উন্মুক্ত ইসলামি গ্রন্থাগার 📲 অ্যাপ ইনস্টল করুন
কামেলাইসলামি ডিজিটাল লাইব্রেরি
অতি গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় প্রশ্নোত্তর

অতি গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় প্রশ্নোত্তর

লেখক
আব্দুর রহমান ইবন নাসের আস-সা‘দী, আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, আব্দুল্লাহ আল-মামুন আল-আযহারী
অনুবাদক
আব্দুল্লাহ আল-মামুন আল-আযহারী
ভাষা
বাংলা
বিষয়
আকিদা
পৃষ্ঠা
৬১
📖 পিডিএফ পড়ুন ⬇ ডাউনলোড
👁 পড়া হয়েছে ১ বার

এই বইয়ের লেখা এখনও যুক্ত হয়নি; পিডিএফ আকারে পড়ুন।

<ul><li><a href="#t1">অতি গুরুত্বপূর্ণ
কতিপয় প্রশ্নোত্তর</a>
<ul>
<li><a href="#t2">ভূমিকা</a>
</li>
<li><a href="#t3">প্রথম প্রশ্ন: তাওহীদের সংজ্ঞা কী? তাওহীদ কত
প্রকার? </a>
</li>
<li><a href="#t4">দ্বিতীয় প্রশ্ন: ঈমান ও ইসলাম কী? এ দু'টির সাধারণ মূলনীতি কী? </a>
</li>
<li><a href="#t5">তৃতীয় প্রশ্ন: আল্লাহর নামসমূহ ও সিফাতের সাথে
ঈমানের আরকান কী কী? </a>
</li>
<li><a href="#t6">চতুর্থ প্রশ্ন: আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে এবং
তিনি 'আরশে উপবিষ্ট এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? </a>
</li>
<li><a href="#t7">পঞ্চম প্রশ্ন: দুনিয়ার আসমানে (প্রথম আসমানে)
আল্লাহর রহমত নাযিল হয় এবং তিনি নিজে আসেন এ সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? </a>
</li>
<li><a href="#t8">ষষ্ঠ প্রশ্ন: আল্লাহর কালাম ও কুরআনের ব্যাপারে
আপনার মতামত কী?</a>
</li>
<li><a href="#t9">সপ্তম প্রশ্ন: সাধারণভাবে ঈমান কী? ঈমান কি বাড়ে
কমে? </a>
</li>
<li><a href="#t10">অষ্টম প্রশ্ন: সম্পূর্ণ ফাসিকের হুকুম কী?</a>
</li>
<li><a href="#t11">নবম প্রশ্ন: মুমিনদের স্তর কয়টি ও কী কী? </a>
</li>
<li><a href="#t12">দশম প্রশ্ন: বান্দার কাজসমূহের হুকুম কী? </a>
</li>
<li><a href="#t13">একাদশতম প্রশ্ন: শির্ক কী? শির্কের প্রকারভেদ কী কী?</a>
</li>
<li><a href="#t14">দ্বাদশতম প্রশ্ন: আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিস্তারিত
বিবরণ কী? </a>
</li>
<li><a href="#t15">ত্রয়োদশতম প্রশ্ন: নবীদের প্রতি ঈমানের বিস্তারিত
ব্যাখ্যা কী ধরণের? </a>
</li>
<li><a href="#t16">চতুর্দশতম প্রশ্ন: কাদ্বা ও কাদর তথা তাকদীরের প্রতি
ঈমানের স্তর কয়টি ও কী কী? </a>
</li>
<li><a href="#t17">পঞ্চদশতম প্রশ্ন: আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান বলতে কী
বুঝায়? কোন কোন বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করে? </a>
</li>
<li><a href="#t18">ষষ্ঠাদশতম প্রশ্ন: নিফাক কী? এর প্রকার ও আলামত কী
কী? </a>
</li>
<li><a href="#t19">সপ্তদশতম প্রশ্ন: বিদ'আত কী? বিদ'আত কত প্রকার ও কী
কী?</a>
</li>
<li><a href="#t20">অষ্টাদশতম প্রশ্ন: আপনার ওপর মুসলিমের হক
(দায়িত্ব-কর্তব্য) কী?</a>
</li>
<li><a href="#t21">ঊনবিংশতম প্রশ্ন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী? </a>
</li>
<li><a href="#t22">বিংশতম প্রশ্ন: ইমাম তথা উম্মতের ইমাম থাকার
ব্যাপারে আপনার মতামত কী?</a>
</li>
<li><a href="#t23">একবিংশতম প্রশ্ন: সিরাতুল মুস্তাকীম কী? এর
বৈশিষ্ট্য কী কী?</a>
</li>
<li><a href="#t24">দ্বাবিংশতম প্রশ্ন: কী কী গুণের কারণে মুসলিম
ব্যক্তি কাফির ও নাস্তিক থেকে আলাদা হবে? </a>
</li>
<li><a href="#t25">প্রশ্ন: এক ব্যক্তি বৃহৎ দীনের (ইসলামের) মূলনীতি
সংক্ষেপে জানতে প্রশ্ন করেছেন। </a>
</li>
<li><a href="#t26">দ্বিতীয় উসূল: সমস্ত নবীদের প্রতি সাধারণভাবে এবং
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বিশেষভাবে ঈমান আনয়ন করা</a>
</li>
<li><a href="#t27">তৃতীয় উসূল: কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান</a>
</li>
<li><a href="#t28">চতুর্থ উসূল: ঈমান সম্পর্কে মাসআলা</a>
</li>
<li><a href="#t29">পঞ্চম উসূল: ইলম ও আমলের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামা'আতের পদ্ধতি</a>
</li>
</ul></li>
</ul><h1 class="ltr start" id="p1"><a id="t1" class="anchor"> </a><a href="#t1">অতি গুরুত্বপূর্ণ
কতিপয় প্রশ্নোত্তর</a></h1><h2 class="ltr start" id="p2"><a id="t2" class="anchor"> </a><a href="#t2">ভূমিকা</a></h2><p class="ltr justify" id="p30">সমস্ত প্রশংসা সে মহান আল্লাহ তা'আলার যার রয়েছে সুন্দর নামসমূহ, পরিপূর্ণ গুণাবলী ও অফুরন্ত নি'আমতরাজি। দুরুদ
ও সালাম পেশ করছি দীন, দুনিয়া ও আখিরাতের সংস্কারের নিমিত্তে প্রেরিত নবী
মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। </p><p class="ltr justify" id="p31">অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে দীনের সে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি
