উন্মুক্ত ইসলামি গ্রন্থাগার 📲 অ্যাপ ইনস্টল করুন
কামেলাইসলামি ডিজিটাল লাইব্রেরি
তাওহীদের কালেমা: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর ফযীলত, অর্থ, শর্ত ও পরিপন্থী বিষয়

তাওহীদের কালেমা: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর ফযীলত, অর্থ, শর্ত ও পরিপন্থী বিষয়

লেখক
আব্দুর রাযযাক ইবন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ আলে-বদর, আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, সানাউল্লাহ নজির আহমদ
অনুবাদক
সানাউল্লাহ নজির আহমদ
ভাষা
বাংলা
বিষয়
আকিদা
পৃষ্ঠা
৬১
📖 পিডিএফ পড়ুন ⬇ ডাউনলোড
👁 পড়া হয়েছে ১ বার

এই বইয়ের লেখা এখনও যুক্ত হয়নি; পিডিএফ আকারে পড়ুন।

<ul><li><a href="#t1">তাওহীদের কালেমা: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ [এর ফযীলত, অর্থ, শর্ত ও পরিপন্থী বিষয়]</a>
<ul>
<li><a href="#t2">ভূমিকা</a>
</li>
<li><a href="#t3">তাওহীদের কালেমা: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর ফযীলত</a>
</li>
<li><a href="#t4">হাদীস থেকে কালেমার অন্যান্য ফযীলত</a>
</li>
<li><a href="#t5">লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর শর্তসমূহ</a>
</li>
<li><a href="#t6">লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থ ও বক্তব্য</a>
</li>
<li><a href="#t7">লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষী ভঙ্গকারী কারণসমূহ</a>
</li>
<li><a href="#t8">বিশেষ্য বা সর্বনাম যাই হোক এক শব্দের যিকির বৈধ নয়</a>
</li>
</ul></li>
</ul><h1 class="ltr start" id="p1"><a id="t1" class="anchor"> </a><a href="#t1">তাওহীদের কালেমা: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ <span class="c5">[এর ফযীলত, অর্থ, শর্ত ও পরিপন্থী বিষয়]</span></a></h1><h2 class="ltr start" id="p2"><a id="t2" class="anchor"> </a><a href="#t2">ভূমিকা</a></h2><p class="ltr justify" id="p9">সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের
রব্ব। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য
ইলাহ নেই, তার কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,
মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তার ওপর সালাত ও সালাম প্রেরণ
করুন।</p><p class="ltr justify" id="p10">অতঃপর, বক্ষ্যমাণ পুস্তিকায় সবচেয়ে বরকতময়,
মহান, শ্রেষ্ঠ ও কল্যাণকর কালেমা 'লা-ইলাহা
ইল্লাল্লাহ' এর ফযীলত, মূলবক্তব্য, শর্ত ও পরিপন্থী বিষয়ক অতীব জরুরি সারসংক্ষেপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুস্তিকাটি মূলত আমার লিখা (<span dir="rtl" data-redactor-tag="span">فقه
الأدعية والأذكار</span>) গ্রন্থের একটি অধ্যায়। কতক বন্ধুর আগ্রহে বইটি স্বতন্ত্রভাবে
প্রকাশ করা হলো, যেন তার ফায়েদা ব্যাপক হয় ও তা থেকে উপকৃত হওয়া সবার
জন্য সহজ হয়। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি এতে বরকত
দান করুন এবং স্বীয় বান্দাদের থেকে যার জন্য ইচ্ছা করেন অত্র পুস্তিকাকে হিদায়াতের
উসিলা করুন। আমাদের সবাইকে তিনি সঠিক সোজা পথ প্রদান করুন, তাদের পথ যাদের ওপর নি'আমত দান করেছেন। যেমন,
নবী,
সিদ্দিক, শহীদ ও নেককার বান্দাগণ। বন্ধু
হিসেবে তারাই সর্বোত্তম, আল্লাহ যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম
অভিভাবক। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল
সাথীদের ওপর আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন।</p><p class="ltr left" id="p11">আব্দুর রাযযাক ইবন আব্দুল মুহসিন আল-বদর</p><h2 class="ltr start" id="p3"><a id="t3" class="anchor"> </a><a href="#t3">তাওহীদের কালেমা: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর ফযীলত</a></h2><p class="ltr justify" id="p12">সন্দেহ নেই তাওহীদের কালেমার রয়েছে মহান ফযীলত, অনেক মর্যাদা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা কারো পক্ষেই
অনুসন্ধান করে শেষ করা সম্ভব নয়। কারণ, এ কালেমা সর্বোত্তম, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মহান। এ কালেমার জন্যই মখলুক সৃষ্টি, রাসূলদের প্রেরণ ও কিতাব নাযিল করা। এ
কালেমার জন্য মানুষ কাফির ও মুমিন দু'ভাগে বিভক্ত, কেউ সৌভাগ্যবান
জান্নাতি, কেউ হতভাগা জাহান্নামি। এটাই মজবুত রশি ও তাকওয়ার
কালেমা, দীনের মহান রুকন ও ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এ
কালেমার দ্বারা জান্নাত লাভ হয় ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলে। এ কালেমা জান্নাতের চাবি,
দীনের মূল শিক্ষা, মৌলিক স্তম্ভ ও প্রধান
শিরোনাম। এ কালেমার ফযীলত ও মর্যাদা যেভাবে মূল্যায়ন করা হোক, জ্ঞানীরা তা থেকে যত জ্ঞান আহরণ করুক, কারো পক্ষেই
তা পূর্ণরূপে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p13">﴿شَهِدَ
ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَأُوْلُواْ ٱلۡعِلۡمِ
قَآئِمَۢا بِٱلۡقِسۡطِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ١٨﴾ <span class="c5">[ال عمران: ١٨]</span> </p><p class="ltr justify" id="p14"><span class="c1">“আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোনো <span class="c2" data-redactor-class="c2">(সত্য)</span>
ইলাহ নেই, আর মালায়েকা ও জ্ঞানীগণও <span class="c2">(সাক্ষ্য দেন)</span> ন্যায়ের
ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে। তিনি
