চার ইমামের আকীদাহ
- লেখক
- মুহাম্মদ আব্দুররাহমান খামিস
- ভাষা
- বাংলা
- বিষয়
- আকিদা
- পৃষ্ঠা
- ২৭
এই বইয়ের লেখা এখনও যুক্ত হয়নি; পিডিএফ আকারে পড়ুন।
<ul><li><a href="#t1">চার ইমামের আকীদাহ</a>
<ul>
<li><a href="#t2">মোহাম্মদ বিন আবদুল
রহমান</a>
</li>
<li><a href="#t3">ভূমিকা</a>
</li>
<li><a href="#t4">প্রথম অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t5">দীনের মৌলিক বিষয়ে চার ইমামের আকীদাহ এক</a>
</li></ul></li>
<li><a href="#t6">দ্বিতীয় অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t7">ইমাম আবূ হানীফার আকীদাহ:</a>
</li>
<li><a href="#t8">তাওহীদ বিষয়ে ইমাম আবূ হানীফার বাণীসমূহ:</a>
<ul>
<li><a href="#t9">প্রথমত: আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে তার আকীদা এবং শরীয়ত সম্মত উসীলার বর্ণনা ও বিদআতী উসীলা বাতিল করণ:</a>
</li>
<li><a href="#t10">দ্বিতীয়ত: সিফাত সাব্যস্ত এবং জাহমিয়্যাদের প্রতিবাদ তার বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t11">ইমাম আবূ হানীফার বাণীসমূহ:তাকদীরের বিষয়ে</a>
</li>
<li><a href="#t12">ইমাম আবূ হানীফা এর বাণীসমূহঈমান বিষয়ে</a>
</li>
<li><a href="#t13">ইমাম আবূ হানীফা এর বাণীসাহাবীদের বিষয়ে</a>
</li>
<li><a href="#t14">ইলমুল কালাম ও দীনের বিষয়ে তর্কবিতর্ক করা থেকে তার নিষেধ করা</a>
</li></ul></li>
</ul></li>
<li><a href="#t15">তৃতীয় অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t16">ইমাম মালেক ইবন আনাসের আকীদাহ</a>
</li>
<li><a href="#t17">তাওহীদ বিষয়ে তাঁর বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t18">কাদর (তাকদীর) বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t19">ঈমান বিষয়ে তার বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t20">সাহাবীদের বিষয়ে তাঁর বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t21">ইলমুল কালাম এবং দীনের বিষয়ে ঝগড়া করা থেকে তার নিষেধ করা:</a>
</li></ul></li>
<li><a href="#t22">চতুর্থ অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t23">ইমাম শাফে'ইর আকীদাহ</a>
</li>
<li><a href="#t24">তাওহীদ বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t25">কাদর বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t26">ঈমান বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t27">সাহাবীদের বিষয়ে তার মতামত</a>
</li>
<li><a href="#t28">কালাম (তর্কশাস্ত্র)
ও দীনের বিষয়ে ঝগড়া করা থেকে তার নিষেধ করা</a>
</li></ul></li>
<li><a href="#t29">পঞ্চম অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t30">ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের আকীদাহ</a>
</li>
<li><a href="#t31">তাওহীদ বিষয়ে তার বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t32">কাদর বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t33">ঈমান বিষয়ে তার বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t34">সাহাবীদের বিষয়ে তার মতামত:</a>
</li>
<li><a href="#t35">কালাম শাস্ত্র ও দীনের বিষয়ে ঝগড়া করা থেকে তার নিষেধ করা:</a>
</li></ul></li>
<li><a href="#t36">পরিশিষ্ট:</a>
</li>
</ul></li>
</ul><h1 class="ltr center" id="p1"><a id="t1" class="anchor"> </a><a href="#t1">চার ইমামের আকীদাহ</a></h1><h2 class="ltr start" id="p2"><a id="t2" class="anchor"> </a><a href="#t2">মোহাম্মদ বিন আবদুল
রহমান</a></h2><h2 class="ltr start" id="p3"><a id="t3" class="anchor"> </a><a href="#t3">ভূমিকা</a></h2><p class="ltr justify" id="p37">নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্যই। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি,
তাঁর কাছেই সাহায্য চাই,
তাঁর কাছে সঠিক পথ চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের আমলসমূহের খারাবী থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে গোমরাহ করার কেউ নেই। আর যাকে আল্লাহ গোমরাহ করেন তাঁকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,
আল্লাহ ছাড়া কোন
<span class="c2">(সত্য)</span>
ইলাহ নেই। তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।হে মুমিনগণ,
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর,
যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেয়ো না।<span class="c5">[সূরা আল-ইমরান,<span class="c6" data-redactor-class="c6">আয়াত:</span> ১০২]</span>হে মানুষ,
তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর,
যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফ্স থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর,
যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাক। আর ভয় কর রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।<span class="c5">[সূরা আন-নিসা,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ১হে ঈমানদারগণ,
তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সঠিক কথা বল।তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে,
সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করবে।[সূরা আল আহযাব,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৭০,৭১]</span>অতঃপর 'দীনের মৌলিক বিষয়ে ইমাম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহুর আকীদাহ'
এর ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য আমি বিস্তারিত গবেষণা শুরু করলাম। আর ভূমিকায় তিন ইমাম
: মালিক,
শাফে'ঈ ও আহমাদ রাহিমাহুমুল্লাহ এর আকীদাও সংক্ষেপে অর্ন্তভুক্ত করলাম।কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তি আমার কাছে এ তিনজন ইমামের আকীদাহ পৃথক করার দাবি করলেন। আর আমি নিজেও চার ইমামের আকীদার বর্ণনা পুরো করার জন্যে ইমাম আবূ হানীফার তাওহীদ,
কাদার
<span class="c2">(তাকদীর)</span>,
ঈমান ও সাহাবীদের ব্যাপারে আকীদাহ এবং তর্কশাস্ত্রের বিপরীতে তাঁর অবস্থানের যে বিস্তারিত গবেষণা পেশ করেছি তার সারসংক্ষেপ ভূমিকায় তা যুক্ত করা সঙ্গত দেখেছি।</p><p class="ltr justify" id="p38">আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে,
এ আমলটি যেন কেবল তার সন্তুষ্টির জন্য হয়। আর তিনি যেন আমাদের সবাইকে তার কিতাবের অনুসরণ এবং তার রাসূলের সুন্নাতের ওপর চলার তাওফীক দান করেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই এ কাজের একমাত্র উদ্দেশ্য,
তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তিনি কতনা উত্তম অভিভাবক।</p><p class="ltr justify" id="p39">আমাদের শেষ দাবি হলো,
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে,
যিনি সৃষ্টিকুলের রব।</p><p class="ltr justify" id="p40">মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রাহমান আল-খামিস</p><h2 class="ltr start" id="p4"><a id="t4" class="anchor"> </a><a href="#t4">প্রথম অধ্যায়</a></h2><h3 class="ltr start" id="p5"><a id="t5" class="anchor"> </a><a href="#t5">দীনের মৌলিক বিষয়ে চার ইমামের আকীদাহ এক</a></h3><p class="ltr justify" id="p41">ঈমানের মাস'আলা ছাড়া।</p><p class="ltr justify" id="p42">চার ইমাম
—আবূ হানীফা,
মালিক,
শাফে'ঈ ও আহমাদ—এর আকীদাহ তাই যা কুরআন ও সূন্নাহ বলেছে এবং যার ওপর সাহাবীগণ ও উত্তমভাবে তাদের অনুসারী—তাবে'ঈগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আল্লাহর জন্যে যাবতীয় প্রশংসা যে দীনের মৌলিক বিষয়ে তাদের মধ্যে কোন বিবাদ নেই,
বরং তারা রবের সিফাতের ঈমান ও কুরআন আল্লাহর কালাম মাখলুক নয় এবং ঈমানের জন্যে অবশ্যই অন্তর ও মুখের সত্যারোপ জরুরী মর্মে একমত ছিলেন। বরং তারা সবাই তর্কশাস্ত্রী জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় ও অন্যান্য যারা ইউনানী ফালসাফাহ
<span class="c2">(গ্রিক দর্শন)</span>
এবং কালামী মতাদর্শ
<span class="c2">(তর্কশাস্ত্র)</span>
দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল তাদের প্রতিবাদ করতেন। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন,তবে আল্লাহর রহমত তার বান্দাদের প্রতি যে,
উম্মতের ভেতর সুখ্যাতি সম্পন্ন ইমামগণ—
যেমন চার ইমাম ও অন্যরা কুরআন,
ঈমান ও রবের সিফাতের ক্ষেত্রে কালাম শাস্ত্রী—জাহমিয়্যাদের মতবাদের প্রতিবাদ করতেন। আর তারা সালাফগণ যার ওপর ছিলেন তার ওপর একমত ছিলেন,
যেমন আখিরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে,
কুরআন আল্লাহর কালাম মাখলুক নয় এবং ঈমানের জন্য অন্তরের বিশ্বাস ও মুখের সত্যারোপ জরুরী।আর তিনি বলেন,
প্রসিদ্ধ সব ইমাম আল্লাহ তাআলার জন্য সিফাত সাব্যস্ত করেন। এবং তারা বলেন,
কুরআন আল্লাহর কালাম মাখলুক নয়। তারা আরো বলেন,
আখিরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে। এটিই সাহাবী ও উত্তম-ভাবে তাদের অনুসারী আহলে বাইত ও অন্যদের মাযহাব। আর এটিই অনুসরণীয় ইমামগণের মাযহাব যেমন,
মালিক ইবন আনাস,
সাওরী,
লাইস ইবন সা'আদ, আওযা'ঈ, আবূ হানীফা,
শাফে'ঈ ও আহমাদ ইবন হান্বাল...<span class="c6">শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহকে ইমাম শাফ'ঈর আকীদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এ বলে উত্তর দেন:</span>ইমাম শাফে'ঈ—রাদিয়াল্লাহু আনহু এর আকীদাহ এবং উম্মতের সালাফ যেমন মালেক,
সাওরী,
আওযা'ঈ, ইবনুল মুবারক,
আহমাদ ইবন হাম্বাল ও ইসহাক ইবন রাহওয়াই এর আকীদাই হচ্ছে অনুসরণীয় মাশায়েখদের আকিদা যেমন ফুযাইল ইবন ইয়ায,
আবূ সুলাইমান আদ-দারানী, সাহাল ইবন আব্দুল্লাহ আত-তাসতরী প্রমূখ। কারণ,
এসব ইমাম ও তাদের ন্যায় ইমামদের মাঝে দীনের মৌলিক বিষয়ে কোন মতভেদ নেই।</p><p class="ltr justify" id="p43">অনুরূপভাবে ইমাম আবূ হানীফা—রাহিমাহুল্লাহ—
কারণ, তাওহীদ, তাকদীর ও এর মতো অন্যান্য বিষয়ে তার থেকে প্রমাণিত আকীদা এ সব ইমামের আকীদার মতোই। আর এ সব ইমামের আকিদা তাই ছিল যার ওপর ছিলেন সাহাবীগণ ও উত্তমভাবে তাদের অনুসারী তাবেঈগণ। আর এ আকীদাই কুরআন ও সুন্নাহ বর্ণনা করেছে।</p><p class="ltr justify" id="p44">এই সেই আকীদাহ যা আল্লামা সিদ্দীক হাসান খান
<span class="c2">(ভূপালী)</span>
গ্রহণ করেছেন,
যেমন তিনি বলেন,অতএব আমাদের মাযহাব সালাফদেরই মাযহাব;
তুলনা ছাড়া
<span class="c2">(সিফাত)</span>
সাব্যস্ত করা এবং অকার্যকর সাব্যস্ত করা ছাড়া তাঁকে পবিত্র জানা। এটি ইসলামের ইমামগণ মালিক,
শাফে'ঈ, সাওরী, ইবনুল মুবারাক,
ইমাম আহমাদ...