ও ঈমানের উসূলসমূহ আলোচনা করা হয়েছে যা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয়।
এগুলোকে আমি প্রশ্নোত্তর আকারে সাজিয়েছি, যাতে পাঠকের বুঝতে ও অনুধাবন করতে সহজ
হয়। এ
গুলোকে আমি শিক্ষা দেওয়া ও শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা করেছি। </p><h2 class="ltr start" id="p3"><a id="t3" class="anchor"> </a><a href="#t3">প্রথম প্রশ্ন: তাওহীদের সংজ্ঞা কী? তাওহীদ কত
প্রকার? </a></h2><p class="ltr justify" id="p32">উত্তর: তাওহীদের সব প্রকারের সমন্বিত
পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা হলো: পরিপূর্ণ গুণের সমন্বয়ে রবের একত্বতা সম্পর্কে বান্দার
জ্ঞান, বিশ্বাস, স্বীকৃতি ও ঈমান এবং এতে রবকে একক হিসেবে মানা, এ বিশ্বাস স্থাপন
করা যে, তাঁর কোনো শরীক নেই, তাঁর পূর্ণতায় কোনো উপমা নেই, তিনি সমস্ত বান্দার
জন্য ইলাহ ও মা'বুদ <span class="c2" data-redactor-class="c2">(ইবাদতের
একমাত্র যোগ্য)</span>, অতঃপর সব ধরণের ইবাদাতের ক্ষেত্রে তাঁকে একক রাখা <span class="c2" data-redactor-class="c2">(কাউকে শরীক না
করা)</span>। </p><p class="ltr justify" id="p33">তাহলে উপরোক্ত সংজ্ঞায় তাওহীদের তিন প্রকারই শামিল করেছে। তা হলো: </p><p class="ltr justify" id="p34">প্রথমত: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত: রবকে একমাত্র
সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, পরিচালনাকারী ও লালন পালনকারী হিসেবে স্বীকার করা। </p><p class="ltr justify" id="p35">দ্বিতীয়ত: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত:
আল্লাহ নিজের জন্য যেসব নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন বা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য যেসব নাম ও গুণাবলী
সাব্যস্ত করেছেন এবং কোনো সাদৃশ্য
ও উপমা ব্যতীত, বিকৃতি ও পরিবর্তন ব্যতিরেকে
যেসব গুণাবলী এগুলোর ওপর প্রমাণ করে সে গুলো আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা।</p><p class="ltr justify" id="p36">তৃতীয়ত: তাওহীদুল ইবাদাত: সব ধরণের ইবাদাতের
জন্য আল্লাহকে এক ও একক করা এবং তাঁর সাথে শির্ক না করে ইবাদতে একনিষ্ঠ থাকা। অতঃএব,
তাওহীদের উপরোক্ত প্রকারসমূহ সম্পূর্ণরূপে ধারণ না করলে ও এ গুলোকে প্রতিষ্ঠা না করলে বান্দা মুয়াহহিদ
তথা একত্ববাদী হতে পারবে না। </p><h2 class="ltr start" id="p4"><a id="t4" class="anchor"> </a><a href="#t4">দ্বিতীয় প্রশ্ন: ঈমান ও ইসলাম কী? এ দু'টির সাধারণ মূলনীতি কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p37">উত্তর: ঈমান হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু আদেশ করেছেন সেগুলোর ওপর
দৃঢ় ঈমান স্থাপন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করাকে বলে ইসলাম। একমাত্র আল্লাহর সমীপে
আত্মসমর্পণ করা ও তাঁরই আনুগত্য স্বীকার করাকে ইসলাম বলে। </p><p class="ltr justify" id="p38">ঈমান ও ইসলামের সাধারণ মূলনীতি নিম্নোক্ত আয়াতে একত্রিত হয়েছে। আল্লাহ
তা'আলা বলেছেন, </p><p class="rtl justify" id="p39">﴿قُولُوٓاْ
ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيۡنَا وَمَآ أُنزِلَ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِۧمَ
وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ وَٱلۡأَسۡبَاطِ وَمَآ أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ
وَمَآ أُوتِيَ ٱلنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمۡ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّنۡهُمۡ
وَنَحۡنُ لَهُۥ مُسۡلِمُونَ١٣٦﴾ <span class="c5">[البقرة: ١٣٦]</span> </p><p class="ltr justify" id="p40"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“তোমরা বল, 'আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর ওপর এবং
যা নাযিল করা হয়েছে আমাদের ওপর ও যা নাযিল করা হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব
ও তাদের সন্তানদের ওপর, আর যা প্রদান করা হয়েছে মূসা ও ঈসাকে এবং যা প্রদান করা
হয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে নবীগণকে। আমরা তাদের কারো মধ্যে তারতম্য করি না। আর
আমরা তাঁরই অনুগত"</span>। <span class="c5">[সূরা আল-বাকারা,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ১৩৬]</span> </p><p class="ltr justify" id="p41">রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে জিবরীলে ও
অন্যান্য হাদীসে ঈমান ও ইসলামের ব্যাখ্যায় বলেছেন, </p><p class="rtl justify" id="p42"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«الْإِيمَانُ
أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ
الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ والْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ
أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ
رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ»</span>. </p><p class="ltr justify" id="p43"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“ঈমান হলো আল্লাহর প্রতি,
তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের
প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান
আনবে, আর তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। ইসলাম
হলো, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো <span class="c2">(সত্য)</span> ইলাহ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমযানের সাওম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহর হজ পালন করবে।"</span><a id="ref_1" class="anchor"></a><a href="#note_1" name="r_1" class="fnote">[1]</a></p><p class="ltr justify" id="p44">এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানকে অন্তরের
বিশ্বাস ও ইসলামকে শরী'আতের বাহ্যিক আমলের দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। </p><h2 class="ltr start" id="p5"><a id="t5" class="anchor"> </a><a href="#t5">তৃতীয় প্রশ্ন: আল্লাহর নামসমূহ ও সিফাতের সাথে
ঈমানের আরকান কী কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p45">উত্তর: আসমাউল হুসনা তথা আল্লাহর সুন্দর
নামসমূহের প্রতি ঈমান, এসব নামসমূহ থেকে নির্গত সিফাত তথা গুণসমূহের প্রতি ঈমান ও এসব
নামের সিফাতের আহকাম ও এর সম্পৃক্ততার প্রতি ঈমান আনা। অতএব, আমরা ঈমান আনব যে,
আল্লাহ আলীম তথা মহাজ্ঞানী, সব কিছুর ওপর তাঁর পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান রয়েছে। তিনি কাদীর
তথা সর্বশক্তিমান, তিনি মহাশক্তির অধিকারী, সব কিছুর ওপর তাঁর শক্তি রয়েছে। আবার
তিনি রাহীম তথা পরম দয়ালু, দয়াবান, প্রশস্ত দয়ার অধিকারী, যাকে ইচ্ছা তিনি দয়া
করেন। এভাবে বাকী আসমাউল হুসনা তথা আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ, সিফাতসমূহ ও এর থেকে
নির্গত গুণসমূহের প্রতি ঈমান আনয়ন করা। </p><h2 class="ltr start" id="p6"><a id="t6" class="anchor"> </a><a href="#t6">চতুর্থ প্রশ্ন: আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে এবং
তিনি 'আরশে উপবিষ্ট এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p46">উত্তর: আমরা জানি আমাদের রব মহান আল্লাহ
সবদিক থেকে ঊর্ধ্বে ও উপরে। স্বত্বাগত দিক থেকে তিনি সবার ঊর্ধ্বে। ক্ষমতা ও গুণের
দিক থেকেও সবার ঊর্ধ্বে। তিনি শক্তি ও পরাক্রমশালিতায়ও সবার ঊর্ধ্বে। তিনি সৃষ্টিকুল থেকে
সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি আমাদেরকে যেভাবে বলেছেন সেভাবে তিনি
'আরশে উপবিষ্ট আছেন। তাঁর উপবিষ্টটা আমাদের জ্ঞাত, কিন্তু উপবিষ্টের ধরণ আমাদের
অজ্ঞাত। তিনি কুরআনে আমাদেরকে বলেছেন, তিনি 'আরশে উপবিষ্ট, তবে কীভাবে উপবিষ্ট তা
আমাদেরকে বলেন নি। এভাবেই আমরা আল্লাহর অন্যান্য সিফাতের ব্যাপারে বলব যে, তিনি
সেগুলো সম্পর্কে আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, তবে সেগুলোর ধরণ সম্পর্কে তিনি কিছু
বলেন নি। অতএব, আমাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ তাঁর কিতাবে
এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর
সম্পর্কে যা বলেছেন সেগুলোর প্রতি যেভাবে এসেছে সেভাবেই ঈমান আনব এবং এ সম্পর্কে
বেশি বা কম কিছু করব না। </p><h2 class="ltr start" id="p7"><a id="t7" class="anchor"> </a><a href="#t7">পঞ্চম প্রশ্ন: দুনিয়ার আসমানে <span class="c2">(প্রথম আসমানে)</span>
আল্লাহর রহমত নাযিল হয় এবং তিনি নিজে আসেন এ সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p47">উত্তর: আল্লাহ নিজের জন্য যেসব গুণ যেমন
রহমত, সন্তুষ্টি, জমিনে অবতরণ করা, আগমন করা ইত্যাদি যা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে যেসব গুণ বর্ণনা করেছেন যা
সৃষ্টির সাথে কোনো উপমা ও সদৃশ হয় না সেগুলোর প্রতি আমরা ঈমান আনি ও দৃঢ়
বিশ্বাস করি। তাঁর অনুরূপ কিছু নেই। আল্লাহর যাতের অনুরূপ কোনো যাত নেই।
এমনিভাবে আল্লাহর সিফাত আছে যা অন্যের সিফাতের <span class="c2">(গুণের)</span> সদৃশ নয়। একথার প্রমাণ
হলো, কুরআন ও হাদীসে যেসব গুণের বিস্তারিত বর্ণনা আছে, আল্লাহর যেসব গুণের
প্রশংসা রয়েছে এবং যেসব গুণ সাধারণভাবে তাঁর সদৃশ, সমকক্ষ, সমতা ও অংশীদার মুক্ত সেগুলো সাব্যস্ত করা। </p><h2 class="ltr start" id="p8"><a id="t8" class="anchor"> </a><a href="#t8">ষষ্ঠ প্রশ্ন: আল্লাহর কালাম ও কুরআনের ব্যাপারে