ছাড়া কোনো <span class="c2">(সত্য)</span> ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়"</span>। <span class="c5">[সূরা আলে ইমরান,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ১৮]</span> </p><p class="ltr justify" id="p15">তাওহীদের কালেমা, তথা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'কে আল্লাহ তা'আলা সকল নবীর দাওয়াতের নির্যাস ও তাদের রিসালাতের সারাংশ বলেছেন,
যা তার বিশেষ ফযীলত সন্দেহ নেই। যেমন, তিনি বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p16">﴿وَمَآ
أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِيٓ إِلَيۡهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ
إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدُونِ ٢٥﴾ <span class="c5" data-redactor-class="c5">[الانبياء:
٢٥]</span> </p><p class="ltr justify" id="p17"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“আর তোমার পূর্বে আমরা যে রাসূলই পাঠিয়েছি, তার প্রতি আমরা এ ওহী নাযিল
করি যে,
'আমি ছাড়া কোনো <span class="c2">(সত্য)</span> ইলাহ নেই'। সুতরাং
তোমরা আমারই ইবাদত কর"</span>। <span class="c5">[সূরা আল-আম্বিয়া,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২৫]</span> </p><p class="ltr justify" id="p18">অপর আয়াতে তিনি বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p19">﴿وَلَقَدۡ
بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ
٣٦﴾ <span class="c5">[النحل: ٣٦]</span> </p><p class="ltr justify" id="p20"><span class="c1">“আর আমরা অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং পরিহার কর তাগুতকে"</span>। <span class="c5">[সূরা আন-নাহল,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ৩৬]</span> </p><p class="ltr justify" id="p21">সূরা আন-নাহালের শুরুতে আল্লাহ তা'আলা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p22">﴿
يُنَزِّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةَ بِٱلرُّوحِ مِنۡ أَمۡرِهِۦ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦٓ
أَنۡ أَنذِرُوٓاْ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱتَّقُونِ ٢ ﴾ <span class="c5">[النحل: ٢]</span> </p><p class="ltr justify" id="p23"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“তিনি মালায়েকাদের আপন নির্দেশে রূহ দিয়ে নাযিল করেন তার বান্দাদের মধ্যে
যাকে ইচ্ছা তার প্রতি, যেন তোমরা সতর্ক কর যে, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নই। অতএব, তোমরা আমাকে ভয় কর"</span>। <span class="c5">[সূরা আন-নাহল,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২]</span></p><p class="ltr justify" id="p24">অত্র সূরার শুরুতে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের
ওপর একাধিক নিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন, তন্মধ্যে <span dir="rtl">لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ </span> <span class="c2">(অর্থাৎ আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই)</span> সংবলিত আয়াত সর্বপ্রথম। এ থেকে প্রতীয়মান
হয় যে,
তাওহীদের কালেমা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সবচেয়ে
বড় নি'আমত। এ নি'আমতই স্বীয় বান্দাদের ওপর পূর্ণরূপে দান করেছেন
আল্লাহ,<span class="c6"> যেমন তিনি বলেছেন:</span></p><p class="rtl justify" id="p25">﴿وَأَسۡبَغَ
عَلَيۡكُمۡ نِعَمَهُۥ ظَٰهِرَةٗ وَبَاطِنَةٗۗ ٢٠﴾ <span class="c5">[لقمان: ٢٠]</span> </p><p class="ltr justify" id="p26"><span class="c1">“আর তোমাদের প্রতি তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নি'আমত পূর্ণরূপে দিয়েছেন"</span>। <span class="c5">[সূরা লুকমান,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২০]</span> </p><p class="ltr justify" id="p27">মুজাহিদ রহ. বলেন, এখানে নি'আমত দ্বারা উদ্দেশ্য 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'।<a id="ref_1" class="anchor"></a><a href="#note_1" name="r_1" class="fnote">[1]</a></p><p class="ltr justify" id="p28">সুফিয়ান ইবন 'উইয়াইনাহ রহ. বলেন, আল্লাহ তার কোনো বান্দাকে
এমন নি'আমত দেন নি, যা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র অর্থ-জ্ঞান থেকে বড়"!<a id="ref_2" class="anchor"></a><a href="#note_2" name="r_2" class="fnote">[2]</a> </p><p class="ltr justify" id="p29">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> আল্লাহ তা'আলা এ কালেমাকে কুরআনুল কারীমে তায়্যিবাহ বা পবিত্র বলে গুণান্বিত করেছেন। যেমন,
তিনি বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p30">﴿أَلَمۡ
تَرَ كَيۡفَ ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلٗا كَلِمَةٗ طَيِّبَةٗ كَشَجَرَةٖ طَيِّبَةٍ أَصۡلُهَا
ثَابِتٞ وَفَرۡعُهَا فِي ٱلسَّمَآءِ ٢٤ تُؤۡتِيٓ أُكُلَهَا كُلَّ حِينِۢ بِإِذۡنِ
رَبِّهَاۗ وَيَضۡرِبُ ٱللَّهُ ٱلۡأَمۡثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمۡ يَتَذَكَّرُونَ ٢٥﴾ <span class="c5">[ابراهيم: ٢٤، ٢٥]</span> </p><p class="ltr justify" id="p31"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“তুমি কি দেখ না, আল্লাহ কীভাবে উপমা পেশ করেছেন? কালেমা তাইয়্যেবাহ, যা একটি ভালো বৃক্ষের ন্যায়,
যার মূল সুস্থির আর শাখা-প্রশাখা আকাশে। সেটি তার রবের অনুমতিতে সব