ও তাদের ভিন্ন অন্যান্যদের মাযহাব। কারণ,ইমামগণের মাঝে দীনের মৌলিক বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই। অনুরূপভাবে আবূ হানীফা—রাদিয়াল্লাহু আনহু—
কারণ তার থেকে প্রমাণিত আকীদাহ এসব ইমামগণের আকীদারই মতো। আর এটা তাই যা কুরআন ও সুন্নাহ বর্ণনা করেছে...</p><p class="ltr justify" id="p45">দীনের মৌলিক মাসআলায় অনুকরণীয় চার ইমাম-
আবূ হানীফা,
মালিক,
শাফ'ঈ ও আহমাদ যে আকীদা পোষণ করেন সে বিষয়ে তাদের কিছু উক্তি এবং ইলমুল কালাম বা তর্কশাস্ত্র সম্পর্কে তাদের অবস্থানটি এখানে তুলে ধরা হলো।</p><h2 class="ltr start" id="p6"><a id="t6" class="anchor"> </a><a href="#t6">দ্বিতীয় অধ্যায়</a></h2><h3 class="ltr start" id="p7"><a id="t7" class="anchor"> </a><a href="#t7">ইমাম আবূ হানীফার আকীদাহ:</a></h3><h3 class="ltr justify" id="p8"><a id="t8" class="anchor"> </a><a href="#t8">তাওহীদ বিষয়ে ইমাম আবূ হানীফার বাণীসমূহ:</a></h3><h4 class="ltr justify" id="p9"><a id="t9" class="anchor"> </a><a href="#t9">প্রথমত: আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে তার আকীদা এবং শরীয়ত সম্মত উসীলার বর্ণনা ও বিদআতী উসীলা বাতিল করণ:</a></h4><p class="ltr justify" id="p46">ইমাম আবূ হানীফা রহ.
বলেন, কারো জন্য উচিত নয় যে,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
সে আল্লাহকে তার নাম ছাড়া ডাকবে। আর আল্লাহকে ডাকার ক্ষেত্রে দো'আর অনুমতি যেভাবে দেওয়া হয়েছে সেটিই নির্দেশিত যা তার বাণী থেকে গৃহিত:</span></p><p class="ltr justify" id="p47">আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।আল আরাফ
: ১৮০</p><p class="ltr justify" id="p48">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
দু'আকারীর জন্য এ কথা বলা মাকরূহ যে,
<span class="c2">(হে আল্লাহ!)</span>
আমি তোমার নিকট অমুকের উসীলায় কিংবা তোমার নবীগণ ও তোমার রাসূলদের উসিলায় ও তোমার কাবা ঘর ও মাশআরে হারাম
<span class="c2">(অর্থাৎ পবিত্র নিদর্শনাবলী)</span>
এর উসীলায় প্রার্থনা করছি।</p><p class="ltr justify" id="p49">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
কারো জন্য উচিত নয় যে,
সে আল্লাহকে তার নাম ছাড়া ডাকবে। আর আমি অপছন্দ করি তোমার
'আরশের ইজ্জতের বন্ধনের উসিলায় অথবা তোমার সৃষ্টির অসীলায় বলা।</p><h4 class="ltr justify" id="p10"><a id="t10" class="anchor"> </a><a href="#t10">দ্বিতীয়ত: সিফাত সাব্যস্ত এবং জাহমিয়্যাদের প্রতিবাদ তার বাণী:</a></h4><p class="ltr justify" id="p50">তিনি বলেন,
আল্লাহকে মাখলুকের গুণে গুণান্বিত করা যাবে না। আর তাঁর রাগ ও খুশি তাঁর সিফাতসমূহ থেকে দুটি সিফাত নির্দিষ্ট ধরন ব্যতীত। এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ। তিনি রাগ করেন ও খুশি হন। এমন বলা যাবে না যে,
তার রাগ মানে তাঁর শাস্তি এবং তাঁর খুশি মানে তাঁর সাওয়াব। আমরা তাঁকে সেভাবেই গুণান্বিত করব যেভাবে তিনি তার নিজের সত্তাকে গুণান্বিত করেছেন। তিনি এক,
অমুখাপেক্ষী,
তিনি কাউকে জন্ম দেননি,
তাকে কেউ জন্ম দেয়নি। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি চিরঞ্জীব,
ক্ষমতাবান,
সর্বশ্রোতা,
সর্বদ্রষ্টা এবং প্রজ্ঞাবান। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে। তাঁর হাত মাখলুকের হাতের মতো নয় এবং তাঁর চেহারা সৃষ্টির চেহারার মতো নয়।</p><p class="ltr justify" id="p51">তিনি আরো বলেন,
তার রয়েছে হাত,
রয়েছে চেহারা ও নাফ্স,
যেমনটি আল্লাহ তা'আলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। অতএব কুরআনে আল্লাহ তা'আলা যা উল্লেখ করেছেন,
যেমন তাঁর চেহারা,
হাত ও নাফসের উল্লেখ তা সব তাঁর সিফাত নির্দিষ্ট ধরন ছাড়াই। এমন বলা যাবে না যে,
তাঁর হাত হলো তার কুদরত বা তার নি'আমত। কারণ এতে সিফাতকে বাতিল করা হয়। আর এটিই কাদারিয়া ও মু'তাযিলাদের কথা।</p><p class="ltr justify" id="p52">তিনি আরো বলেন,
কারো জন্য আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে কথা বলা উচিত নয়। বরং তিনি নিজেকে যে গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত করেছেন তাকে তা দ্বারাই গুণান্বিত করতে হবে নিজস্ব রায়ের উপর ভিত্তি করে তাঁর ব্যাপারে কিছু বলবে না। বিশ্বজাহানের রব আল্লাহ তা'আলা সুমহান।</p><p class="ltr justify" id="p53">যখন তাকে নুযুলে ইলাহী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো তিনি বলেন,
তিনি নাযিল হন কোনো ধরন ছাড়াই।</p><p class="ltr justify" id="p54">আবূ হানীফা বলেন,
আল্লাহকে উপর থেকে ডাকা হবে নীচ থেকে নয়। কারণ,
নীচ কোন ভাবেই রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের গুণ হতে পারে না।</p><p class="ltr justify" id="p55">তিনি আরো বলেন,
তিনি রাগ করেন ও সন্তুষ্ট হন। এ কথা বলা যাবে না যে,
তার রাগ তার শাস্তি এবং তার সন্তুষ্টি তার সাওয়াব।</p><p class="ltr justify" id="p56">তিনি আরো বলেন,
তিনি তাঁর কোনো সৃষ্টির মতো নন এবং তাঁর কোন মাখলুক তাঁর মতো নয়। তিনি তাঁর নাম ও সিফাতসমূহ দ্বারা সর্বদা গুণান্বিত রয়েছেন এবং সর্বদা থাকবেন।</p><p class="ltr justify" id="p57">তিনি আরো বলেন,
তাঁর সিফাতসমূহ মাখলুকের সিফাতসমূহের বিপরীত। তিনি জানেন,
তবে আমাদের জানার মতো নয়। তিনি ক্ষমতা রাখেন,
তবে আমাদের ক্ষমতার মতো নয়,
তিনি দেখেন তবে আমাদের দেখার মতো নয়। তিনি শোনেন তবে আমাদের শোনার মতো নয়। তিনি কথা বলেন তবে আমাদের কথার মতো নয়।</p><p class="ltr justify" id="p58">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তাআলাকে মাখলুকের গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত করা যাবে না।</p><p class="ltr justify" id="p59">তিনি আরো বলেন,
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে মানুষের কোনো গুণ দ্বারা গুণান্বিত করবে সে কুফরী করল।</p><p class="ltr justify" id="p60">তিনি আরো বলেন,
আর তার সিফাতসমূহ সত্তাগত ও কর্মগত। সত্তাগত সিফাতগুলো হচ্ছে হায়াত,
কুদরাত,
ইলম, কালাম, শ্রবন, দর্শন এবং ইচ্ছা। আর কর্মগত সিফাতগুলো হচ্ছে,
সৃষ্টি করা,
রিযিক দেওয়া,
আবিষ্কার করা,
উদ্ভাবন করা,
তৈরী করাসহ অন্যান্য কর্মগত সিফাত। তিনি তাঁর নামসমূহ ও সিফাতসমূহ দ্বারা আদিতে বিশেষিত ছিলেন এবং অনন্তেও থাকবেন।</p><p class="ltr justify" id="p61">তিনি আরো বলেন,
তিনি তাঁর কর্মগত বিশেষণের মাধ্যমে সর্বদা কর্মরত। কর্ম করা তাঁর অনাদি সিফাত। আর আল্লাহ তাআলা হলেন কর্তা। আর কর্ম তাঁর অনাদি সিফাত। আর কর্মের ফলাফল মাখলুক,
তবে আল্লাহ তাআলার কর্ম মাখলুক নয়।</p><p class="ltr justify" id="p62">তিনি আরো বলেন,
যে বলে আমার রব আসমানে না যমীনে,
আমি তা জানি না,
সে কুফরী করল। অনুরূপভাবে সে ব্যক্তিও
<span class="c2">(কুফরী করল)</span>
যে বলে,
তিনি আরশে,
তবে আরশ যমীনে না আসমানে তা জানি না।</p><p class="ltr justify" id="p63">আর তিনি ঐ মহিলাকে বলেন,
যে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে,তোমার ইলাহ কোথায় যার তুমি এবাদত কর?