আপনার মতামত কী?</a></h2><p class="ltr justify" id="p48">উত্তর: আমরা বলব, আল-কুরআন আল্লাহর কালাম,
এটি তাঁর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত, এটি তাঁর সৃষ্টি নয় এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাবে। এর
শব্দ ও অর্থ স্বয়ং আল্লাহই কথা বলেছেন, তবে কুরআন আযালী <span class="c2" data-redactor-class="c2">(সর্বদা বিদ্যমান ছিলো
এমন)</span> নয়। আল্লাহর যখন ইচ্ছা তখন কথা বলেন ও বলবেন, তাঁর কথা নিঃশেষ হবার নয় এবং এর
শেষ সীমাও নেই। </p><b class="rtl start"><span class="rtl start" data-redactor-tag="span"><br class="rtl start"></span></b><h2 class="ltr start" id="p9"><a id="t9" class="anchor"> </a><a href="#t9">সপ্তম প্রশ্ন: সাধারণভাবে ঈমান কী? ঈমান কি বাড়ে
কমে? </a></h2><p class="ltr justify" id="p49">উত্তর: অন্তরের বিশ্বাসসমূহ ও কাজ, তদনুযায়ী
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্ম সম্পাদন এবং জিহ্বা তথা জবানের স্বীকৃতিকে ঈমান বলে। অতএব, দীনের উসূল ও ফুরু' <span class="c2">(মৌলিক নীতি ও শাখা-প্রশাখা)</span> সব কিছুই ঈমানের
মধ্যে শামিল। ফলে বিশ্বাসের শক্তি, ভালো আমল ও উত্তম কথাবার্তার কম-বেশির কারণে
ঈমান বাড়ে ও কমে। </p><h2 class="ltr start" id="p10"><a id="t10" class="anchor"> </a><a href="#t10">অষ্টম প্রশ্ন: সম্পূর্ণ ফাসিকের হুকুম কী?</a></h2><p class="ltr justify" id="p50">উত্তর: যে ব্যক্তি মুমিন ও তাওহীদে
বিশ্বাসী কিন্তু বারবার গুনাহের কাজ করে সে ব্যক্তি মুমিন, যেহেতু তার ঈমান আছে,
তবে সে ফাসিক। কেননা সে ঈমানের চাহিদা পূরণ করে নি, সে ব্যক্তি অপূর্ণাঙ্গ
ঈমানদার। এ ধরণের লোকেরা ঈমানের কারণে আল্লাহর ওয়াদাকৃত নি'আমতের অধিকারী হওয়ার
যোগ্য আবার পাপের কারণে আল্লাহর শাস্তিরও প্রাপ্য। এতদসত্বেও সে ব্যক্তি
জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না। কেননা সাধারণত পূর্ণ ঈমান থাকলেই তা জাহান্নামে
প্রবেশ করতে বারণ করে আর অপূর্ণ ঈমান হলে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হতে বারণ করে। </p><h2 class="ltr start" id="p11"><a id="t11" class="anchor"> </a><a href="#t11">নবম প্রশ্ন: মুমিনদের স্তর কয়টি ও কী কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p51">উত্তর: মুমিনগণ তিন প্রকারের। একদল হলো
সাবিকূনা ইলাল খাইরাত তথা কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী। তারা হলো সেসব লোক
যারা ফরয ও মুস্তাহাব যথাযথভাবে পালন করে এবং হারাম ও মাকরূহ থেকে বিরত থাকে।
দ্বিতীয় দল হলো মুকতাসিদূন তথা মধ্যপন্থী। তারা হলো সেসব লোক যারা ফরয কাজসমূহ
আদায় করেছেন আর হারাম বর্জন করেছেন। আর তৃতীয় দল হলো যালিমূনা লিআনফুসিহিম তথা
নিজেদের ওপর যুলুমকারী। তারা সেসব লোক যারা ভালো ও মন্দ উভয় ধরণের কাজ করেছেন। </p><h2 class="ltr start" id="p12"><a id="t12" class="anchor"> </a><a href="#t12">দশম প্রশ্ন: বান্দার কাজসমূহের হুকুম কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p52">উত্তর: বান্দার ভালো-মন্দ সব কাজই
আল্লাহর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁরই ইচ্ছায় ও ক্ষমতায় সম্পন্ন হয়ে থাকে; তবে
বান্দা নিজেই এসব কাজের কর্তা।
আল্লাহ কাউকে জবরদস্তি করেন না;
যদিও সব কাজ তাঁরই ইচ্ছা ও শক্তিতে সংঘটিত হয়ে থাকে। এসব কাজ মূলত বান্দার নিজেরই
কর্ম। তারা এসব কাজের দ্বারা নিজেরাই প্রশংসিত বা নিন্দিত হয়, ভালো কাজে পুরস্কৃত
হয় আর মন্দ কাজে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়। বান্দার কাজসমূহ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সৃষ্টি।
কেননা আল্লাহ এসব কাজ সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই তাদেরকে এসব কাজ করার ইচ্ছা ও
সামর্থ্য প্রদান করেছেন। অতএব, এভাবেই যা কিছুই সংঘটিত হয়
সেগুলো সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহের দলীল অনুযায়ী আমরা বিশ্বাস করি এসব কিছু
আল্লাহর সৃষ্টি ও ব্যক্তি, গুণাবলী ও কাজ সব কিছুর ওপরই তাঁর কুদরত রয়েছে।
এমনিভাবে কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারে আমরা আরো বিশ্বাস করি যে, ভালো-মন্দ কাজের মূল
কর্তা বান্দা নিজেই। তারা তাদের কাজের ব্যাপারে স্বাধীন। তারা তাদের পছন্দানুযায়ী
ভালো বা মন্দ যে কোনো কাজ করতে পারে। আল্লাহ শুধু তাদের সামর্থ্য ও ইচ্ছাশক্তির
স্রষ্টা। আর এ দুটো <span class="c2">(সামর্থ্য ও ইচ্ছাশক্তি)</span> তাদের কাজ ও কথাবার্তা সংঘটিত হওয়ার
উপায় মাত্র। আর বস্তুর পূর্ণ উপকরণ সৃষ্টিকারীই বস্তুটির <span class="c2">(মুসাববাবের)</span> স্রষ্টা।
আল্লাহ তাদেরকে কাজ করানোর জন্য জবরদস্তি করা থেকে পুত:পবিত্র, সুমহান ও সর্বাধিক