সময় ফল দান করে, আর আল্লাহ মানুষের জন্য নানা দৃষ্টান্ত প্রদান
করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে"</span>। <span class="c5">[সূরা ইবরাহীম,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২৪-২৫]</span></p><p class="ltr justify" id="p32">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> আল্লাহ তা'আলা এ কালেমাকে কুরআনুল কারীমে সুদৃঢ় বাণী বলেছেন। যেমন,
তিনি বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p33">﴿يُثَبِّتُ
ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ بِٱلۡقَوۡلِ ٱلثَّابِتِ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَفِي
ٱلۡأٓخِرَةِۖ وَيُضِلُّ ٱللَّهُ ٱلظَّٰلِمِينَۚ وَيَفۡعَلُ ٱللَّهُ مَا يَشَآءُ ٢٧﴾ <span class="c5">[ابراهيم: ٢٧]</span> </p><p class="ltr justify" id="p34"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“আল্লাহ অবিচল রাখেন ইমানদারদেরকে সুদৃঢ় বাণী দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে।
আর আল্লাহ যালিমদের পথভ্রষ্ট করেন এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন"</span>। <span class="c5">[সূরা ইবরাহীম,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২৭]</span></p><p class="ltr justify" id="p35">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> এ কালেমা সেই আদি
ও পুরনো ওয়াদা,<span class="c6"> যার উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারীমের নিম্নের আয়াতে:</span></p><p class="rtl justify" id="p36">﴿لَّا
يَمۡلِكُونَ ٱلشَّفَٰعَةَ إِلَّا مَنِ ٱتَّخَذَ عِندَ ٱلرَّحۡمَٰنِ عَهۡدٗا ٨٧﴾ <span class="c5">[مريم: ٨٧]</span> </p><p class="ltr justify" id="p37"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“যারা পরম করুণাময়ের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে তারা ছাড়া অন্য কেউ সুপারিশ
করার ক্ষমতা রাখবে না"</span>। <span class="c5">[সূরা মারইয়াম,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ৮৭]</span> </p><p class="ltr justify" id="p38">ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, <span class="c1" data-redactor-class="c1">“এখানে 'আহদ' বা প্রতিশ্রুতি
অর্থ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষী প্রদান করা, আর সকল শক্তি
ও সামর্থ্যের ওপর ভরসা ত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করা, এটাই সকল তাকওয়ার মূল"</span>।<a id="ref_3" class="anchor"></a><a href="#note_3" name="r_3" class="fnote">[3]</a></p><p class="ltr justify" id="p39">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> এ কালেমা মজবুত
রশি,
যে আঁকড়ে ধরবে নাজাত পাবে, আর যে আঁকড়ে ধরবে
না ধ্বংস হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p40">﴿فَمَن
يَكۡفُرۡ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤۡمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسۡتَمۡسَكَ بِٱلۡعُرۡوَةِ ٱلۡوُثۡقَىٰ
٢٥٦﴾ <span class="c5">[البقرة: ٢٥٦]</span> </p><p class="ltr justify" id="p41"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“অতএব, যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর
প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়"</span>। <span class="c5">[সূরা আল-বাকারা,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২৫৬]</span> </p><p class="ltr justify" id="p42">অপর আয়াতে তিনি বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p43">﴿وَمَن
يُسۡلِمۡ وَجۡهَهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِ وَهُوَ مُحۡسِنٞ فَقَدِ ٱسۡتَمۡسَكَ بِٱلۡعُرۡوَةِ
ٱلۡوُثۡقَىٰۗ ٢٢﴾ <span class="c5">[لقمان: ٢٢]</span> </p><p class="ltr justify" id="p44"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“আর যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ ও বিশুদ্ধ চিত্তে আল্লাহর কাছে নিজকে সমর্পণ করে,
সে তো শক্ত রশি আঁকড়ে ধরে"</span>। <span class="c5">[সূরা লুকমান,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২২]</span> </p><p class="ltr justify" id="p45">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> এ কালেমা চিরন্তন
বাক্য,
যা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তার পরবর্তী প্রজন্মের ভেতর রেখে গেছেন,
যেন তারা শির্ক থেকে ফিরে আসে। </p><p class="ltr justify" id="p46">আল্লাহ তা'আলা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p47">﴿وَإِذۡ
قَالَ إِبۡرَٰهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوۡمِهِۦٓ إِنَّنِي بَرَآءٞ مِّمَّا تَعۡبُدُونَ
٢٦ إِلَّا ٱلَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُۥ سَيَهۡدِينِ ٢٧ وَجَعَلَهَا كَلِمَةَۢ بَاقِيَةٗ
فِي عَقِبِهِۦ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ ٢٨﴾ <span class="c5">[الزخرف: ٢٦، ٢٨]</span> </p><p class="ltr justify" id="p48"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“আর স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম স্বীয় পিতা ও তার কওমকে
বলেছিল, 'তোমরা যেগুলোর ইবাদাত কর, নিশ্চয় আমি তাদের থেকে সম্পর্কমুক্ত, তবে <span class="c2" data-redactor-class="c2">(তিনি
