, আমরাই আল্লাহ ও তার রাসূলের
সম্মান রক্ষাকারী। এসব লোক কি
সত্যিকার অর্থে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের সম্মান রক্ষা বিষয়ে অধিক হকদার? নাকি ঐ
সব লোক বেশি হকদার, যারা এক চুল পরিমাণ আল্লাহর দেওয়া শরী'আত থেকে বিচ্যুত হয় না,
শরী'আতের যে সব বিধান তাদের নিকট এসেছে সে সম্পর্কে তারা বলে, আমরা ঈমান এনেছি এবং
মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছি সে সব বিষয়ের ওপর, যার ব্যাপারে আমাদেরকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। আরও
বলে, যে সব বিষয়ে আমাদেরকে আদেশ দেওয়া বা নিষেধ করা হয়েছে তা আমরা শুনলাম
ও মানলাম। আর যেসব বিষয়ে শরী'আত নিয়ে আসে নি সেসব বিষয়সমূহ সম্পর্কে তারা বলে, আমরা
বিরত থাকলাম, আমাদের জন্য উচিৎ হবে না যে, আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর অগ্রগামী
হই। আর আমাদের জন্য উচিৎ নয়
যে, আমরা আল্লাহর দীনে এমন কিছু আবিষ্কার করি যা তার দীনের অংশ নয়। এ উভয় দলের কোন
দলটি আল্লাহ ও তার রাসূলের মহব্বতকারী হিসেবে পরিগণিত হওয়ার হকদার এবং সম্মানরক্ষাকারী
হওয়ার হকদার? নিঃসন্দেহে বলা যায়, সে দলটি উত্তম যারা বলে আমরা ঈমান এনেছি,
বিশ্বাস করেছি, আমাদের নিকট যে সংবাদ এসেছে, তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছি, আমাদের
যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা আমরা শুনেছি ও অনুসরণ করেছি এবং যা আমাদের আদেশ করা হয় নি
তা থেকে আমরা আমাদের হাত গুটিয়ে নিলাম এবং তা হতে আমরা বিরত থাকলাম। আর তারা বলে,
আমরা আল্লাহর শরী'আতের মধ্যে এমন কিছু আবিষ্কার করতে অক্ষম যা শরী'আত নয় এবং এমন
কোনো বিদ'আত করতে অক্ষম যা দীনের মধ্যে নেই। সন্দেহ
নেই যে, এ ধরনের লোকেরাই তাদের নিজেদের মর্যাদা কি তা জানতে
পেরেছে এবং স্রষ্টার মর্যাদা কি তা জানতে পেরেছে। প্রকৃতপক্ষে তারাই আল্লাহ ও তার
রাসূলকে যথাযথ সম্মান দেখিয়েছে এবং তারাই আল্লাহ ও তার রাসূলের সত্যিকার মহব্বত ও
ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তারা নয়,
যারা আল্লাহর দীনে নতুন কিছু আবিষ্কার করেছে, যা দীনের মধ্যে বিশ্বাসে, কথায় ও
আমলে কোথাও নেই। </p><p class="ltr justify" id="p81">তুমি আরও
আশ্চর্য হবে, ঐ সম্প্রদায়ের লোকদের বিষয়ে যারা আল্লাহর
রাসূলের কথা—<span dir="rtl">«</span><span dir="rtl">إياكم</span> <span dir="rtl">ومحدثات</span> <span dir="rtl">الأمور</span> <span dir="rtl">فإن</span> <span dir="rtl">كل</span> <span dir="rtl">محدثة</span> <span dir="rtl">بدعة،</span> <span dir="rtl">وكل</span> <span dir="rtl">بدعة</span> <span dir="rtl">ضلالة،</span> <span dir="rtl">وكل</span> <span dir="rtl">ضلالة</span> <span dir="rtl">في</span> <span dir="rtl">النار»</span><span dir="rtl">.</span> <span class="c1" data-redactor-tag="span">“সাবধান! তোমরা
নতুন আবিষ্কৃত বিষয়গুলো হতে বেঁচে থাকো; কারণ, প্রতিটি নতুন আবিষ্কৃত বিষয় বিদ'আত।
আর প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী, আর প্রত্যেক গোমরাহীর গন্তব্য জাহান্নাম"</span>।<a id="ref_4" class="anchor"></a><a href="#note_4" name="r_4" class="fnote">[4]</a> -এ মহান বাণীটি তারা ভালোভাবেই
জানে। আর তারা এ কথাও জানে আল্লাহর রাসূলের বাণীতে <span dir="rtl">«</span><span dir="rtl">كل</span>
<span dir="rtl">بدعة»</span><span class="c1">“প্রত্যেক বিদ'আত"</span> কথাটি ব্যাপক, মৌলিক। এখানে
ব্যাপকতার সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ<span dir="rtl">«</span><span dir="rtl">كل»</span>
কে ব্যবহার করা
হয়েছে। আর এ শব্দটি যিনি উচ্চারণ করেছেন তিনি অবশ্যই এ শব্দের মর্মার্থ সম্পর্কে
অবগত আছেন। কারণ, তিনি সমস্ত মাখলুকের তুলনায় অধিক ভাষাবিদ, মাখলুকের জন্য সবচেয়ে
বেশি হিতাকাংখি মাখলুক। তিনি কখনোই এমন কথা উদ্দেশ্য ছাড়া বলতে পারেন না। ফলে তিনি