ন্যায়পরায়ণ। </p><b class="rtl start"><span class="rtl start" data-redactor-tag="span"><br class="rtl start"></span></b><h2 class="ltr start" id="p13"><a id="t13" class="anchor"> </a><a href="#t13">একাদশতম প্রশ্ন: শির্ক কী? শির্কের প্রকারভেদ কী কী?</a></h2><p class="ltr justify" id="p53">উত্তর: রুবুবিয়্যাতের<a id="ref_2" class="anchor"></a><a href="#note_2" name="r_2" class="fnote">[2]</a> মধ্যে শির্ক দুই প্রকার। তা
হলো: বান্দার এ বিশ্বাস যে, কিছু সৃষ্টি বা কিছু পরিচালনার মধ্যে আল্লাহর সাথে
কেউ শরীক আছেন। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো, ইবাদাতের মধ্যে শির্ক করা। এটা আবার দু
ধরণের। বড় শির্ক ও ছোট শির্ক। বড় শির্ক হলো যে কোনো ধরণের ইবাদাত আল্লাহ ছাড়া
অন্য কারো জন্য করা। যেমন, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকা বা কারো কাছে কিছু আশা
করা বা কাউকে ভয় করা ইত্যাদি। এ ধরণের লোক দীনের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে এবং
জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। আর ছোট শির্ক হলো, যে কাজগুলো মানুষকে বড় শির্কের
দিকে নিয়ে যায়। যেমন, আল্লাহ ছাড়া কারো নামে শপথ করা ও লোক দেখানো উদ্দেশ্যে
ইবাদাত করা ইত্যাদি। </p><h2 class="ltr start" id="p14"><a id="t14" class="anchor"> </a><a href="#t14">দ্বাদশতম প্রশ্ন: আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিস্তারিত
বিবরণ কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p54">উত্তর: আমরা অন্তরের বিশ্বাস ও মৌখিক
স্বীকৃতি দ্বারা স্বীকার করি যে, আল্লাহ ওয়াজিবুল উজূদ তথা সর্বদা তাঁর অস্তিত্ব
থাকা অত্যাবশ্যকীয়, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সব পূর্ণ
গুণাবলীতে, মর্যাদায়, বড়ত্বে, অহংকারে, শ্রেষ্ঠত্বে তিনি একক ও অদ্বিতীয়। সব
গুণাবলীতে তাঁর রয়েছে পরিপূর্ণ পূর্ণতা যেখানে সৃষ্টিকুলের পক্ষে পৌঁছা অসম্ভব।
তিনিই প্রথম, তাঁর আগে কিছু নেই, তিনিই শেষ, তাঁর পরে আর কিছু থাকবে না, তিনিই
যাহির তথা সদাভাস্বর, দৃশ্যমান, তাঁর চেয়ে কোনো কিছুই স্পষ্ট নেই, তিনিই বাতিন
তথা সবচেয়ে নিগূঢ় সত্তা, তাঁর চেয়ে কোনো কিছুই নিগূঢ় নেই। তিনি সর্বোচ্চ,
সুউচ্চ, উচ্চ সত্তা, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন, উচ্চ পরাক্রমশালী, তিনি সব কিছু সম্পর্কে
মহাজ্ঞানী, সব কিছু জানেন, সব কিছুর উপরে ক্ষমতাবান, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা,
ভাষার ভিন্নতা ও প্রয়োজনের নানা ধরণ সত্বেও সব কিছুর আওয়াজ শুনতে পান, তিনি
সর্বদ্রষ্টা, সব কিছু দেখতে পান, তিনি মহাপ্রজ্ঞাবান, সৃষ্টি ও আইন প্রদানে
মহাবিজ্ঞ, তিনি গুণে ও কর্মে সর্বপ্রশংসিত, তিনি মহিমায় ও বড়ত্বে মহাগৌরাবিত,
তিনি দয়াবান, দয়ালু, তাঁর রহমত সব কিছুর উপর বিস্তৃত ও সকলেই তাঁর অনুগ্রহ ও
দানপ্রাপ্ত, তিনি রাজাধিরাজ, সব রাজা ও রাজ্যের মালিক, তাঁর রয়েছে একচ্ছত্র
মালিকানা, উর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত সব কিছুই তার মালিকানাধীন ও তাঁর গোলাম, তাঁর
রয়েছে একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও হস্তক্ষেপ, তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর রয়েছে সব যাতী গুণাবলী
সম্পন্ন পরিপূর্ণ জীবন, তিনি স্বয়ংস্থিতিশীল ও অবিনশ্বর, তিনি নিজে নিজেই
প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যকেও প্রতিষ্ঠা করেন, তিনি সব ধরণের কর্ম সম্পাদনকারী, তিনি যা ইচ্ছা তাই সম্পন্ন
করেন, তিনি যা চান তা-ই সংঘটিত হয়, আর তিনি যা চান না তা সম্পন্ন হয় না, আমরা
সাক্ষ্য দেই যে, তিনি আমাদের রব, সৃষ্টিকারী, উম্মেষকারী, রূপ দানকারী, যিনি সমস্ত সৃষ্টি সৃজন করেছেন,
সৃষ্টিতে তিনি সুচারুতা ও দক্ষতা দেখিয়েছেন এবং উত্তমরূপে সৃষ্টি করেছেন। তিনি এমন
আল্লাহ যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একমাত্র উপাস্য, তিনি ব্যতীত কেউ ইবাদাত
পাওয়ার যোগ্য নয়। অতএব, তিনি ব্যতীত কারো সম্মুখে শির নত
করি না, একমাত্র মহাশক্তিশালী, মহাপরাক্রান্ত, মহাক্ষমাশীল আল্লাহ ব্যতীত কারো
কাছে মাথা অবনত করি না, কিছু প্রার্থনা করি না, আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করি এবং
তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে প্রত্যাশা করি, তাঁকেই ভয় করি, তাঁর রহমত আশা
করি, তাঁর আযাবকে ভয় করি, তিনি ব্যতীত আমাদের কোনো রব নেই। অতএব, তাঁরই কাছে আমাদের প্রার্থনা এবং তাঁকেই আমরা ডাকি। তিনি ব্যতীত
আমাদের এমন কোনো ইলাহ নেই যার কাছে আমরা আশা করতে পারি। আমাদের দুনিয়া ও
আখিরাতের কল্যাণ ও সংশোধনে তিনিই আমাদের একমাত্র অভিভাবক। তিনি উত্তম