ছাড়া)</span> যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর নিশ্চয় তিনি আমাকে শীঘ্রই হিদায়াত দিবেন। আর
এটিকে সে তার উত্তরসূরিদের মধ্যে এক চিরন্তন বাণী বানিয়ে রেখে গেল, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করতে পারে"</span>। <span class="c5">[সূরা আয-যুখরুফ,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২৬-২৮]</span> </p><p class="ltr justify" id="p49">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> এটা তাকওয়ার
কালেমা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীদের
ওপর এ কালেমাই আল্লাহ অবধারিত করেছেন, তারাই এর অধিক হকদার ও
উপযুক্ত ছিল, আল্লাহ বলেন, </p><p class="rtl justify" id="p50">﴿إِذۡ
جَعَلَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فِي قُلُوبِهِمُ ٱلۡحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِ
فَأَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَأَلۡزَمَهُمۡ
كَلِمَةَ ٱلتَّقۡوَىٰ وَكَانُوٓاْ أَحَقَّ بِهَا وَأَهۡلَهَاۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِكُلِّ
شَيۡءٍ عَلِيمٗا ٢٦﴾ <span class="c5">[الفتح: ٢٦]</span> </p><p class="ltr justify" id="p51"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“যখন কাফিররা তাদের অন্তরে আত্ম-অহমিকা পোষণ করেছিল, জাহেলী যুগের অহমিকা। তখন আল্লাহ তার রাসূল ও মুমিনদের ওপর স্বীয় প্রশান্তি
নাযিল করলেন এবং তাকওয়ার বাণী তাদের জন্য অপরিহার্য করলেন, আর তারাই ছিল এর সর্বাধিক উপযুক্ত ও এর অধিকারী। আর আল্লাহ হলেন প্রত্যেক
বিষয়ে সর্বজ্ঞ"</span>। <span class="c5">[সূরা আল-ফাতহ,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২৬]</span> </p><p class="ltr justify" id="p52">আবু ইসহাক সুবাই'ঈ বর্ণনা করেন,<span class="c6"> আমর ইবন মায়মুন বলেছেন:</span>
<span class="c1" data-redactor-class="c1">“মানুষ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ থেকে উত্তম কোনো বাক্য উচ্চারণ
করে নি। সা'দ ইবন ইয়াদ বলেন, হে আবু আব্দুল্লাহ, জান এ কালেমা কী? আল্লাহর কসম, এটিই তাকওয়ার কালেমা, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ওপর আল্লাহ যা আবশ্যক করে দিয়েছেন, বস্তুত তারাই এর বেশি হকদার ও উপযুক্ত ছিল"</span>।<a id="ref_4" class="anchor"></a><a href="#note_4" name="r_4" class="fnote">[4]</a> </p><p class="ltr justify" id="p53">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> এ কালেমা চির সত্য
ও চূড়ান্ত বাস্তব কথা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p54">﴿يَوۡمَ
يَقُومُ ٱلرُّوحُ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ صَفّٗاۖ لَّا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنۡ أَذِنَ
لَهُ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَقَالَ صَوَابٗا ٣٨﴾ <span class="c5" data-redactor-class="c5">[النبا:
٣٨]</span> </p><p class="ltr justify" id="p55"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“সেদিন রূহ ও মালায়েকাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন সে ছাড়া অন্যরা কোনো কথা বলবে না,
আর সে ঠিক কথাই বলবে"</span>। <span class="c5">[সূরা আন-নাবা,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ৩৮]</span> </p><p class="ltr justify" id="p56">আলি ইবন আবু তালহা সাহাবী ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে আল্লাহ তা'আলার বাণী: <span dir="rtl">إِلَّا مَنۡ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَقَالَ صَوَابٗا</span> প্রসঙ্গে
বলেন, <span class="c1" data-redactor-class="c1">“তবে আল্লাহ যাকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষী
দিতে বলবেন, একমাত্র সে-ই কথা বলবে। এটাই চূড়ান্ত ও সর্বশেষ
সত্য-কথা"</span>।<a id="ref_5" class="anchor"></a><a href="#note_5" name="r_5" class="fnote">[5]</a></p><p class="ltr justify" id="p57">ইকরিমা রহ. বলেন, <span class="c1" data-redactor-class="c1">“চূড়ান্ত
সত্য হচ্ছে: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ"</span>।<a id="ref_6" class="anchor"></a><a href="#note_6" name="r_6" class="fnote">[6]</a> </p><p class="ltr justify" id="p58">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> এ কালেমা সত্যের
দাওয়াত,<span class="c6" data-redactor-class="c6">
নিম্নের বাণীতে আল্লাহ তা'আলা সত্যের দাওয়াত
বলে এটিই উদ্দেশ্য করেছেন:</span></p><p class="rtl justify" id="p59">﴿لَهُۥ
دَعۡوَةُ ٱلۡحَقِّۚ وَٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ لَا يَسۡتَجِيبُونَ لَهُم بِشَيۡءٍ
إِلَّا كَبَٰسِطِ كَفَّيۡهِ إِلَى ٱلۡمَآءِ لِيَبۡلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَٰلِغِهِۦۚ
وَمَا دُعَآءُ ٱلۡكَٰفِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَٰلٖ ١٤﴾ <span class="c5">[الرعد: ١٤]</span> </p><p class="ltr justify" id="p60"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“সত্যের আহ্বান তাঁরই, আর যারা তাকে ছাড়া অন্যদেরকে
ডাকে, তারা তাদের ডাকে সামান্যও সাড়া দিতে পারে না,
বরং <span class="c2">(তাদের দৃষ্টান্ত)</span> ঐ ব্যক্তির মত, যে
পানির দিকে তার দু'হাত বাড়িয়ে দেয় যেন তার মুখে তা পৌঁছে অথচ তার কাছে তা পৌঁছোবার