যখন এ কথা <span dir="rtl">«</span><span dir="rtl">كل</span>
<span dir="rtl">بدعة</span>
<span dir="rtl">ضلالة»</span> <span class="c1">“প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী"</span> বলেছেন, তখন তিনি অবশ্যই
জানতেন তিনি কি বলছেন এবং তিনি যা বলছেন তার অর্থ কি। ফলে সার্বিক দিক দিয়ে
উম্মতের পরিপূর্ণ কল্যাণের দিক বিবেচনা রেখেই তার থেকে এ কথাটি উচ্চারিত হয়েছে।</p><p class="ltr justify" id="p82">আর যখন কোনো
বাণীতে উপরোক্ত তিনটি বিষয় অর্থাৎ পরিপূর্ণ কল্যাণকামিতা ও তার ইচ্ছা, পুর্ণাঙ্গ
বর্ণনা ও তার সুস্পষ্টতা এবং পূর্ণাঙ্গ ইলম ও জ্ঞান, এ তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়া
স্পষ্ট হলো, তখন তা থেকে প্রমাণিত হলো যে, সে কথার যে স্বাভাবিক অর্থ বুঝা যায় তা
অবশ্যই বক্তার উদ্দেশ্য। আর সেটাই তার মূল অর্থ। সুতরাং
হাদীসে এমন একটি ব্যাপক ও সামগ্রিক কথা <span class="c2">(সকল প্রকার বিদ'আত)</span> এটা বলার পরও বিদ'আতকে
তিন প্রকার বা পাঁচ প্রকার ভাগ করা কীভাবে শুদ্ধ হতে পারে? না কখনই
না, এভাবে ভাগ করা কোনো ক্রমেই শুদ্ধ নয়। যে সব আলেম এ কথা দাবি করে যে বিদ'আতে
হাসানাহ নামে এক প্রকার বিদ'আত রয়েছে,<span class="c6"> তা দুই অবস্থার কোনো একটি থেকে মুক্ত নয়:</span> </p><p class="ltr justify" id="p83">এক- মূলতঃ তা
বিদ'আত নয়, সে সেটাকে বিদ'আত ধারণা করেছে। </p><p class="ltr justify" id="p84">দুই- অথবা তা
বিদ'আত। নিন্দনীয় বা খারাপ। তবে
তার খারাবী সম্পর্কে তারা অবহিত নয়। </p><p class="ltr justify" id="p85">সুতরাং যে কোনো
ব্যক্তিই এ কথা বলে, 'এক প্রকার বিদ'আত আছে বিদ'আতে হাসানা' তার উত্তর উপরের কথাই।
এ কথার ভিত্তিতেই বলা যায় যে, যারা বিদ'আতী, তাদের জন্য বিদ'আতকে হাসানা বলে
চালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের হাতে
রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী- <span dir="rtl">«</span><span dir="rtl">كل</span>
<span dir="rtl">بدعة</span>
<span dir="rtl">ضلالة»</span> <span class="c1">“প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী"</span> নামক ধারালো
তলোয়ার বা উন্মুক্ত অসি। এটি এমন একটি
তলোয়ার যা নবুওয়াত ও রিসালাতের কারখানায় নির্মাণ করা হয়েছে। কোনো সাধারণ কারখানায়
তৈরি করা হয় নি। নবুওয়াতের কারখানায় তৈরি করা এ সুন্দর ও
অভিনব তলোয়ার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে তৈরি করেছেন।
যার হাতে এ ধরনের ধারালো তলোয়ার থাকবে, বিদ'আতীদের দ্বারা- কোনো
বিদ'আতকে 'তা বিদ'আতে হাসানা' এটা বলে তার মুকাবিলা করা সম্ভম হবে না। কারণ সে
তখনই বলতে সক্ষম হবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেছেন, <span dir="rtl">«</span><span dir="rtl">كل</span>
<span dir="rtl">بدعة</span>
<span dir="rtl">ضلالة»</span><span class="c1">“প্রত্যেক বিদ'আতই গোমরাহী"</span>।</p><h2 class="ltr left" id="p7"><a id="t7" class="anchor"> </a><a href="#t7">উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তির ব্যাখ্যা:</a></h2><p class="ltr justify" id="p86">তবে তোমাদের
অন্তরে একটি পোকা রয়েছে বলে আমি অনুভব করি যে বলে, আমীরুল মুমিনীন উমার ইবনুল
খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর কথার কী উত্তর দেবেন? যখন তিনি
উবাই ইবন কা'ব ও তামীম আদ-দারী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে
নির্দেশ দেন যে, রমযান মাসে তারা যেন মানুষের সালাতের ইমামতি করেন। তারপর তিনি বের
হয়ে দেখলেন মানুষ তাদের ইমামের পিছনে একত্র। তখন তিনি বললেন, </p><p class="rtl justify" id="p87"><span class="c3">«نعمت البدعة هذه والتي ينامون عنها أفضل من التي يقومون»</span> </p><p class="ltr justify" id="p88"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“এটি কতই না