তিনি বললেন,
আল্লাহ তা'আলা আসমানে যমীনে নয়। ফলে তাঁকে এক ব্যক্তি বলল,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আল্লাহর বাণীটি দেখেছেন
?আর তিনি তোমাদের সাথেই।আল হাদীদ
:</span> ৪তিনি বললেন,
তা হলো যেমন তুমি কোন ব্যক্তিকে লিখ,
আমি তোমার সাথেই আছি,
অথচ তুমি তার থেকে অদৃশ্যে।</p><p class="ltr justify" id="p64">তিনি বলেন,
অনুরূপভাবে আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে,
তবে তা তার মাখলুকের হাতসমূহের মতো নয়।</p><p class="ltr justify" id="p65">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ আসমানে রয়েছেন যমীনে নয়। ফলে তাকে এক লোক বলল,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আল্লাহ তাআলার বাণীটি দেখেছেন
?আর তিনি তোমাদের সাথেই।আল হাদীদ
:</span> ৪তিনি বললেন,
তা হলো যেমন তুমি কোন ব্যক্তিকে লিখ,
আমি তোমার সাথেই আছি অথচ তুমি তার থেকে অদৃশ্যে।</p><p class="ltr justify" id="p66">তিনি বলেন,
আল্লাহ তাআলা
<span class="c2">(মুসার সাথে)</span>
কথা বলেছেন;
মূসা আলাইহিস সালাম <span class="c2">(আল্লাহর সাথে)</span>
কথা বলেননি।</p><p class="ltr justify" id="p67">তিনি বলেন,
তিনি নিজে কথা বলার কারণেই কথক
<span class="c2">(মুতাকাল্লিম)</span>
আর কালাম হলো একটি অনাদি সিফাত।</p><p class="ltr justify" id="p68">তিনি বলেন,
আর তিনি কথা বলেন তবে আমাদের কথার মতো নয়।</p><p class="ltr justify" id="p69">তিনি বলেন,
মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কথা শুনেছেন। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">আর আল্লাহ মূসার সাথে সুস্পষ্টভাবে কথা বলেছেন।আন নিসা
:</span> ১৬৪</p><p class="ltr justify" id="p70">তিনি বলেন,
কথা আল্লাহ তা'আলাই বলেছেন;
মূসা আলাইহিস সালাম কথা বলেননি।</p><p class="ltr justify" id="p71">তিনি বলেন,
কুরআন আল্লাহর কালাম,
মাসাহেফে লিপিবদ্ধ,
অন্তরে সংরক্ষিত এবং যবানে পঠিত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিলকৃত।</p><p class="ltr justify" id="p72">তিনি বলেন,
কুরআন মাখলুক নয়।</p><h4 class="ltr justify" id="p11"><a id="t11" class="anchor"> </a><a href="#t11">ইমাম আবূ হানীফার বাণীসমূহ:তাকদীরের বিষয়ে</a></h4><p class="ltr justify" id="p73">এক লোক ইমাম আবূ হানীফার এর নিকট তাকদীর—বিষয়ে বিতর্ক করার জন্যে আসল। তিনি তাকে বললেন,
তুমি কি জান না যে,
তাকদীরে দৃষ্টি দানকারী সূর্যের দুই চোখে দৃষ্টি দানকারীর মতো। যত বেশি দৃষ্টি দিবে তত বেশী হয়রানি বাড়বে।</p><p class="ltr justify" id="p74">ইমাম আবূ হানিফা বলেন,
আল্লাহ তা'আলা সকল সৃষ্টি সম্পর্কে তার সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই অবগত ছিলেন।</p><p class="ltr justify" id="p75">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তাআলা অস্তিত্বহীন বস্তুকে তার অস্তিত্বহীন অবস্থায় অস্তিত্বহীন হালতে জানেন। তিনি যখন তা সৃষ্টি করবেন কেমন হবে তাও তিনি জানেন। আল্লাহ তাআলা অস্তিত্বশীল বস্তুকে অস্তিত্বশীল অবস্থায় অস্তিত্বশীল হালতে জানেন এবং তার ধ্বংস কিভাবে হবে তাও তিনি জানেন।</p><p class="ltr justify" id="p76">ইমাম আবূ হানিফা বলেন,
আর তার তাকদীর লাওহে মাহফুজে রয়েছে।</p><p class="ltr justify" id="p77">তিনি আরো বলেন,
আর আমরা স্বীকার করি যে,
আল্লাহ তাআলা কলমকে লিখার নির্দেশ দিয়েছেন,
তখন কলম বলল,
হে আমার রব!
আমি কি লিখবো?
তখন আল্লাহ তাআলা বললেন,
কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তা লিপিবদ্ধ করো। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন,আর তারা যা করেছে,
সব কিছুই
'আমলনামায়'
রয়েছে।আর ছোট বড় সব কিছুই লিখিত আছে।আল-<span class="c6">কামার :</span> ৫২,৫৩</p><p class="ltr justify" id="p78">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর চাওয়া ছাড়া কিছুই হয় না।</p><p class="ltr justify" id="p79">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
আল্লাহ সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন,
তবে কোন বস্তু থেকে নয়।</p><p class="ltr justify" id="p80">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করার আগেই স্রষ্টা ছিলেন।</p><p class="ltr justify" id="p81">তিনি আরো বলেন,
আমরা স্বীকার করি যে,
বান্দা তার আমল,
তার স্বীকারোক্তি ও তার জ্ঞানসহই মাখলুক। কর্তাই যখন মাখলুক তার কর্ম মাখলুক হওয়ার আরো বেশি উপযুক্ত।</p><p class="ltr justify" id="p82">তিনি বলেন,
বান্দাদের সবকর্ম যেমন নড়চড় করা ও স্থীর থাকা তাদেরই উপার্জন,
তবে আল্লাহ তাআলা তার স্রষ্টা। আর এ সবই তার চাওয়া,
ইলম, ফায়সালা ও নির্ধারণ দ্বারা হয়।</p><p class="ltr justify" id="p83">ইমাম আবূ হানীফা আরো বলেন,
বান্দাদের সবকর্ম যেমন নড়চড় করা ও স্থীর থাকা প্রকৃত পক্ষে তাদের উর্পাজন,
আর তা সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। এ গুলো সবই তাঁর চাওয়া,
ইলম, ফায়সালা ও নির্ধারণ অনুযায়ী হয়। নেক আমলসমূহ আল্লাহর আদেশ এবং তার মুহাব্বত,
সন্তুষ্টি,
ইলম, চাওয়া, ফয়সালা ও নির্ধারণ অনুযায়ী অবধারিত হয়েছে। আর পাপসমূহ তাঁর ইলম,
ফায়সালা,
নির্ধারণ ও চাওয়া অনুযায়ী হয়,
তবে তাঁর মুহাব্বত,
সন্তুষ্টি ও তাঁর নির্দেশে হয় না।</p><p class="ltr justify" id="p84">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তাআলা মাখলুককে কুফর ও ঈমান থেকে মুক্তাবস্থায় সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে সম্বোধন করেছেন,
আদেশ দিয়েছেন ও নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কুফরী করলো আল্লাহ তাকে অপধস্থ করার কারণেই সে নিজের কর্ম,
অস্বীকার ও তার সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার দ্বারা কুফরী করলো। আর যে ব্যক্তি ঈমান আনয়ন করলো সে আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্য প্রাপ্ত হয়েই নিজের কর্ম,
স্বীকারোক্তি ও সত্যারোপ দ্বারা ঈমান আনয়ন করলো।</p><p class="ltr justify" id="p85">আর তিনি বলেন,
আল্লাহ তা'আলা আদম সন্তানদের তার মেরুদণ্ড থেকে পরমাণুর আকৃতিতে বের করেছেন,
তারপর তাদের জ্ঞানবান করেছেন। তারপর তাদের সম্বোধন করেছেন ও ঈমান আনার নির্দেশ দিযেছেন এবং কুফর থেকে নিষেধ করেছেন,
ফলে তারা তার রুবুবিয়্যাত স্বীকার করে। এটি ছিল তাদের ঈমান। তারা এ ফিতরাতের ওপর জন্ম গ্রহণ করে। তারপর যে কুফরী করল সে
<span class="c2">(ফিতরাত)</span>
পরিবর্তন ও বিকৃতি করল। আর যে ঈমান আনল ও বিশ্বাস করল সে তার ওপর অটুট থাকল ও স্থায়ী হল।</p><p class="ltr justify" id="p86">তিনি আরো বলেন,
তিনিই সবকিছু নির্ধারণ ও ফায়সালা করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো কিছুই হয় না তার চাওয়া,
ইলম, ফায়সালা, নির্ধারণ ও লাওহে মাহফুযে তার লিখনি ছাড়া।</p><p class="ltr justify" id="p87">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টির কাউকে কুফরের ওপর বাধ্য করেন নি আর না ঈমানের ওপর,
তবে তিনি তাদেরকে অসংখ্য ব্যক্তিরূপে সৃষ্টি করেছেন। ঈমান ও কুফর বান্দাদের কর্ম। যে কুফরী করে তার কুফরী করা অবস্থায় আল্লাহ তাকে কাফির বলেই জানেন। তারপর যখন সে ঈমান আনে তিনি তাকে মুমিন হিসেবে জানেন এবং তার ইলমের কোনো পরিবর্তন ছাড়া তিনি তাকে ভালো বাসেন।</p><h4 class="ltr justify" id="p12"><a id="t12" class="anchor"> </a><a href="#t12">ইমাম আবূ হানীফা এর বাণীসমূহঈমান বিষয়ে</a></h4><p class="ltr justify" id="p88">তিনি বলেন,
ঈমান হলো স্বীকার করা ও বিশ্বাস করা</p><p class="ltr justify" id="p89">তিনি আরো বলেন,
ঈমান হলো মুখে স্বীকার করা ও অন্তরে বিশ্বাস করা। শুধু মুখের স্বীকারোক্তির নাম ঈমান হয় না। এটিই বর্ণনা করেছেন ইমাম তাহাবী ইমাম আবূ হানীফা ও তার দু'জন সাথী থেকে।</p><p class="ltr justify" id="p90">ঈমাম আবূ হানীফা বলেন,
ঈমান বাড়ে না এবং কমেও না।</p><p class="ltr justify" id="p91"><span class="c2">(সংকলক বলেন)</span>
আমি বলছি,
ঈমান বৃদ্ধি না হওয়া ও না কমা মর্মে তার বাণী এবং ঈমানের নামকরণের ক্ষেত্রে তার আরেকটি বাণী যে,
ঈমান হচ্ছে অন্তরের বিশ্বাস ও মুখে স্বীকার করা আর আমল ঈমানের হাকীকত থেকে বাইরের জিনিস। বস্তুত ঈমানের ক্ষেত্রে এ দু'টি বিষয়ই ইসলামের অন্যান্য ইমাম যেমন মালিক,
শাফে'ঈ, আহমাদ, ইসহাক, বুখারী প্রমুখের আকীদাহ ও ইমাম আবূ হানীফার আকীদাহর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী। তবে হক তাদের সাথেই রয়েছে।</p><p class="ltr justify" id="p92">ঈমাম আবূ হানীফার কথা সত্যকে পাশ কাটিয়ে গেছে,