নয়, আর কাফেরদের ডাক তো শুধু ভ্রষ্টতায় পর্যবসিত হয়"</span>। <span class="c5">[সূরা আর-রা'দ,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ১৪]</span> </p><p class="ltr justify" id="p61">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> এ কালেমা সত্যিকার
বন্ধন,
এর ভিত্তিতে ইসলামের অনুসারীরা এক কাতারে ঐক্যবদ্ধ হয়। এ কালেমা তাদের
নিকট বন্ধুত্ব ও শত্রুতা এবং মহব্বত ও বিদ্বেষের মানদণ্ড। এ কালেমার কারণে মুসলিম উম্মাহ
এক শরীর ও শীশা-গালা প্রাচীরের ন্যায়, যার এক অংশ অপর অংশ
দ্বারা শক্তিশালী হয়। শাইখ মুহাম্মাদ আমিন শানকিতী রহ. <span class="c2">(আদওয়াউল বায়ান)</span> গ্রন্থে
বলেন,<span class="c6"> “মোদ্দাকথা:</span> মুসলিম উম্মাহর
প্রকৃত বন্ধন, যা বিভিন্ন প্রকার মানুষকে এক করে এবং বিভিন্ন
জাতির মধ্যে মহব্বত সৃষ্টি করে, সেটি হচ্ছে লা-ইলাহা
ইল্লাল্লাহর বন্ধন। তুমি কি লক্ষ্য কর নি, এ কালেমা মুসলিম
উম্মাহকে এক শরীর ও এক দেয়ালের ন্যায় করে দিয়েছে, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে।
এ কালেমা আসমানের ধারক ও তার আশপাশে অবস্থানকারী মালায়েকাদের অন্তরসমূহকে জমিনে বসবাসকারী
আদম সন্তানের ওপর হিতাকাঙ্ক্ষী করে দিয়েছে, অথচ আসমান ও জমিনের
দূরত্ব অনেক, এসব তুমি ভেবে দেখ নি?! </p><p class="ltr justify" id="p62">আল্লাহ তা'আলা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p63">﴿ٱلَّذِينَ
يَحۡمِلُونَ ٱلۡعَرۡشَ وَمَنۡ حَوۡلَهُۥ يُسَبِّحُونَ بِحَمۡدِ رَبِّهِمۡ وَيُؤۡمِنُونَ
بِهِۦ وَيَسۡتَغۡفِرُونَ لِلَّذِينَ ءَامَنُواْۖ رَبَّنَا وَسِعۡتَ كُلَّ شَيۡءٖ رَّحۡمَةٗ
وَعِلۡمٗا فَٱغۡفِرۡ لِلَّذِينَ تَابُواْ وَٱتَّبَعُواْ سَبِيلَكَ وَقِهِمۡ عَذَابَ
ٱلۡجَحِيمِ ٧ رَبَّنَا وَأَدۡخِلۡهُمۡ جَنَّٰتِ عَدۡنٍ ٱلَّتِي وَعَدتَّهُمۡ وَمَن
صَلَحَ مِنۡ ءَابَآئِهِمۡ وَأَزۡوَٰجِهِمۡ وَذُرِّيَّٰتِهِمۡۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡعَزِيزُ
ٱلۡحَكِيمُ ٨ وَقِهِمُ ٱلسَّئَِّاتِۚ وَمَن تَقِ ٱلسَّئَِّاتِ يَوۡمَئِذٖ فَقَدۡ
رَحِمۡتَهُۥۚ وَذَٰلِكَ هُوَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ ٩﴾ <span class="c5">[غافر: ٧، ٩]</span> </p><p class="ltr justify" id="p64"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা তার চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তার প্রতি ঈমান রাখে,
আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলে, 'হে আমাদের
রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রয়েছেন। অতএব,
যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের
আযাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন"</span>। <span class="c5">[সূরা গাফির,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ৭-৯]</span> </p><p class="ltr justify" id="p65">এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ইঙ্গিত করেছেন, আরশ বহনকারী ও তার পাশে যারা রয়েছে তাদের মাঝে ও জমিনে থাকা আদম
সন্তানের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে আল্লাহর প্রতি ঈমান, যে কারণে তারা জমিনবাসীর জন্য মহান ও কল্যাণময় এরূপ দো'আ করেছে"।</p><p class="ltr justify" id="p66">অতঃপর শানকিতী বলেন, <span class="c1" data-redactor-class="c1">“মোদ্দাকথা:
এতে কোনো মুসলিমের দ্বিমত নেই যে,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> জমিনবাসীর পরস্পর সেতুবন্ধন
এবং আসমান ও জমিনে অবস্থানকারীদের সেতুবন্ধন এক ও অভিন্ন কালেমা:</span> 'লা-ইলাহ ইল্লাল্লাহ। অতএব এ কালেমা ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো বস্তুকে <span class="c2" data-redactor-class="c2">(যেমন বংশ,
ভাষা, স্থান, দেশ
ও মতবাদ তথা গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ ইত্যাদিকে)</span> সেতুবন্ধন বানিয়ে তার দিকে আহ্বান
করা কিংবা তার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়া বৈধ নয়"</span>।<a id="ref_7" class="anchor"></a><a href="#note_7" name="r_7" class="fnote">[7]</a></p><p class="ltr justify" id="p67">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> এ কালেমা সবচেয়ে
বড় নেকী বা হাসানাহ। আল্লাহ তা'আলা বলেন,</p><p class="rtl justify" id="p68">﴿مَن
جَآءَ بِٱلۡحَسَنَةِ فَلَهُۥ خَيۡرٞ مِّنۡهَاۖ ٨٤﴾ <span class="c5">[القصص: ٨٤]</span> </p><p class="ltr justify" id="p69"><span class="c1">“কেউ হাসানাহ নিয়ে আসলে তার জন্য থাকবে তা থেকে উত্তম প্রতিদান"</span>। <span class="c5">[সূরা আল-কাসাস,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ৮৪]</span> </p><p class="ltr justify" id="p70">ইবন মাসউদ, ইবন আব্বাস ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু
'আনহুম থেকে বর্ণিত,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াতে হাসানাহ
অর্থ:</span> 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'।<a id="ref_8" class="anchor"></a><a href="#note_8" name="r_8" class="fnote">[8]</a></p><p class="ltr justify" id="p71">ইকরিমাহ রহ. আল্লাহর বাণী<span dir="rtl">﴿</span><span dir="rtl">مَن جَآءَ بِٱلۡحَسَنَةِ فَلَهُۥ خَيۡرٞ مِّنۡهَاۖ</span><span dir="rtl">﴾ </span> প্রসঙ্গে
বলেন,
অর্থাৎ যে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' নিয়ে আসবে,
সে তার কল্যাণ অর্জন করবে, কারণ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ অপেক্ষা