সাহায্যকারী এবং সমস্ত বিপদাপদ ও অকল্যাণ থেকে তিনিই একমাত্র প্রতিরোধকারী ও
রক্ষাকারী। </p><h2 class="ltr start" id="p15"><a id="t15" class="anchor"> </a><a href="#t15">ত্রয়োদশতম প্রশ্ন: নবীদের প্রতি ঈমানের বিস্তারিত
ব্যাখ্যা কী ধরণের? </a></h2><p class="ltr justify" id="p55">উত্তর: সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে যেসব
নবীদের নবুওয়ত ও রিসালাত সাব্যস্ত হয়েছে সে সব নবীদের প্রতি আমরা ঈমান আনয়ন করি এবং বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ অহী ও
রিসালাতের মাধ্যমে তাদেরকে নির্বাচিত করেছেন এবং তাঁর নিজের ও সৃষ্টির মাঝে তাঁর
দীন ও শরী'আত পৌঁছানোর জন্য তাদেরকে মাধ্যম হিসেবে নিয়োজিত করেছেন। তাদের আনিত
বিষয়ের সত্যায়ন ও সঠিকতা প্রমাণের জন্য তিনি তাদেরকে মু'জিযা দিয়ে সাহায্য করেছেন।
তারা জ্ঞান-গরিমা ও আমলের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ সৃষ্টি, তারা
সর্বাধিক সত্যবাদী, সবচেয়ে সৎ ব্যক্তি ও সর্বোচ্চ সচ্চরিত্রবান। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে এমন সৎ গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য দিয়ে নির্বাচিত করেছেন যা
অন্যদের স্পর্শ করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাদেরকে সমস্ত অসচ্চরিত্র থেকে পবিত্র
রেখেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে তারা যে দাওয়াত পৌঁছেছেন সে ব্যাপারে মাসূম তথা
নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক ছিলেন। তারা তাদের দাওয়াত ও তাবলীগে সত্য ও সঠিকটাই প্রচার
করেছেন। তাদের সকলের প্রতি ও তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন সেগুলোর ওপর
ঈমান আনা, তাদেরকে ভালোবাসা, সম্মান করা ও মর্যাদা প্রদান করা ফরয। আমরা আরও
বিশ্বাস করি যে, এসব কাজ আমাদের নবী মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে করা <span class="c2" data-redactor-class="c2">(তার প্রতি ও তার আনিত সব কিছুর ওপর ঈমান আনা, তাকে
সম্মান করা ইত্যাদি)</span> আরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরয। তাকে জানা, সাধ্যানুসারে তার আনিত
শরী'আত সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে জানা, এসবের প্রতি ঈমান আনা ও সর্বদা অটুট থাকা
ফরয। তার আনিত সকল বিষয়ে আনুগত্য করা, তার আদেশ মান্য করা ও নিষেধ থেকে বিরত থাকাও
ফরয। আমরা আরও বিশ্বাস করি যে, তিনি খাতামুন নাবিয়্যীন তথা সর্বশেষ নবী, তার পরে
আর কোনো নবী আসবেন না, তার শরী'আত পূর্বের সব শরী'আতকে রহিত করে দিয়েছে, তার
শরী'আত কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। বান্দার ঈমান ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ সে
বিশ্বাস করবে যে, মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনিত সব
কিছুই সত্য। আক্বলী <span class="c2">(বিবেকপ্রসূ)</span>, ইন্দ্রিয় ও সব ধরণের দলীল প্রমাণ তার আনিত
সত্যের বিপরীত প্রমাণ করতে পারবে না; বরং সঠিক বিবেক ও বাস্তব দৃশ্যমান বিষয়াদি
তার সত্যতা ও সঠিকতার সাক্ষ্য প্রদান করে। </p><h2 class="ltr start" id="p16"><a id="t16" class="anchor"> </a><a href="#t16">চতুর্দশতম প্রশ্ন: কাদ্বা ও কাদর তথা তাকদীরের প্রতি
ঈমানের স্তর কয়টি ও কী কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p56">উত্তর: তাকদীরের প্রতি ঈমানের স্তর চারটি।
এ চারটি স্তরের সব কয়টির ওপর ঈমান না আনলে তার ঈমান পূর্ণ হবে না। সেগুলো হচ্ছে:
আল্লাহ সব কিছু সম্পর্কে মহাজ্ঞানী একথার ওপর ঈমান আনা, তার ইলম সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট
সব কিছু সম্পর্কে সর্বব্যাপী, তিনি এসব কিছু লাওহি মাহফূযে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন
এবং সব কিছু তাঁর ইচ্ছা ও কুদরতে সংঘটিত হয়ে থাকে, তিনি যা ইচ্ছা করেন তা সংঘটিত
হয়, আর তিনি যা চান না তা কখনও হয় না, এতদসত্বেও তিনি বান্দাকে কাজ করতে সক্ষমতা ও
ইখতিয়ার দিয়েছেন, ফলে তারা তাদের পছন্দানুযায়ী ও ইচ্ছানুসারেই কাজ করে থাকে। যেমন
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, </p><p class="rtl justify" id="p57">﴿أَلَمۡ
تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي
كِتَٰب٧٠﴾ <span class="c5">[الحج : ٧٠]</span> </p><p class="ltr justify" id="p58"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“তুমি কি জান না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু
রয়েছে, আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয়
তা একটি কিতাবে রয়েছে।"</span> <span class="c5">[সূরা আল-হাজ,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ৭০]</span> </p><p class="rtl justify" id="p59">﴿لِمَن شَآءَ