তবে তিনি উভয় অবস্থায় সাওয়াব প্রাপ্ত হবেন। ইবনু আব্দুল বারর ও ইবনু আবীল ইয্য এর আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে,
আবূ হানীফা তার এ মত থেকে ফিরে এসেছেন। আল্লাহই সর্বাধিক জানেন।</p><h4 class="ltr justify" id="p13"><a id="t13" class="anchor"> </a><a href="#t13">ইমাম আবূ হানীফা এর বাণীসাহাবীদের বিষয়ে</a></h4><p class="ltr justify" id="p93">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সাহাবীর নাম সুনাম ছাড়া উল্লেখ করবো না।</p><p class="ltr justify" id="p94">তিনি আরো বলেন,
রাসূলের সাহাবীদের কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো না এবং কাউকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বন্ধু বানাবো না।</p><p class="ltr justify" id="p95">এবং তিনি বলেন,
রাসূলের সান্নিধ্যে তাদের সামান্য সময় অবস্থান করা আমাদের কারো সারা জীবনের আমল হতে উত্তম,
যদিও তা দীর্ঘ হয়।</p><p class="ltr justify" id="p96">এবং তিনি বলেন,
আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর এ উম্মতের সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি হলো আবূ বকর সিদ্দীক,
তারপর উমার,
তারপর উসমান তারপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন।</p><p class="ltr justify" id="p97">এবং তিনি বলেন,
রাসূলের পর সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি আবূ বকর,
উমার, উসমান এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন। অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব সাহাবীর ভালো আলোচনা ছাড়া সমালোচনা থেকে বিরত থাকবো।</p><h4 class="ltr justify" id="p14"><a id="t14" class="anchor"> </a><a href="#t14">ইলমুল কালাম ও দীনের বিষয়ে তর্কবিতর্ক করা থেকে তার নিষেধ করা</a></h4><p class="ltr justify" id="p98">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
প্রবৃত্তির অনুসারীরা বাসরাতে অনেক। আমি ইলমে কালামকে সবচেয়ে সম্মানি ইলম ধারণা করে তাতে বিশেবারের অধিক প্রবেশ করি;
কখনো তাতে একবছর বা তার চেয়ে বেশি আবার কখনো কম সময় অবস্থান করি।</p><p class="ltr justify" id="p99">তিনি আরো বলেন,
আমি ইলমু কালাম
<span class="c2">(তর্কশাস্ত্র)</span>
শিখে-শিখে সে স্তরে পৌঁছলাম যে স্তরে পৌঁছার কারণে আমার দিকে আঙ্গুলসমূহ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়। আর আমি হাম্মাদ ইবন আবূ সুলাইমানের মজলিসের নিকটেই বসতাম। একদা এক মহিলা এসে বলল,
এক ব্যক্তির একজন বাঁদী স্ত্রী আছে,
সে তাকে সুন্নাহ পদ্ধতিতে তালাক দিতে চায়,
তাকে কয় তালাক দিবে?</p><p class="ltr justify" id="p100">আমি বুঝতে পারলাম না তাকে কি বলব,
তাই আমি তাকে নির্দেশ দিলাম যেন হাম্মাদকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করে এবং ফিরে এসে যেন আমাকে জানায়। সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন,
হায়েয এবং সহবাস থেকে মুক্ত পবিত্র অবস্থায় তাকে এক তালাক দেবে তারপর দুই হায়েয পর্যন্ত এ অবস্থায় রেখে দেবে। তারপর যখন সে গোসল করে পবিত্র হবে,
তখন সে অন্যান্য স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যাবে। মহিলাটি ফিরে এসে আমাকে বিষয়টি অবহিত করল। তখন আমি বললাম,
ইলমুল কালামে আমার আর কোনো দরকার নেই। আমি আমার জুতা দুটো নিলাম এবং হাম্মাদের নিকট এসে বসলাম।</p><p class="ltr justify" id="p101">এবং তিনি বলেন,
আমর ইবন উবাইদকে আল্লাহ লা'নত করুক। কারণ,
সে মানুষের জন্য ইলমে কালাম যে বিষয়ে কথা বলাতে মানুষের কোন উপকার হয় না তার পথ খুলেছে।</p><p class="ltr justify" id="p102">এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করল,
জিসিম ও আরায
<span class="c2">(আল্লাহর শরীর ও সিফাত)</span>
সম্পর্কে তর্কশাস্ত্রে মানুষ যা আবিষ্কার করেছে সে সস্পর্কে আপনার মতামত কি?
তিনি বললেন,
এগুলো হচ্ছে দার্শনিকদের কথাবার্তা। তুমি আসার ও সালাফদের পথ গ্রহণ কর। আর তুমি প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বস্তু থেকে বেঁচে থাকো। কারণ এ গুলো সবই বিদ'আত।</p><p class="ltr justify" id="p103">হাম্মাদ ইবন আবি হানীফা বলেন,
আমার পিতা একদিন আমার নিকট প্রবেশ করলেন। তখন আমার নিকট কালামবিদদের কতক লোক উপস্থিত ছিল। আমরা তখন কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি করছিলাম। এতে আমাদের আওয়াজ উঁচা হলো। আমি যখন বাড়ির ভিতরে তার আগমন শুনতে পারলাম তার নিকট গেলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন,
হে হাম্মাদ তোমার নিকট কারা?
আমি বললাম অমুক অমুক। আমার নিকট যারা ছিল তাদের নাম উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন,
তোমরা কি নিয়ে আছো?
আমি বললাম,
<span class="c2">(ইলমুল কালামের)</span>
অমুক অমুক অধ্যায়ে। তখন তিনি আমাকে বললেন,
হে হাম্মাদ!
তুমি কালাম বর্জন করো।</p><p class="ltr justify" id="p104">তিনি বলেন,
আমি আমার পিতাকে কখনো এলোমেলো পাইনি এবং এমন লোকদের মধ্যেও নয় যে কোন বিষয়ে আদেশ দিয়ে তা থেকে আবার নিষেধ করে। আমি তাকে বললাম,
হে আমার পিতা,
তুমিই কি আমাকে তা শেখার নির্দেশ দাও নি?
তিনি বললেন,
অবশ্যই,
হে আমার ছেলে। তবে আমি আজকে তোমাকে তার থেকে নিষেধ করছি। আমি বললাম কেন?
তিনি বললেন,
হে আমার ছেলে কালামের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিতর্ককারী এরা সবাই যাদেরকে তুমি দেখেছো এক কথা ও একই দীনের ওপর ছিল,
অবশেষে শয়তান তাদের সম্পর্ক নষ্ট করল এবং তাদের মাঝে দুশমণি ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে দিল ফলে তারা বিপরীত মুখী হয়ে পড়ল।</p><p class="ltr justify" id="p105">এবং আবূ হানীফা আবূ ইউসূফকে বলেন,
তুমি জন সাধারণকে দীনের মৌলিক বিষয়ে কালাম সম্পর্কে কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। কারণ তারা এমন লোক যারা তোমার অন্ধ অনুকরণ করবে,
ফলে সেটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যাবে।</p><p class="ltr justify" id="p106">এ হলো ইমাম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহ এর কিছু বাণী এবং দীনের মৌলিক বিষয়ে তিনি যা বিশ্বাস করতেন তার বর্ণনা এবং ইলমুল কালাম ও মুতাকাল্লিমীনের বিপক্ষে তার অবস্থান।</p><h2 class="ltr start" id="p15"><a id="t15" class="anchor"> </a><a href="#t15">তৃতীয় অধ্যায়</a></h2><h3 class="ltr start" id="p16"><a id="t16" class="anchor"> </a><a href="#t16">ইমাম মালেক ইবন আনাসের আকীদাহ</a></h3><h3 class="ltr justify" id="p17"><a id="t17" class="anchor"> </a><a href="#t17">তাওহীদ বিষয়ে তাঁর বাণী:</a></h3><p class="ltr justify" id="p107">হারাভী শাফে'ঈ থেকে বর্ণনা করেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
তিনি বলেন
:</span> ইমাম মালেককে কালাম
<span class="c2">(তর্কশাস্ত্র)</span>
ও তাওহীদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন,
নবীর প্রতি এ ধারণা করা অসম্ভব যে,
তিনি তার উম্মতকে এস্তেঞ্জা শিখিয়েছেন অথচ তাদের তাওহীদ শিখাননি। তাওহীদ হলো তাই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
যেমন :</span>
“আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলবে,
আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। যার দ্বারা জান ও মাল নিরাপদ থাকে তাই প্রকৃত তাওহীদ।</p><p class="ltr justify" id="p108">দারাকুতনী ওয়ালীদ ইবন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেছেন,
আমি মালেক,
সাওরী,
আওযা'ঈ ও লাইস ইবন সা'আদকে সিফাত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তারা বললেন,
এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই রেখে দাও।</p><p class="ltr justify" id="p109">ইবন আবদুল বার বলেন,
ইমাম মালেককে জিজ্ঞাসা করা হলো,
কিয়ামতের দিন কি আল্লাহকে দেখা যাবে?
তিনি বললেন,
হ্যাঁ । আল্লাহ আয্যা অজাল্লা বলেন,সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।আল-<span class="c6">কিয়ামাহ :</span> ২২আর তিনি অপর সম্প্রদায়ের জন্য বলেন,কখনো নয়,
নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।আল-<span class="c6">মুতাফফিফীন :</span>
১৫আর কাযী আয়ায ইবন নাফে ও আশহাব থেকে
'তারতীবুল মাদারিক'
নামক গ্রন্থে বলেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
তারা উভয়ে বললো
:</span> হে আবূ আব্দুল্লাহ তাদের একদল কি অপর দলের চেয়ে বেশি হবে?সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।তারা আল্লাহর দিকে দৃষ্টি দেবে?