উত্তম বিদ'আত, তবে যে সালাত থেকে তারা ঘুমিয়ে থাকে <span class="c2">(অর্থাৎ শেষ রাতের সালাত)</span>, তা
সেটা থেকে উত্তম যার কিয়াম তারা করে থাকে। <span class="c2" data-redactor-tag="span">(অর্থাৎ প্রথম
রাতের সালাত)</span>"</span><a id="ref_5" class="anchor"></a><a href="#note_5" name="r_5" class="fnote">[5]</a>
</p><p class="ltr justify" id="p89">এ প্রশ্নের
উত্তর দুইভাবে দেওয়া যেতে পারে:</p><p class="ltr justify" id="p90">এক- রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথাকে কোনো মানুষের কথা দ্বারা মুকাবিলা করা
জায়েয নেই। এমনকি আবু বকর
রাদিয়াল্লাহু 'আনহু, যিনি নবীদের পর এ উম্মতের সবচেয়ে উত্তম
ব্যক্তি, উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু, যিনি নবীদের পর এ
উম্মতের দ্বিতীয় ব্যক্তি, উসমান রাদিয়াল্লাহু 'আনহু, যিনি
এ উম্মতের তৃতীয় ব্যক্তি এবং আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু,
যিনি নবীদের পর এ উম্মতের চতুর্থ ব্যক্তি প্রমুখদের কথা দ্বারাও রাসূলের কথার
মুকাবিলা করা যাবে না। এদের ছাড়া অন্য কারোও কথা দ্বারা মুকাবিলা করার প্রশ্নই আসে
না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p91">﴿ فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ
يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ
٦٣﴾ <span class="c5">[النور : ٦٣]</span> </p><p class="ltr justify" id="p92"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“অতএব যারা তাঁর
নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক
আযাব পৌঁছার ভয় করে"</span>। <span class="c5">[সূরা আন-নূর,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ৬৩]</span></p><p class="ltr justify" id="p93"><span class="c2" data-redactor-tag="span">(আয়াতের
ব্যাখ্যায়)</span> ইমাম আহমদ রহ, বলেন, তোমরা কি জান ফিতনা কী? ফিতনা হলো শির্ক। হতে পারে
যখন কোনো ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো কথা
প্রতাখ্যান করে, তখন তার অন্তরে কিছুটা হলেও বক্রতা দেখা দেয়। ফলে সে ধ্বংস হয়। </p><p class="ltr justify" id="p94">আব্দুল্লাহ ইবন
আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p95"> <span class="c3">«يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء أقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلّم وتقولون قال أبو بكر وعمر»</span>. </p><p class="ltr justify" id="p96"><span class="c1" data-redactor-tag="span">“আমি আশঙ্কা
করছি যে, তোমাদের ওপর আসমান থেকে পাথর বর্ষিত হবে। আমি তোমাদের বলি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তোমরা বল আবু বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
বলেছেন"</span>। </p><p class="ltr justify" id="p97">দুই- আমরা এ কথা
নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, আমীরুল মুমিনীন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু আল্লাহ তা'আলা
ও তার রাসূলের কথার সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দৃঢ় ও কঠোর। আল্লাহর নির্দেশের
সামনে মাথা নত করা ও মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি একজন সু-প্রসিদ্ধ ব্যক্তি। এমনকি
তাকে আল্লাহর কথার সামনে অবনতকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হত। </p><p class="ltr justify" id="p98">ঐ মহিলার ঘটনা <span class="c2" data-redactor-tag="span">(যদি
তা বিশুদ্ধ হয়ে থাকে)</span> যে মহিলা মোহরানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উমার রাদিয়াল্লাহু
আনহুর বিরোধিতা করেছিল তা অধিকাংশের নিকট অ

পাঠকের মন্তব্য (০)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

ছবিসহ ও লিংকসহ মন্তব্য অ্যাডমিন দেখে প্রকাশ করেন।