مِنكُمۡ أَن يَسۡتَقِيمَ٢٨ وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ٢٩﴾ <span class="c5" data-redactor-class="c5">[التكوير:
٢٨، ٢٩]</span> </p><p class="ltr justify" id="p60"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“যে তোমাদের মধ্যে সরল পথে চলতে চায়, তার
জন্য। আর তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব
আল্লাহ ইচ্ছা করেন"</span>। <span class="c5">[সূরা আত-তাকওয়ীর,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ২৮-২৯]</span></p><h2 class="ltr start" id="p17"><a id="t17" class="anchor"> </a><a href="#t17">পঞ্চদশতম প্রশ্ন: আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান বলতে কী
বুঝায়? কোন কোন বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করে? </a></h2><p class="ltr justify" id="p61">উত্তর: মৃত্যুর পরের জিন্দেগী সম্পর্কে
কুরআন ও সুন্নাহে যা কিছু এসেছে তা সব কিছুই আখিরাতের দিবসের প্রতি ঈমান আনার
অন্তর্ভুক্ত। যেমন, কবরের অবস্থা, বারযাখ, কবরে নি'আমত ও শাস্তি, কিয়ামতের দিনের
অবস্থা, এ দিনের হিসাব-নিকাশ, সাওয়াব, শাস্তি, সুহুফ, মীযান, শাফা'আত,
জান্নাত-জাহান্নামের অবস্থা ও এর বর্ণনা, জান্নাতী ও জাহান্নামীদের অবস্থা, আল্লাহ
এ দুয়ের অধিবাসীদের জন্য যা তৈরি করে রেখেছেন এগুলোর প্রতি সংক্ষিপ্ত ও
বিস্তারিতভাবে ঈমান আনয়ন করা
আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনা বলে। </p><h2 class="ltr start" id="p18"><a id="t18" class="anchor"> </a><a href="#t18">ষষ্ঠাদশতম প্রশ্ন: নিফাক কী? এর প্রকার ও আলামত কী
কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p62">উত্তর: ভালো প্রকাশ করা আর ভিতরে মন্দ
গোপন রাখাকে নিফাক বলে। নিফাক দু'প্রকার। বড় নিফাক, আর তা হলো বিশ্বাসে নিফাক। এ
ধরণের মুনাফিক চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। এ প্রকারের মুনাফিকের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, </p><p class="rtl justify" id="p63">﴿وَمِنَ
ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَمَا هُم بِمُؤۡمِنِينَ٨﴾ <span class="c5" data-redactor-class="c5">[البقرة:
٨]</span> </p><p class="ltr justify" id="p64"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“আর মানুষের মধ্যে কিছু এমন আছে, যারা বলে,
'আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি', অথচ তারা মুমিন নয়।"</span> <span class="c5">[সূরা আল-বাকারা,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ৮]</span> </p><p class="ltr justify" id="p65">এরা অন্তরে কুফুরী পোষণ করে আর মুখে ইসলাম প্রকাশ করে। </p><p class="ltr justify" id="p66">আর দ্বিতীয় প্রকার নিফাক হলো ছোট নিফাক, আর তা হলো মানুষের কাজে
কর্মের নিফাক। যেমন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের সম্পর্কে
বলেছেন, </p><p class="rtl justify" id="p67">«آيَةُ
المُنَافِقِ ثَلاَثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا
اؤْتُمِنَ خَانَ.</p><p class="ltr justify" id="p68"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন
কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে।"</span><a id="ref_3" class="anchor"></a><a href="#note_3" name="r_3" class="fnote">[3]</a></p><p class="ltr justify" id="p69">অতএব, বড় কুফুরী ও বড় নিফাকী ঈমান ও আমলের
কোন উপকারে আসবে না। তবে ছোট কুফুরী ও ছোট নিফাকী ঈমানের সাথে একত্রিত হতে
পারে, এ ক্ষেত্রে বান্দার মধ্যে ভালো-মন্দ দুটোই থাকবে এবং ভালো কাজের বিনিময়ে
সাওয়াব পাবে আর মন্দ কাজের কারণে শাস্তি ভোগ করবে। </p><h2 class="ltr start" id="p19"><a id="t19" class="anchor"> </a><a href="#t19">সপ্তদশতম প্রশ্ন: বিদ'আত কী? বিদ'আত কত প্রকার ও কী
কী?</a></h2><p class="ltr justify" id="p70">উত্তর: বিদ'আত হলো সুন্নাতের বিপরীত কাজ।
এটি দু'প্রকার। বিশ্বাসে বিদ'আত। আর তা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বলেছেন তার
বিপরীত বিশ্বাস স্থাপন করা। এটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
নিম্নোক্ত হাদীসে উল্লেখ হয়েছে, </p><p class="rtl justify" id="p71"><span class="c3" data-redactor-class="c3">«وَسَتَفْتَرِقُ
أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فرقةً كُلُّها فِي النَّارِ إلا وَاحِدَةً ،<span class="c6" data-redactor-class="c6">
قَالُوا:</span> ما هي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟<span class="c6"> قَالَ:</span> «هُوَ مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ
وَأَصْحَابِي»</span>.