তিনি বললেন,
হ্যাঁ,
তাদের এ দু'চোখ দ্বারা। আমি তাকে বললাম,
কতক সম্প্রদায় বলে,
আল্লাহর দিকে তাকানো যাবে না। এখানে দেখার অর্থ হলো,
সাওয়াবের অপেক্ষা করা। তিনি বললেন,
তারা মিথ্যা বলেছে,
বরং আল্লাহর দিকেই তাকানো হবে। তুমি কি মূসা আলাইহিস সালাম এর কথা শোননি?
তিনি বলেছেন,
<span class="c1" data-redactor-tag="span">“হে আমার রব!
আপনি আমাকে দেখা দিন,
আমি আপনাকে দেখব"</span>। <span class="c2">(আল-<span class="c6" data-redactor-class="c6">আরাফ :</span> ১৪৩)</span> তুমি কি মনো করো মূসা তার রবের নিকট অসম্ভব কিছু চেয়েছেন?
আল্লাহ বলেন,তুমি আমাকে কখনো দেখবে না।আল-<span class="c6">আরাফ :</span> ১৪৩অর্থাৎ, দুনিয়াতে। কারণ,
এটি হলো ক্ষণস্থায়ী ঘর। আর অস্থায়ী বস্তু দ্বারা চিরস্থায়ী বস্তু দেখা যায় না। যখন তারা স্থায়ী ঘরের দিকে যাবে তখন তারা স্থায়ী বস্তু দ্বারা স্থায়ী বস্তু দেখবে। আল্লাহ বলেন,কখনো নয়,
নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।আল-<span class="c6">মুতাফফিফীন :</span>
১৫</p><p class="ltr justify" id="p110">আবূ নু'আইম জা'ফর ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেছেন,
আমরা মালেক ইবন আনাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম এমতাবস্থায় এক লোক তার কাছে এসে বলল,
হে আবূ আব্দুল্লাহ!
<span class="c1">“রহমান আরশের ওপর ওঠেছেন"</span>
কিভাবে ওঠেছেন
?</p><p class="ltr justify" id="p111">তার এ প্রশ্নের কারণে মালিক যে কষ্ট পেলেন অন্য কোনো কারণে তিনি এরূপ কষ্ট পাননি। তিনি যমীনের দিকে তাকালেন ও তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ঠুকতে লাগলেন,
এমনকি তার শরীরে ঘাম বেরিয়ে আসল। অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন ও লাঠিটি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন,
<span class="c2">(আরশে ওঠার)</span>
ধরণ বোধগম্য নয়,
তবে তার ওপরে ওঠা অজানা বিষয় নয়। আর তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং তার সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত। আর আমি তোমাকে একজন বিদ'আতি মনে করি। আর তাকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন,
ফলে তাকে বের করে দেওয়া হলো।</p><p class="ltr justify" id="p112">আবূ নু'আইম ইয়াহইয়া ইবন রাবী থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন,
আমি মালেক ইবন আনাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম,
এমতাবস্থায় তার কাছে এক লোক আসল ও বলল,
হে আবূ আব্দুল্লাহ!
যে বলে কুরআন মাখলুক আপনি তার সম্পর্কে কি বলেন?</p><p class="ltr justify" id="p113">মালিক বললেন,
সে জিন্দিক—বদ্বীন, তাকে হত্যা করো। সে বলল,
হে আবূ আব্দুল্লাহ!
আমি একটি শোনা কথা বর্ণনা করছি। তিনি বললেন,
আমি তা কারো হতে শুনিনি কেবল তোমার থেকেই শুনেছি। তিনি এ কথাকে মারাত্মক জানলেন।</p><p class="ltr justify" id="p114">ইবন আব্দুল বার আব্দুল্লাহ ইবন নাফে'
থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেছেন,
মালেক ইবন আনাস বলতেন,
যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে,
কুরআন মাখলুক তাকে প্রহার করে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাওবা না করা পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হবে।</p><p class="ltr justify" id="p115">আবূ দাউদ আব্দুল্লাহ ইবন নাফে'
থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন,
মালেক বলেছেন,
আল্লাহ আসমানে আর তার ইলম সব জায়গায়।</p><h3 class="ltr justify" id="p18"><a id="t18" class="anchor"> </a><a href="#t18">কাদর <span class="c2">(তাকদীর)</span> বিষয়ে তার বাণী</a></h3><p class="ltr justify" id="p116">আবূ নু'আইম ইবন ওহাব থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আমি ম
<ul>
<li><a href="#t2">মোহাম্মদ বিন আবদুল
রহমান</a>
</li>
<li><a href="#t3">ভূমিকা</a>
</li>
<li><a href="#t4">প্রথম অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t5">দীনের মৌলিক বিষয়ে চার ইমামের আকীদাহ এক</a>
</li></ul></li>
<li><a href="#t6">দ্বিতীয় অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t7">ইমাম আবূ হানীফার আকীদাহ:</a>
</li>
<li><a href="#t8">তাওহীদ বিষয়ে ইমাম আবূ হানীফার বাণীসমূহ:</a>
<ul>
<li><a href="#t9">প্রথমত: আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে তার আকীদা এবং শরীয়ত সম্মত উসীলার বর্ণনা ও বিদআতী উসীলা বাতিল করণ:</a>
</li>
<li><a href="#t10">দ্বিতীয়ত: সিফাত সাব্যস্ত এবং জাহমিয়্যাদের প্রতিবাদ তার বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t11">ইমাম আবূ হানীফার বাণীসমূহ:তাকদীরের বিষয়ে</a>
</li>
<li><a href="#t12">ইমাম আবূ হানীফা এর বাণীসমূহঈমান বিষয়ে</a>
</li>
<li><a href="#t13">ইমাম আবূ হানীফা এর বাণীসাহাবীদের বিষয়ে</a>
</li>
<li><a href="#t14">ইলমুল কালাম ও দীনের বিষয়ে তর্কবিতর্ক করা থেকে তার নিষেধ করা</a>
</li></ul></li>
</ul></li>
<li><a href="#t15">তৃতীয় অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t16">ইমাম মালেক ইবন আনাসের আকীদাহ</a>
</li>
<li><a href="#t17">তাওহীদ বিষয়ে তাঁর বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t18">কাদর (তাকদীর) বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t19">ঈমান বিষয়ে তার বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t20">সাহাবীদের বিষয়ে তাঁর বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t21">ইলমুল কালাম এবং দীনের বিষয়ে ঝগড়া করা থেকে তার নিষেধ করা:</a>
</li></ul></li>
<li><a href="#t22">চতুর্থ অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t23">ইমাম শাফে'ইর আকীদাহ</a>
</li>
<li><a href="#t24">তাওহীদ বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t25">কাদর বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t26">ঈমান বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t27">সাহাবীদের বিষয়ে তার মতামত</a>
</li>
<li><a href="#t28">কালাম (তর্কশাস্ত্র)
ও দীনের বিষয়ে ঝগড়া করা থেকে তার নিষেধ করা</a>
</li></ul></li>
<li><a href="#t29">পঞ্চম অধ্যায়</a>
<ul>
<li><a href="#t30">ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের আকীদাহ</a>
</li>
<li><a href="#t31">তাওহীদ বিষয়ে তার বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t32">কাদর বিষয়ে তার বাণী</a>
</li>
<li><a href="#t33">ঈমান বিষয়ে তার বাণী:</a>
</li>
<li><a href="#t34">সাহাবীদের বিষয়ে তার মতামত:</a>
</li>
<li><a href="#t35">কালাম শাস্ত্র ও দীনের বিষয়ে ঝগড়া করা থেকে তার নিষেধ করা:</a>
</li></ul></li>
<li><a href="#t36">পরিশিষ্ট:</a>
</li>
</ul></li>
</ul><h1 class="ltr center" id="p1"><a id="t1" class="anchor"> </a><a href="#t1">চার ইমামের আকীদাহ</a></h1><h2 class="ltr start" id="p2"><a id="t2" class="anchor"> </a><a href="#t2">মোহাম্মদ বিন আবদুল
রহমান</a></h2><h2 class="ltr start" id="p3"><a id="t3" class="anchor"> </a><a href="#t3">ভূমিকা</a></h2><p class="ltr justify" id="p37">নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্যই। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি,
তাঁর কাছেই সাহায্য চাই,
তাঁর কাছে সঠিক পথ চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের আমলসমূহের খারাবী থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে গোমরাহ করার কেউ নেই। আর যাকে আল্লাহ গোমরাহ করেন তাঁকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,