উত্তম কোনো কল্যাণ নেই।<a id="ref_9" class="anchor"></a><a href="#note_9" name="r_9" class="fnote">[9]</a></p><p class="ltr justify" id="p72">মুসনাদ-এ আহমদ ও অন্যান্য গ্রন্থে এসেছে, আবু যর রাদিয়াল্লাহু
আনহু বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর
রাসূল, আমাকে একটি আমল শিক্ষা দিন, যা আমাকে জান্নাতের কাছে ও জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে,<span class="c6"> তিনি বললেন:</span> <span class="c1" data-redactor-class="c1">“যখন মন্দ কিছু কর, তার বিপরীতে ভালো কিছুও কর। কারণ,
প্রত্যেক ভালো তার দশগুণ"</span>। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, লা-<span class="c6" data-redactor-class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহ কি হাসানাহ
বা নেকীর অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন:</span> <span class="c1">“হ্যাঁ, সবচেয়ে বড় হাসানাহ এটিই"</span>।<a id="ref_10" class="anchor"></a><a href="#note_10" name="r_10" class="fnote">[10]</a></p><span class="rtl start"><br class="rtl start"></span><h2 class="ltr start" id="p4"><a id="t4" class="anchor"> </a><a href="#t4">হাদীস থেকে কালেমার অন্যান্য ফযীলত</a></h2><p class="ltr justify" id="p73">পূর্বে আমরা তাওহীদের কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা
করেছি কুরআনুল কারীমের আলোকে। কারণ, এটিই সেই মহান কালেমা, যার জন্য অস্তিত্বে এসেছে আসমান ও জমিন; সৃজিত
হয়েছে সকল মখলুক এবং প্রেরিত হয়েছেন রাসূলগণ। এ কালেমা প্রতিষ্ঠা করার জন্যই শরী'আত
প্রদান ও কিতাব নাযিল করা হয়েছে। আবার এ কালেমার জন্যই দাঁড়ি-পাল্লা স্থাপন, হিসেবের
খাতা খোলা এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বাজার বসবে। মানুষ মুমিন ও কাফির, নেককার ও বদকার দু'ভাগে বিভক্ত এ কালেমার জন্য। আল্লাহর সৃষ্টি ও আদেশ,
সাওয়াব ও শাস্তির মূল রহস্য এ কালেমা। এটি সে
সত্য বাণী, যার ওপর দীন প্রতিষ্ঠিত ও কিবলা নির্ধারিত। কিয়ামতের
দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবাইকে এ কালেমা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। </p><p class="ltr justify" id="p74">বান্দার পা আল্লাহর সম্মুখ থেকে হটবে না,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> যতক্ষণ না তাদেরকে
দু'টি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে:</span> </p><p class="ltr justify" id="p75">১. তোমরা কার ইবাদাত করেছ? </p><p class="ltr justify" id="p76">২. রাসূলদের কী উত্তর দিয়েছ?</p><p class="ltr justify" id="p77">প্রথম প্রশ্নের উত্তর: লা-ইলাহা
ইল্লাল্লাহর অর্থ জানা, তার স্বীকৃতি প্রদান করা ও তার ওপর আমল করে কালেমা
বাস্তবায়ন করা।</p><p class="ltr justify" id="p78">দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: মুহাম্মাদুর
রাসূলুল্লার অর্থ জানা, তাকে আল্লাহর রাসূল হিসেবে স্বীকার করা, তার বশ্যতা মেনে
নেওয়া ও তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে তার রিসালাহ বাস্তবায়ন করা।<a id="ref_11" class="anchor"></a><a href="#note_11" name="r_11" class="fnote">[11]</a></p><p class="ltr justify" id="p79">সন্দেহ নেই, লা-ইলাহা
ইল্লাল্লাহর ফযীলত কারো পক্ষে গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়, কারণ তার ওপর নির্ভর করে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা, প্রতিদান ও সাওয়াব,
তাই তার সব অর্থ কারো অন্তরে উদয় হওয়া বা কল্পনায় আসা সম্ভব নয়। এখানে
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকে কয়েকটি ফযীলত লিপিবদ্ধ
করার চেষ্টা করব।</p><p class="ltr justify" id="p80">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর ফযীলত:</span> এ কালেমার আমল সর্বোত্তম, তার সাওয়াব অনেক বেশি ও অনেক গোলাম আজাদ করার সমান। এ কালেমা তার পাঠকারীর
জন্য শয়তান থেকে ঢালস্বরূপ হয়। যেমন,
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেন,<span class="c6" data-redactor-class="c6">
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:</span></p><p class="rtl justify" id="p81"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«مَنْ
قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ
وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ،
كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ، وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ،
وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ، وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ
يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ، وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ
بِهِ، إِلَّا أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ»</span></p><p class="ltr justify" id="p82">“যে ব্যক্তি প্রত্যেক
দিন একশত বার পাঠ করবে: <span dir="rtl">«</span><span dir="rtl" data-redactor-tag="span">لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ
المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ</span><span dir="rtl">»</span> <span class="c2" data-redactor-class="c2">(অর্থ: আল্লাহ
ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক তার কোনো শরীক নেই, তার জন্যই সকল রাজত্ব এবং তিনি সকল প্রশংসার মালিক, আর তিনিই সকল বস্তুর ওপর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী)</span> এটি তার জন্য দশটি গোলাম
আযাদ করার সমান হবে, তার আমলনামায় এক শত নেকী লিখা হবে এবং
তার আমলনামা থেকে এক শত পাপ মোচন করা হবে। এ কালেমা সে দিন তার জন্য শয়তান থেকে ঢালস্বরূপ
হবে, যতক্ষণ না সে সন্ধ্যায় উপনীত হয়। আর সে যা নিয়ে উপস্থিত হবে তার চেয়ে উত্তম কিছু
নিয়ে কেউ উপস্থিত হবে না, তবে যে এ কালেমা তার চেয়ে বেশি পাঠ
করবে সে ব্যতীত"।<a id="ref_12" class="anchor"></a><a href="#note_12" name="r_12" class="fnote">[12]</a> </p><p class="ltr justify" id="p83">ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু সূত্রে বর্ণনা করেন,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন:</span> </p><p class="rtl justify" id="p84"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«مَنْ
قَالَهَا عَشْرَ مِرّاتٍ كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ أَرْبَعَةَ أَنْفُسٍ مِنْ وَلَدِ
إِسْمَاعِيلَ»</span></p><p class="ltr justify" id="p85"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“যে ব্যক্তি উক্ত
দো'আ দশবার বলবে, সে যেন ইসমাঈলের
বংশধর থেকে চার ব্যক্তিকে মুক্ত করল"</span>।<a id="ref_13" class="anchor"></a><a href="#note_13" name="r_13" class="fnote">[13]</a> </p><p class="ltr justify" id="p86">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> নবীগণ যত অযীফা
পাঠ করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম অযীফা এ কালেমা। আলী রাদিয়াল্লাহু
'আনহু থেকে বর্ণিত,<span class="c6"> নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:</span> “আরাফাতের সন্ধ্যায় আমি এবং আমার পূর্বে নবীগণ যা বলেছি, তন্মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে<a id="ref_14" class="anchor"></a><a href="#note_14" name="r_14" class="fnote">[14]</a>:</p><p class="rtl justify" id="p87"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«لا
إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ، لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ،
وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ»</span></p><p class="ltr justify" id="p88">অপর বর্ণনায় এসেছে: সর্বোত্তম দো'আ 'আরাফাতের দিনের দো'আ। আমি ও আমার পূর্বে
নবীগণ যা বলেছি,<span class="c6"> তন্মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে:</span><a id="ref_15" class="anchor"></a><a href="#note_15" name="r_15" class="fnote">[15]</a></p><p class="rtl justify" id="p89"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«لَا
إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ
الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ»</span></p><p class="ltr justify" id="p90">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> কিয়ামতের দিন এটি
পাপের দফতরের বিপরীত ভারী হয়ে নুয়ে পড়বে। যেমন,
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর হাদীসে এসেছে,<span class="c6" data-redactor-class="c6">
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:</span></p><p class="rtl justify" id="p91"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«يُصَاحُ
بِرَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُءُوسِ الْخَلائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ،
فَيُنْشَرُ لَهُ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ سِجِلا، كُلُّ سِجِلٍّ مِنْهَا مَدُّ
الْبَصَرِ،<span class="c6" data-redactor-class="c6"> ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ عز
وجل لَهُ:</span> " أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا؟<span class="c6"> " فَيَقُولُ:</span> لا
يَا رَبِّ،<span class="c6"> فَيَقُولُ عز وجل:</span> أَلَكَ عُذْرٌ أَوْ حَسَنَةٌ؟ " فَيَهَابُ
الرَّجُلُ،<span class="c6"> فَيَقُولُ:</span> لا يَا رَبِّ،<span class="c6" data-redactor-class="c6"> فَيَقُولُ عز
وجل:</span> بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَاتٍ، وَإِنَّهُ لا ظُلْمَ عَلَيْكَ "،<span class="c6" data-redactor-class="c6">
فَتُخْرَجُ لَهُ بِطَاقَةٌ فِيهَا:</span> أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ
مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ،<span class="c6"> فَيَقُولُ:</span> يَا رَبِّ مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ
مَعَ هَذِهِ السِّجِلاتِ؟<span class="c6"> فَيَقُولُ:</span> إِنَّكَ لا تُظْلَمُ ".<span class="c6">قَالَ:</span> فَتُوضَعُ
السِّجِلاتُ فِي كِفَّةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كِفَّةٍ، فَطَاشَتِ السِّجِلاتُ
وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ»</span></p><p class="ltr justify" id="p92">“কিয়ামতের দিন সকল মানুষের
সামনে আমার উম্মত থেকে এক ব্যক্তিকে চিৎকার করে ডাকা হবে, অতঃপর তার নিরানব্বইটি দফতর পেশ করা হবে, প্রত্যেক
দফতরের দৈর্ঘ্য হবে চোখের দৃষ্টি সমপরিমাণ,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> অতঃপর আল্লাহ
তা'আলা বললেন:</span> এসব থেকে কোনোও একটি তুমি অস্বীকার কর?