</p><p class="ltr justify" id="p72"><span class="c1" data-redactor-class="c1">“আর আমার উম্মতেরা তিয়াত্তর
দলে বিভক্ত হবে। এদের একটি দল ছাড়া সব দলই হবে জাহান্নামী। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> হে
আল্লাহর রাসূল! এরা কোন দল? তিনি বললেন:</span> আজ আমি এবং আমার সাহাবীরা
যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।"</span><a id="ref_4" class="anchor"></a><a href="#note_4" name="r_4" class="fnote">[4]</a></p><p class="ltr justify" id="p73">অতএব, যে ব্যক্তি হাদীসে বর্ণিত গুণাবলী
অনুযায়ী হবে সে ব্যক্তি শুধু সুন্নাহর অনুসারী, আর যে সুন্নাহর অনুসারী হবে না সে
বিদ'আতী। আর সব বিদ'আতই গোমরাহী। তবে সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাওয়ার দূরত্ব
অনুসারে বিদ'আতের স্তরও কম বেশি হয়। </p><p class="ltr justify" id="p74">দ্বিতীয় প্রকার বিদ'আত হলো আমলী তথা কাজে-কর্মে বিদ'আত। আর তা হলো
শরী'আত প্রণেতা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেসব ইবাদত করতে আদেশ করেছেন তা ব্যতীত অন্যসব
ইবাদাত করা বা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
যেগুলো হারাম করেছেন সেগুলো হালাল করা। অতএব, যে
ব্যক্তি শরী'আত বহির্ভূত কোনো ইবাদাত করল বা শরী'আত যা হারাম করে নি তা হারাম করল
সে বিদ'আত করল। </p><h2 class="ltr start" id="p20"><a id="t20" class="anchor"> </a><a href="#t20">অষ্টাদশতম প্রশ্ন: আপনার ওপর মুসলিমের হক
<span class="c2">(দায়িত্ব-কর্তব্য)</span> কী?</a></h2><p class="ltr justify" id="p75">উত্তর: আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, </p><p class="rtl justify" id="p76">﴿إِنَّمَا
ٱلۡمُؤۡمِنُونَ إِخۡوَةٞ﴾ <span class="c5">[الحجرات: ١٠]</span> </p><p class="ltr justify" id="p77"><span class="c1">“নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।"</span> <span class="c5">[সূরা আল-হুজুরাত,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ১০]</span></p><p class="ltr justify" id="p78">এক মুসলিম অপর মুসলিমকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করা ওয়াজিব। সে নিজের জন্য যা
পছন্দ করে তার ভাইয়ের জন্যও তা-ই পছন্দ করবে এবং নিজের জন্য যা অপছন্দ করবে অন্যের
জন্যও তা অপছন্দ করবে। সাধ্যমত তাদের জন্য কল্যাণকর কিছু করা, পরস্পর সংশোধনের
চেষ্টা করা, নিজেদের মাঝে ভালোবাসা বন্ধন সৃষ্টি করা ও তাদেরকে সত্যের ওপর
প্রতিষ্ঠা রাখতে প্রচেষ্টা করা। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সুতরাং সে তার ওপর যুলুম করবে না<span dir="rtl">,</span>
তাকে অপমান করবে না, তার ব্যাপারে মিথ্যা বলবে না, তাকে
হেয় করবে না। যাদের ওপর তার
দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে তাদের হক আদায় করবে। যেমন, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী,
বন্ধু-বান্ধব ও অধীনস্থ কর্মচারীদের অধিকার আদায় করবে। </p><h2 class="ltr start" id="p21"><a id="t21" class="anchor"> </a><a href="#t21">ঊনবিংশতম প্রশ্ন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী? </a></h2><p class="ltr justify" id="p79">উত্তর: রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের প্রতি পূর্ণাঙ্গ ঈমান ও ভালোবাসার অন্যতম অংশ হলো তার সাহাবীগণকে
তাদের মর্যাদা ও ইসলাম গ্রহণের অগ্রগামীতার স্তর অনুসারে ভালোবাসা, উম্মাতের সবার
উর্ধ্বে তাদের মর্যাদার স্বীকৃতি
দেওয়া। তাদের ভালোবাসা বৃদ্ধির
জন্য আল্লাহর কাছে দো'আ করা, তাদের মর্যাদা প্রচার করা ও তাদের মধ্যকার ভুল বুঝা-বুঝিকে
এড়িয়ে চলা ও সমালোচনা থেকে বিরত থাকা। আমরা আরও বিশ্বাস করি যে, সমস্ত উত্তম
আদর্শের সমন্বয়ে তারা সর্বোত্তম উম্মত, কল্যাণ ও ইসলাম গ্রহণের দিক থেকে তারা
অগ্রগামী, সমস্ত অকল্যাণ ও অন্যায় কাজ থেকে তারা দূরে ছিলেন, তারা সকলেই
ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফকারী ছিলেন এবং আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট। </p><h2 class="ltr start" id="p22"><a id="t22" class="anchor"> </a><a href="#t22">বিংশতম প্রশ্ন: ইমাম তথা উম্মতের ইমাম থাকার
ব্যাপারে আপনার মতামত কী?</a></h2><p class="ltr justify" id="p80">উত্তর: আমরা বিশ্বাস করি যে, উম্মতের ইমাম
নির্ধারণ করা ফরযে কিফায়া। কেননা উম্মত ইমাম ছাড়া তাদের দীন ও দুনিয়ার কার্যক্রম
পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ইমাম তাদের শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করবেন এবং অপরাধীর অপরাধের
হদ তথা শাস্তি কায়েম করবে। অন্যায় কাজ ব্যতীত সৎকাজে ইমামের আনুগত্য করা ছাড়া
নেতার <span class="c2">(ইমামের)</span> নেতৃত্ব পরিপূর্ণ হয় না। ইমাম সৎ হোক বা অসৎ হোক তার সাথে জিহাদ
করা, তাকে কল্যাণকর কাজে সহযোগিতা করা এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে তাকে
সদুপদেশ দেওয়া জনগণের দায়িত্ব। </p><h2 class="ltr start" id="p23"><a id="t23" class="anchor"> </a><a href="#t23">একবিংশতম প্রশ্ন: সিরাতুল মুস্তাকীম কী? এর
বৈশিষ্ট্য কী কী?</a></h2><p class="ltr justify" id="p81">উত্তর: সিরাতুল মুস্তাকীম হলো ইলমে নাফে'
তথা উপকারী ইলম ও সৎ আমল। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে
কুরআন ও হাদীসে যে ইলম এসেছে তা-ই ইলমে নাফে' তথা উপকারী ইলম। আর সৎ আমল হলো সহীহ
আক্বীদা, ফরয ও নফল আদায়, নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা, অর্থাৎ আল্লাহর হক ও বান্দার হক আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জন
করা। আর পরিপূর্ণ ইখলাস ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ
ব্যতীত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভবপর হয় না। এ দু'টি
মূলনীতির <span class="c2">(ইখলাস ও রাসূলের অনুসরণ)</span> উপরই দীনের সমস্ত কাজ পরিচালিত হয়। অতএব, যার ইখলাস চলে যা

পাঠকের মন্তব্য (০)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

ছবিসহ ও লিংকসহ মন্তব্য অ্যাডমিন দেখে প্রকাশ করেন।