আল্লাহ ছাড়া কোন
<span class="c2">(সত্য)</span>
ইলাহ নেই। তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।হে মুমিনগণ,
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর,
যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেয়ো না।<span class="c5">[সূরা আল-ইমরান,<span class="c6" data-redactor-class="c6">আয়াত:</span> ১০২]</span>হে মানুষ,
তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর,
যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফ্স থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর,
যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাক। আর ভয় কর রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।<span class="c5">[সূরা আন-নিসা,<span class="c6" data-redactor-class="c6"> আয়াত:</span> ১হে ঈমানদারগণ,
তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সঠিক কথা বল।তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে,
সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করবে।[সূরা আল আহযাব,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আয়াত:</span> ৭০,৭১]</span>অতঃপর 'দীনের মৌলিক বিষয়ে ইমাম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহুর আকীদাহ'
এর ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য আমি বিস্তারিত গবেষণা শুরু করলাম। আর ভূমিকায় তিন ইমাম
: মালিক,
শাফে'ঈ ও আহমাদ রাহিমাহুমুল্লাহ এর আকীদাও সংক্ষেপে অর্ন্তভুক্ত করলাম।কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তি আমার কাছে এ তিনজন ইমামের আকীদাহ পৃথক করার দাবি করলেন। আর আমি নিজেও চার ইমামের আকীদার বর্ণনা পুরো করার জন্যে ইমাম আবূ হানীফার তাওহীদ,
কাদার
<span class="c2">(তাকদীর)</span>,
ঈমান ও সাহাবীদের ব্যাপারে আকীদাহ এবং তর্কশাস্ত্রের বিপরীতে তাঁর অবস্থানের যে বিস্তারিত গবেষণা পেশ করেছি তার সারসংক্ষেপ ভূমিকায় তা যুক্ত করা সঙ্গত দেখেছি।</p><p class="ltr justify" id="p38">আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে,
এ আমলটি যেন কেবল তার সন্তুষ্টির জন্য হয়। আর তিনি যেন আমাদের সবাইকে তার কিতাবের অনুসরণ এবং তার রাসূলের সুন্নাতের ওপর চলার তাওফীক দান করেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই এ কাজের একমাত্র উদ্দেশ্য,
তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তিনি কতনা উত্তম অভিভাবক।</p><p class="ltr justify" id="p39">আমাদের শেষ দাবি হলো,
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে,
যিনি সৃষ্টিকুলের রব।</p><p class="ltr justify" id="p40">মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রাহমান আল-খামিস</p><h2 class="ltr start" id="p4"><a id="t4" class="anchor"> </a><a href="#t4">প্রথম অধ্যায়</a></h2><h3 class="ltr start" id="p5"><a id="t5" class="anchor"> </a><a href="#t5">দীনের মৌলিক বিষয়ে চার ইমামের আকীদাহ এক</a></h3><p class="ltr justify" id="p41">ঈমানের মাস'আলা ছাড়া।</p><p class="ltr justify" id="p42">চার ইমাম
—আবূ হানীফা,
মালিক,
শাফে'ঈ ও আহমাদ—এর আকীদাহ তাই যা কুরআন ও সূন্নাহ বলেছে এবং যার ওপর সাহাবীগণ ও উত্তমভাবে তাদের অনুসারী—তাবে'ঈগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আল্লাহর জন্যে যাবতীয় প্রশংসা যে দীনের মৌলিক বিষয়ে তাদের মধ্যে কোন বিবাদ নেই,
বরং তারা রবের সিফাতের ঈমান ও কুরআন আল্লাহর কালাম মাখলুক নয় এবং ঈমানের জন্যে অবশ্যই অন্তর ও মুখের সত্যারোপ জরুরী মর্মে একমত ছিলেন। বরং তারা সবাই তর্কশাস্ত্রী জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় ও অন্যান্য যারা ইউনানী ফালসাফাহ
<span class="c2">(গ্রিক দর্শন)</span>
এবং কালামী মতাদর্শ
<span class="c2">(তর্কশাস্ত্র)</span>
দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল তাদের প্রতিবাদ করতেন। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন,তবে আল্লাহর রহমত তার বান্দাদের প্রতি যে,
উম্মতের ভেতর সুখ্যাতি সম্পন্ন ইমামগণ—
যেমন চার ইমাম ও অন্যরা কুরআন,
ঈমান ও রবের সিফাতের ক্ষেত্রে কালাম শাস্ত্রী—জাহমিয়্যাদের মতবাদের প্রতিবাদ করতেন। আর তারা সালাফগণ যার ওপর ছিলেন তার ওপর একমত ছিলেন,
যেমন আখিরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে,
কুরআন আল্লাহর কালাম মাখলুক নয় এবং ঈমানের জন্য অন্তরের বিশ্বাস ও মুখের সত্যারোপ জরুরী।আর তিনি বলেন,
প্রসিদ্ধ সব ইমাম আল্লাহ তাআলার জন্য সিফাত সাব্যস্ত করেন। এবং তারা বলেন,
কুরআন আল্লাহর কালাম মাখলুক নয়। তারা আরো বলেন,
আখিরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে। এটিই সাহাবী ও উত্তম-ভাবে তাদের অনুসারী আহলে বাইত ও অন্যদের মাযহাব। আর এটিই অনুসরণীয় ইমামগণের মাযহাব যেমন,
মালিক ইবন আনাস,
সাওরী,
লাইস ইবন সা'আদ, আওযা'ঈ, আবূ হানীফা,
শাফে'ঈ ও আহমাদ ইবন হান্বাল...<span class="c6">শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহকে ইমাম শাফ'ঈর আকীদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এ বলে উত্তর দেন:</span>ইমাম শাফে'ঈ—রাদিয়াল্লাহু আনহু এর আকীদাহ এবং উম্মতের সালাফ যেমন মালেক,
সাওরী,
আওযা'ঈ, ইবনুল মুবারক,
আহমাদ ইবন হাম্বাল ও ইসহাক ইবন রাহওয়াই এর আকীদাই হচ্ছে অনুসরণীয় মাশায়েখদের আকিদা যেমন ফুযাইল ইবন ইয়ায,
আবূ সুলাইমান আদ-দারানী, সাহাল ইবন আব্দুল্লাহ আত-তাসতরী প্রমূখ। কারণ,
এসব ইমাম ও তাদের ন্যায় ইমামদের মাঝে দীনের মৌলিক বিষয়ে কোন মতভেদ নেই।</p><p class="ltr justify" id="p43">অনুরূপভাবে ইমাম আবূ হানীফা—রাহিমাহুল্লাহ—
কারণ, তাওহীদ, তাকদীর ও এর মতো অন্যান্য বিষয়ে তার থেকে প্রমাণিত আকীদা এ সব ইমামের আকীদার মতোই। আর এ সব ইমামের আকিদা তাই ছিল যার ওপর ছিলেন সাহাবীগণ ও উত্তমভাবে তাদের অনুসারী তাবেঈগণ। আর এ আকীদাই কুরআন ও সুন্নাহ বর্ণনা করেছে।</p><p class="ltr justify" id="p44">এই সেই আকীদাহ যা আল্লামা সিদ্দীক হাসান খান
<span class="c2">(ভূপালী)</span>
গ্রহণ করেছেন,
যেমন তিনি বলেন,অতএব আমাদের মাযহাব সালাফদেরই মাযহাব;
তুলনা ছাড়া
<span class="c2">(সিফাত)</span>
সাব্যস্ত করা এবং অকার্যকর সাব্যস্ত করা ছাড়া তাঁকে পবিত্র জানা। এটি ইসলামের ইমামগণ মালিক,
শাফে'ঈ, সাওরী, ইবনুল মুবারাক,
ইমাম আহমাদ...
ও তাদের ভিন্ন অন্যান্যদের মাযহাব। কারণ,ইমামগণের মাঝে দীনের মৌলিক বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই। অনুরূপভাবে আবূ হানীফা—রাদিয়াল্লাহু আনহু—
কারণ তার থেকে প্রমাণিত আকীদাহ এসব ইমামগণের আকীদারই মতো। আর এটা তাই যা কুরআন ও সুন্নাহ বর্ণনা করেছে...</p><p class="ltr justify" id="p45">দীনের মৌলিক মাসআলায় অনুকরণীয় চার ইমাম-
আবূ হানীফা,
মালিক,
শাফ'ঈ ও আহমাদ যে আকীদা পোষণ করেন সে বিষয়ে তাদের কিছু উক্তি এবং ইলমুল কালাম বা তর্কশাস্ত্র সম্পর্কে তাদের অবস্থানটি এখানে তুলে ধরা হলো।</p><h2 class="ltr start" id="p6"><a id="t6" class="anchor"> </a><a href="#t6">দ্বিতীয় অধ্যায়</a></h2><h3 class="ltr start" id="p7"><a id="t7" class="anchor"> </a><a href="#t7">ইমাম আবূ হানীফার আকীদাহ:</a></h3><h3 class="ltr justify" id="p8"><a id="t8" class="anchor"> </a><a href="#t8">তাওহীদ বিষয়ে ইমাম আবূ হানীফার বাণীসমূহ:</a></h3><h4 class="ltr justify" id="p9"><a id="t9" class="anchor"> </a><a href="#t9">প্রথমত: আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে তার আকীদা এবং শরীয়ত সম্মত উসীলার বর্ণনা ও বিদআতী উসীলা বাতিল করণ:</a></h4><p class="ltr justify" id="p46">ইমাম আবূ হানীফা রহ.