সে বলবে: না,<span class="c6"> হে আমার রব। আল্লাহ বলবেন:</span>
তোমার কোনো অজুহাত অথবা কোনো নেকী আছে কি? লোকটি ভয় পেয়ে যাবে
এবং বলবে, হে আমার রব্ব,<span class="c6"> না কোনো নেকী নেই। আল্লাহ বলবেন:</span> অবশ্যই, আমাদের কাছে তোমার একটি নেকী আছে, আর নিশ্চিত থাক
তোমার ওপর যুলুম করা হবে না, এরপর একটি কার্ড পেশ করা হবে,<span class="c6" data-redactor-class="c6">
যেখানে থাকবে:</span></p><p class="rtl justify" id="p93"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«أَشْهَدُ
أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ»</span></p><p class="ltr justify" id="p94">লোকটি বলবে: হে আমার রব,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> এসব দফতরের বিপরীতে এ
কার্ডের মূল্য কী? আল্লাহ বলবেন:</span> তুমি যুলমের শিকার হবে না।
তিনি বলেন, অতঃপর সকল দফতর এক পাল্লায় আর কার্ডটি রাখা হবে
অপর পাল্লায়, তখন দফতরগুলো উপরে উঠে যাবে আর কালেমার কার্ড
ভারী হয়ে নুয়ে পড়বে"।<a id="ref_16" class="anchor"></a><a href="#note_16" name="r_16" class="fnote">[16]</a> </p><p class="ltr justify" id="p95">এতে সন্দেহ নেই যে, উক্ত ব্যক্তি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে
'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে, সে জন্যই তার কার্ডটি সকল দফতরকে হালকা করে নিজে
ভারী হয়ে নুয়ে পড়েছে। কারণ মানুষের অন্তরে থাকা ঈমানের তারতম্যের ফলে আমলও তারতম্য
হয়, অন্যথায় সে ময়দানে এরূপ লোক অনেক থাকবে, যারা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে, কিন্তু তার মত তাদের সাওয়াব হাসিল হবে না। কারণ, তাদের অন্তরে কালেমার ঈমান
দুর্বল ছিল। ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু সূত্রে বর্ণনা করেন,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন:</span></p><p class="rtl justify" id="p96"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«يَخْرُجُ
مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ
شَعِيرَةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا
اللَّهُ وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ بُرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ»</span></p><p class="ltr justify" id="p97">“যে <span dir="rtl">لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ</span> বলেছে এবং তার অন্তরে যবের ওজন পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে
সে জাহান্নাম থেকে বের হবে। জাহান্নাম
থেকে সেও বের হবে, যে <span dir="rtl">لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ</span> বলেছে এবং তার অন্তরে গম পরিমাণ কল্যাণ
রয়েছে। আবার জাহান্নাম থেকে সেও বের হবে, যে <span dir="rtl">لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ</span> বলেছে এবং তার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে"।<a id="ref_17" class="anchor"></a><a href="#note_17" name="r_17" class="fnote">[17]</a> </p><p class="ltr justify" id="p98">এ থেকে সাব্যস্ত হয় 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা সবাই সমান নয়, সমানভাবে সবাই তার ঈমান ধারণ করে নি।</p><p class="ltr justify" id="p99">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> যদি আসমান ও জমিনকে
এ কালেমার বিপরীতে ওজন করা হয়, তবুও তা নুয়ে পড়বে। যেমন,
আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,</p><p class="rtl justify" id="p100"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«أنَّ
نُوحًا قَالَ لِابْنِهِ عند موته: آمُرُكَ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِنَّ
السَّمَوَاتِ السَّبْعَ، وَالْأَرْضِينَ السَّبْعَ، لَوْ وُضِعَتْ فِي كِفَّةٍ،
وَوُضِعَتْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي كِفَّةٍ، رَجَحَتْ بِهِنَّ لَا إِلَهَ
إِلَّا اللَّهُ، وَلَوْ أَنَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعَ كُنَّ حَلْقَةً مُبْهَمَةً،
لقَصَمَتْهُنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»</span></p><p class="ltr justify" id="p101">“নূহ আলাহিস সালাম মৃত্যুর
সময় স্বীয় সন্তানকে বলেছেন: আমি তোমাকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর নির্দেশ দিচ্ছি। কারণ,
যদি সাত আসমান ও সাত জমিন এক পাল্লায় রাখা হয় আর লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে অপর পাল্লায়
রাখা হয়,
তবুও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ তাদের বিপরীত নুয়ে পড়বে। আর যদি সাত আসমান
এক বৃত্তে পরিণত হয় তবুও 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তাকে হালকা করে দিবে।<a id="ref_18" class="anchor"></a><a href="#note_18" name="r_18" class="fnote">[18]</a> </p><p class="ltr justify" id="p102">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> আল্লাহর সাথে এ
কালেমার কোনো পর্দা নেই, বরং সকল পর্দা ভেদ করে সে আল্লাহ পর্যন্ত
পৌঁছে যায়। তিরমিযি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা
করেন,<span class="c6"> নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:</span></p><p class="rtl justify" id="p103"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«مَا
قَالَ عَبْدٌ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَطُّ مُخْلِصًا إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ
أَبْوَابُ السَّمَاءِ حَتَّى تُفْضِيَ إِلَى الْعَرْشِ مَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ»</span></p><p class="ltr justify" id="p104">“কোন বান্দা যখনি অন্তরের
অন্তঃস্থল থেকে <span dir="rtl">«</span><span dir="rtl">لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ</span><span dir="rtl">»</span> বলেছে, তখনি অবশ্যই তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয়েছে, যেন তা আরশ পর্যন্ত
পৌঁছে যায়, যাবত সে কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে"।<a id="ref_19" class="anchor"></a><a href="#note_19" name="r_19" class="fnote">[19]</a> </p><p class="ltr justify" id="p105">লা-<span class="c6">ইলাহা ইল্লাল্লাহর অপর ফযীলত:</span> এ কালেমা যে বলবে
তার জন্য তা নাজাতস্বরূপ হবে। সহীহ
মুসলিমে এসেছে,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক মুয়াযযিনকে
বলতে শুনলেন:</span> <span dir="rtl">«</span><span dir="rtl">أشهد أن لاإله إلاالله</span><span dir="rtl">»</span> <span class="c2" data-redactor-class="c2">(আমি সাক্ষ্য
দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই)</span>। তিনি
বললেন:
<span dir="rtl">«</span><span dir="rtl">خَرَجَ مِنَ النَّارِ</span><span dir="rtl">»</span> <span class="c1" data-redactor-class="c1">“সে জাহান্নাম
থেকে মুক্তি পেল"</span>।<a id="ref_20" class="anchor"></a><a href="#note_20" name="r_20" class="fnote">[20]</a> </p><p class="ltr justify" id="p106">ইতবান রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন,<span class="c6"> নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:</span></p><p class="rtl justify" id="p107"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«إِنَّ
اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، يَبْتَغِي
بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ»</span></p><p class="ltr justify" id="p108"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“নিশ্চয় যে আল্লাহর
সন্তুষ্টি অর্জন করার উদ্দেশ্যে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, আল্লাহ তাকে আগুনের ওপর হারাম

পাঠকের মন্তব্য (০)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

ছবিসহ ও লিংকসহ মন্তব্য অ্যাডমিন দেখে প্রকাশ করেন।

একই বিষয়ের বই

সবগুলো →