বলেন, কারো জন্য উচিত নয় যে,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
সে আল্লাহকে তার নাম ছাড়া ডাকবে। আর আল্লাহকে ডাকার ক্ষেত্রে দো'আর অনুমতি যেভাবে দেওয়া হয়েছে সেটিই নির্দেশিত যা তার বাণী থেকে গৃহিত:</span></p><p class="ltr justify" id="p47">আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।আল আরাফ
: ১৮০</p><p class="ltr justify" id="p48">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
দু'আকারীর জন্য এ কথা বলা মাকরূহ যে,
<span class="c2">(হে আল্লাহ!)</span>
আমি তোমার নিকট অমুকের উসীলায় কিংবা তোমার নবীগণ ও তোমার রাসূলদের উসিলায় ও তোমার কাবা ঘর ও মাশআরে হারাম
<span class="c2">(অর্থাৎ পবিত্র নিদর্শনাবলী)</span>
এর উসীলায় প্রার্থনা করছি।</p><p class="ltr justify" id="p49">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
কারো জন্য উচিত নয় যে,
সে আল্লাহকে তার নাম ছাড়া ডাকবে। আর আমি অপছন্দ করি তোমার
'আরশের ইজ্জতের বন্ধনের উসিলায় অথবা তোমার সৃষ্টির অসীলায় বলা।</p><h4 class="ltr justify" id="p10"><a id="t10" class="anchor"> </a><a href="#t10">দ্বিতীয়ত: সিফাত সাব্যস্ত এবং জাহমিয়্যাদের প্রতিবাদ তার বাণী:</a></h4><p class="ltr justify" id="p50">তিনি বলেন,
আল্লাহকে মাখলুকের গুণে গুণান্বিত করা যাবে না। আর তাঁর রাগ ও খুশি তাঁর সিফাতসমূহ থেকে দুটি সিফাত নির্দিষ্ট ধরন ব্যতীত। এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ। তিনি রাগ করেন ও খুশি হন। এমন বলা যাবে না যে,
তার রাগ মানে তাঁর শাস্তি এবং তাঁর খুশি মানে তাঁর সাওয়াব। আমরা তাঁকে সেভাবেই গুণান্বিত করব যেভাবে তিনি তার নিজের সত্তাকে গুণান্বিত করেছেন। তিনি এক,
অমুখাপেক্ষী,
তিনি কাউকে জন্ম দেননি,
তাকে কেউ জন্ম দেয়নি। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি চিরঞ্জীব,
ক্ষমতাবান,
সর্বশ্রোতা,
সর্বদ্রষ্টা এবং প্রজ্ঞাবান। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে। তাঁর হাত মাখলুকের হাতের মতো নয় এবং তাঁর চেহারা সৃষ্টির চেহারার মতো নয়।</p><p class="ltr justify" id="p51">তিনি আরো বলেন,
তার রয়েছে হাত,
রয়েছে চেহারা ও নাফ্স,
যেমনটি আল্লাহ তা'আলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। অতএব কুরআনে আল্লাহ তা'আলা যা উল্লেখ করেছেন,
যেমন তাঁর চেহারা,
হাত ও নাফসের উল্লেখ তা সব তাঁর সিফাত নির্দিষ্ট ধরন ছাড়াই। এমন বলা যাবে না যে,
তাঁর হাত হলো তার কুদরত বা তার নি'আমত। কারণ এতে সিফাতকে বাতিল করা হয়। আর এটিই কাদারিয়া ও মু'তাযিলাদের কথা।</p><p class="ltr justify" id="p52">তিনি আরো বলেন,
কারো জন্য আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে কথা বলা উচিত নয়। বরং তিনি নিজেকে যে গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত করেছেন তাকে তা দ্বারাই গুণান্বিত করতে হবে নিজস্ব রায়ের উপর ভিত্তি করে তাঁর ব্যাপারে কিছু বলবে না। বিশ্বজাহানের রব আল্লাহ তা'আলা সুমহান।</p><p class="ltr justify" id="p53">যখন তাকে নুযুলে ইলাহী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো তিনি বলেন,
তিনি নাযিল হন কোনো ধরন ছাড়াই।</p><p class="ltr justify" id="p54">আবূ হানীফা বলেন,
আল্লাহকে উপর থেকে ডাকা হবে নীচ থেকে নয়। কারণ,
নীচ কোন ভাবেই রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের গুণ হতে পারে না।</p><p class="ltr justify" id="p55">তিনি আরো বলেন,
তিনি রাগ করেন ও সন্তুষ্ট হন। এ কথা বলা যাবে না যে,
তার রাগ তার শাস্তি এবং তার সন্তুষ্টি তার সাওয়াব।</p><p class="ltr justify" id="p56">তিনি আরো বলেন,
তিনি তাঁর কোনো সৃষ্টির মতো নন এবং তাঁর কোন মাখলুক তাঁর মতো নয়। তিনি তাঁর নাম ও সিফাতসমূহ দ্বারা সর্বদা গুণান্বিত রয়েছেন এবং সর্বদা থাকবেন।</p><p class="ltr justify" id="p57">তিনি আরো বলেন,
তাঁর সিফাতসমূহ মাখলুকের সিফাতসমূহের বিপরীত। তিনি জানেন,
তবে আমাদের জানার মতো নয়। তিনি ক্ষমতা রাখেন,
তবে আমাদের ক্ষমতার মতো নয়,
তিনি দেখেন তবে আমাদের দেখার মতো নয়। তিনি শোনেন তবে আমাদের শোনার মতো নয়। তিনি কথা বলেন তবে আমাদের কথার মতো নয়।</p><p class="ltr justify" id="p58">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তাআলাকে মাখলুকের গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত করা যাবে না।</p><p class="ltr justify" id="p59">তিনি আরো বলেন,
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে মানুষের কোনো গুণ দ্বারা গুণান্বিত করবে সে কুফরী করল।</p><p class="ltr justify" id="p60">তিনি আরো বলেন,
আর তার সিফাতসমূহ সত্তাগত ও কর্মগত। সত্তাগত সিফাতগুলো হচ্ছে হায়াত,
কুদরাত,
ইলম, কালাম, শ্রবন, দর্শন এবং ইচ্ছা। আর কর্মগত সিফাতগুলো হচ্ছে,
সৃষ্টি করা,
রিযিক দেওয়া,
আবিষ্কার করা,
উদ্ভাবন করা,
তৈরী করাসহ অন্যান্য কর্মগত সিফাত। তিনি তাঁর নামসমূহ ও সিফাতসমূহ দ্বারা আদিতে বিশেষিত ছিলেন এবং অনন্তেও থাকবেন।</p><p class="ltr justify" id="p61">তিনি আরো বলেন,
তিনি তাঁর কর্মগত বিশেষণের মাধ্যমে সর্বদা কর্মরত। কর্ম করা তাঁর অনাদি সিফাত। আর আল্লাহ তাআলা হলেন কর্তা। আর কর্ম তাঁর অনাদি সিফাত। আর কর্মের ফলাফল মাখলুক,
তবে আল্লাহ তাআলার কর্ম মাখলুক নয়।</p><p class="ltr justify" id="p62">তিনি আরো বলেন,
যে বলে আমার রব আসমানে না যমীনে,
আমি তা জানি না,
সে কুফরী করল। অনুরূপভাবে সে ব্যক্তিও
<span class="c2">(কুফরী করল)</span>
যে বলে,
তিনি আরশে,
তবে আরশ যমীনে না আসমানে তা জানি না।</p><p class="ltr justify" id="p63">আর তিনি ঐ মহিলাকে বলেন,
যে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে,তোমার ইলাহ কোথায় যার তুমি এবাদত কর?
তিনি বললেন,
আল্লাহ তা'আলা আসমানে যমীনে নয়। ফলে তাঁকে এক ব্যক্তি বলল,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আল্লাহর বাণীটি দেখেছেন
?আর তিনি তোমাদের সাথেই।আল হাদীদ
:</span> ৪তিনি বললেন,
তা হলো যেমন তুমি কোন ব্যক্তিকে লিখ,
আমি তোমার সাথেই আছি,
অথচ তুমি তার থেকে অদৃশ্যে।</p><p class="ltr justify" id="p64">তিনি বলেন,
অনুরূপভাবে আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে,
তবে তা তার মাখলুকের হাতসমূহের মতো নয়।</p><p class="ltr justify" id="p65">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ আসমানে রয়েছেন যমীনে নয়। ফলে তাকে এক লোক বলল,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আল্লাহ তাআলার বাণীটি দেখেছেন
?আর তিনি তোমাদের সাথেই।আল হাদীদ
:</span> ৪তিনি বললেন,
তা হলো যেমন তুমি কোন ব্যক্তিকে লিখ,
আমি তোমার সাথেই আছি অথচ তুমি তার থেকে অদৃশ্যে।</p><p class="ltr justify" id="p66">তিনি বলেন,
আল্লাহ তাআলা
<span class="c2">(মুসার সাথে)</span>
কথা বলেছেন;
মূসা আলাইহিস সালাম <span class="c2">(আল্লাহর সাথে)</span>
কথা বলেননি।</p><p class="ltr justify" id="p67">তিনি বলেন,
তিনি নিজে কথা বলার কারণেই কথক
<span class="c2">(মুতাকাল্লিম)</span>
আর কালাম হলো একটি অনাদি সিফাত।</p><p class="ltr justify" id="p68">তিনি বলেন,
আর তিনি কথা বলেন তবে আমাদের কথার মতো নয়।</p><p class="ltr justify" id="p69">তিনি বলেন,
মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কথা শুনেছেন। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">আর আল্লাহ মূসার সাথে সুস্পষ্টভাবে কথা বলেছেন।আন নিসা
:</span> ১৬৪</p><p class="ltr justify" id="p70">তিনি বলেন,
কথা আল্লাহ তা'আলাই বলেছেন;
মূসা আলাইহিস সালাম কথা বলেননি।</p><p class="ltr justify" id="p71">তিনি বলেন,
কুরআন আল্লাহর কালাম,
মাসাহেফে লিপিবদ্ধ,
অন্তরে সংরক্ষিত এবং যবানে পঠিত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিলকৃত।</p><p class="ltr justify" id="p72">তিনি বলেন,
কুরআন মাখলুক নয়।</p><h4 class="ltr justify" id="p11"><a id="t11" class="anchor"> </a><a href="#t11">ইমাম আবূ হানীফার বাণীসমূহ:তাকদীরের বিষয়ে</a></h4><p class="ltr justify" id="p73">এক লোক ইমাম আবূ হানীফার এর নিকট তাকদীর—বিষয়ে বিতর্ক করার জন্যে আসল। তিনি তাকে বললেন,
তুমি কি জান না যে,
তাকদীরে দৃষ্টি দানকারী সূর্যের দুই চোখে দৃষ্টি দানকারীর মতো। যত বেশি দৃষ্টি দিবে তত বেশী হয়রানি বাড়বে।</p><p class="ltr justify" id="p74">ইমাম আবূ হানিফা বলেন,
আল্লাহ তা'আলা সকল সৃষ্টি সম্পর্কে তার সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই অবগত ছিলেন।</p><p class="ltr justify" id="p75">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তাআলা অস্তিত্বহীন বস্তুকে তার অস্তিত্বহীন অবস্থায় অস্তিত্বহীন হালতে জানেন। তিনি যখন তা সৃষ্টি করবেন কেমন হবে তাও তিনি জানেন। আল্লাহ তাআলা অস্তিত্বশীল বস্তুকে অস্তিত্বশীল অবস্থায় অস্তিত্বশীল হালতে জানেন এবং তার ধ্বংস কিভাবে হবে তাও তিনি জানেন।</p><p class="ltr justify" id="p76">ইমাম আবূ হানিফা বলেন,
আর তার তাকদীর লাওহে মাহফুজে রয়েছে।</p><p class="ltr justify" id="p77">তিনি আরো বলেন,
আর আমরা স্বীকার করি যে,
আল্লাহ তাআলা কলমকে লিখার নির্দেশ দিয়েছেন,
তখন কলম বলল,
হে আমার রব!
আমি কি লিখবো?
তখন আল্লাহ তাআলা বললেন,
কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তা লিপিবদ্ধ করো। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন,আর তারা যা করেছে,
সব কিছুই
'আমলনামায়'
রয়েছে।আর ছোট বড় সব কিছুই লিখিত আছে।আল-<span class="c6">কামার :</span> ৫২,৫৩</p><p class="ltr justify" id="p78">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর চাওয়া ছাড়া কিছুই হয় না।</p><p class="ltr justify" id="p79">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
আল্লাহ সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন,
তবে কোন বস্তু থেকে নয়।</p><p class="ltr justify" id="p80">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করার আগেই স্রষ্টা ছিলেন।</p><p class="ltr justify" id="p81">তিনি আরো বলেন,
আমরা স্বীকার করি যে,
বান্দা তার আমল,
তার স্বীকারোক্তি ও তার জ্ঞানসহই মাখলুক। কর্তাই যখন মাখলুক তার কর্ম মাখলুক হওয়ার আরো বেশি উপযুক্ত।</p><p class="ltr justify" id="p82">তিনি বলেন,
বান্দাদের সবকর্ম যেমন নড়চড় করা ও স্থীর থাকা তাদেরই উপার্জন,
তবে আল্লাহ তাআলা তার স্রষ্টা। আর এ সবই তার চাওয়া,
ইলম, ফায়সালা ও নির্ধারণ দ্বারা হয়।</p><p class="ltr justify" id="p83">ইমাম আবূ হানীফা আরো বলেন,
বান্দাদের সবকর্ম যেমন নড়চড় করা ও স্থীর থাকা প্রকৃত পক্ষে তাদের উর্পাজন,
আর তা সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। এ গুলো সবই তাঁর চাওয়া,
ইলম, ফায়সালা ও নির্ধারণ অনুযায়ী হয়। নেক আমলসমূহ আল্লাহর আদেশ এবং তার মুহাব্বত,
সন্তুষ্টি,
ইলম, চাওয়া, ফয়সালা ও নির্ধারণ অনুযায়ী অবধারিত হয়েছে। আর পাপসমূহ তাঁর ইলম,
ফায়সালা,
নির্ধারণ ও চাওয়া অনুযায়ী হয়,
তবে তাঁর মুহাব্বত,
সন্তুষ্টি ও তাঁর নির্দেশে হয় না।</p><p class="ltr justify" id="p84">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তাআলা মাখলুককে কুফর ও ঈমান থেকে মুক্তাবস্থায় সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে সম্বোধন করেছেন,
আদেশ দিয়েছেন ও নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কুফরী করলো আল্লাহ তাকে অপধস্থ করার কারণেই সে নিজের কর্ম,
অস্বীকার ও তার সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার দ্বারা কুফরী করলো। আর যে ব্যক্তি ঈমান আনয়ন করলো সে আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্য প্রাপ্ত হয়েই নিজের কর্ম,
স্বীকারোক্তি ও সত্যারোপ দ্বারা ঈমান আনয়ন করলো।</p><p class="ltr justify" id="p85">আর তিনি বলেন,
আল্লাহ তা'আলা আদম সন্তানদের তার মেরুদণ্ড থেকে পরমাণুর আকৃতিতে বের করেছেন,
তারপর তাদের জ্ঞানবান করেছেন। তারপর তাদের সম্বোধন করেছেন ও ঈমান আনার নির্দেশ দিযেছেন এবং কুফর থেকে নিষেধ করেছেন,
ফলে তারা তার রুবুবিয়্যাত স্বীকার করে। এটি ছিল তাদের ঈমান। তারা এ ফিতরাতের ওপর জন্ম গ্রহণ করে। তারপর যে কুফরী করল সে
<span class="c2">(ফিতরাত)</span>
পরিবর্তন ও বিকৃতি করল। আর যে ঈমান আনল ও বিশ্বাস করল সে তার ওপর অটুট থাকল ও স্থায়ী হল।</p><p class="ltr justify" id="p86">তিনি আরো বলেন,
তিনিই সবকিছু নির্ধারণ ও ফায়সালা করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো কিছুই হয় না তার চাওয়া,
ইলম, ফায়সালা, নির্ধারণ ও লাওহে মাহফুযে তার লিখনি ছাড়া।</p><p class="ltr justify" id="p87">তিনি আরো বলেন,
আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টির কাউকে কুফরের ওপর বাধ্য করেন নি আর না ঈমানের ওপর,
তবে তিনি তাদেরকে অসংখ্য ব্যক্তিরূপে সৃষ্টি করেছেন। ঈমান ও কুফর বান্দাদের কর্ম। যে কুফরী করে তার কুফরী করা অবস্থায় আল্লাহ তাকে কাফির বলেই জানেন। তারপর যখন সে ঈমান আনে তিনি তাকে মুমিন হিসেবে জানেন এবং তার ইলমের কোনো পরিবর্তন ছাড়া তিনি তাকে ভালো বাসেন।</p><h4 class="ltr justify" id="p12"><a id="t12" class="anchor"> </a><a href="#t12">ইমাম আবূ হানীফা এর বাণীসমূহঈমান বিষয়ে</a></h4><p class="ltr justify" id="p88">তিনি বলেন,
ঈমান হলো স্বীকার করা ও বিশ্বাস করা</p><p class="ltr justify" id="p89">তিনি আরো বলেন,
ঈমান হলো মুখে স্বীকার করা ও অন্তরে বিশ্বাস করা। শুধু মুখের স্বীকারোক্তির নাম ঈমান হয় না। এটিই বর্ণনা করেছেন ইমাম তাহাবী ইমাম আবূ হানীফা ও তার দু'জন সাথী থেকে।</p><p class="ltr justify" id="p90">ঈমাম আবূ হানীফা বলেন,
ঈমান বাড়ে না এবং কমেও না।</p><p class="ltr justify" id="p91"><span class="c2">(সংকলক বলেন)</span>
আমি বলছি,
ঈমান বৃদ্ধি না হওয়া ও না কমা মর্মে তার বাণী এবং ঈমানের নামকরণের ক্ষেত্রে তার আরেকটি বাণী যে,
ঈমান হচ্ছে অন্তরের বিশ্বাস ও মুখে স্বীকার করা আর আমল ঈমানের হাকীকত থেকে বাইরের জিনিস। বস্তুত ঈমানের ক্ষেত্রে এ দু'টি বিষয়ই ইসলামের অন্যান্য ইমাম যেমন মালিক,
শাফে'ঈ, আহমাদ, ইসহাক, বুখারী প্রমুখের আকীদাহ ও ইমাম আবূ হানীফার আকীদাহর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী। তবে হক তাদের সাথেই রয়েছে।</p><p class="ltr justify" id="p92">ঈমাম আবূ হানীফার কথা সত্যকে পাশ কাটিয়ে গেছে,
তবে তিনি উভয় অবস্থায় সাওয়াব প্রাপ্ত হবেন। ইবনু আব্দুল বারর ও ইবনু আবীল ইয্য এর আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে,
আবূ হানীফা তার এ মত থেকে ফিরে এসেছেন। আল্লাহই সর্বাধিক জানেন।</p><h4 class="ltr justify" id="p13"><a id="t13" class="anchor"> </a><a href="#t13">ইমাম আবূ হানীফা এর বাণীসাহাবীদের বিষয়ে</a></h4><p class="ltr justify" id="p93">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সাহাবীর নাম সুনাম ছাড়া উল্লেখ করবো না।</p><p class="ltr justify" id="p94">তিনি আরো বলেন,
রাসূলের সাহাবীদের কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো না এবং কাউকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বন্ধু বানাবো না।</p><p class="ltr justify" id="p95">এবং তিনি বলেন,
রাসূলের সান্নিধ্যে তাদের সামান্য সময় অবস্থান করা আমাদের কারো সারা জীবনের আমল হতে উত্তম,
যদিও তা দীর্ঘ হয়।</p><p class="ltr justify" id="p96">এবং তিনি বলেন,
আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর এ উম্মতের সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি হলো আবূ বকর সিদ্দীক,
তারপর উমার,
তারপর উসমান তারপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন।</p><p class="ltr justify" id="p97">এবং তিনি বলেন,
রাসূলের পর সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি আবূ বকর,
উমার, উসমান এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন। অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব সাহাবীর ভালো আলোচনা ছাড়া সমালোচনা থেকে বিরত থাকবো।</p><h4 class="ltr justify" id="p14"><a id="t14" class="anchor"> </a><a href="#t14">ইলমুল কালাম ও দীনের বিষয়ে তর্কবিতর্ক করা থেকে তার নিষেধ করা</a></h4><p class="ltr justify" id="p98">ইমাম আবূ হানীফা বলেন,
প্রবৃত্তির অনুসারীরা বাসরাতে অনেক। আমি ইলমে কালামকে সবচেয়ে সম্মানি ইলম ধারণা করে তাতে বিশেবারের অধিক প্রবেশ করি;
কখনো তাতে একবছর বা তার চেয়ে বেশি আবার কখনো কম সময় অবস্থান করি।</p><p class="ltr justify" id="p99">তিনি আরো বলেন,
আমি ইলমু কালাম
<span class="c2">(তর্কশাস্ত্র)</span>
শিখে-শিখে সে স্তরে পৌঁছলাম যে স্তরে পৌঁছার কারণে আমার দিকে আঙ্গুলসমূহ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়। আর আমি হাম্মাদ ইবন আবূ সুলাইমানের মজলিসের নিকটেই বসতাম। একদা এক মহিলা এসে বলল,
এক ব্যক্তির একজন বাঁদী স্ত্রী আছে,
সে তাকে সুন্নাহ পদ্ধতিতে তালাক দিতে চায়,
তাকে কয় তালাক দিবে?</p><p class="ltr justify" id="p100">আমি বুঝতে পারলাম না তাকে কি বলব,
তাই আমি তাকে নির্দেশ দিলাম যেন হাম্মাদকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করে এবং ফিরে এসে যেন আমাকে জানায়। সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন,
হায়েয এবং সহবাস থেকে মুক্ত পবিত্র অবস্থায় তাকে এক তালাক দেবে তারপর দুই হায়েয পর্যন্ত এ অবস্থায় রেখে দেবে। তারপর যখন সে গোসল করে পবিত্র হবে,
তখন সে অন্যান্য স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যাবে। মহিলাটি ফিরে এসে আমাকে বিষয়টি অবহিত করল। তখন আমি বললাম,
ইলমুল কালামে আমার আর কোনো দরকার নেই। আমি আমার জুতা দুটো নিলাম এবং হাম্মাদের নিকট এসে বসলাম।</p><p class="ltr justify" id="p101">এবং তিনি বলেন,
আমর ইবন উবাইদকে আল্লাহ লা'নত করুক। কারণ,
সে মানুষের জন্য ইলমে কালাম যে বিষয়ে কথা বলাতে মানুষের কোন উপকার হয় না তার পথ খুলেছে।</p><p class="ltr justify" id="p102">এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করল,
জিসিম ও আরায
<span class="c2">(আল্লাহর শরীর ও সিফাত)</span>
সম্পর্কে তর্কশাস্ত্রে মানুষ যা আবিষ্কার করেছে সে সস্পর্কে আপনার মতামত কি?
তিনি বললেন,
এগুলো হচ্ছে দার্শনিকদের কথাবার্তা। তুমি আসার ও সালাফদের পথ গ্রহণ কর। আর তুমি প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বস্তু থেকে বেঁচে থাকো। কারণ এ গুলো সবই বিদ'আত।</p><p class="ltr justify" id="p103">হাম্মাদ ইবন আবি হানীফা বলেন,
আমার পিতা একদিন আমার নিকট প্রবেশ করলেন। তখন আমার নিকট কালামবিদদের কতক লোক উপস্থিত ছিল। আমরা তখন কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি করছিলাম। এতে আমাদের আওয়াজ উঁচা হলো। আমি যখন বাড়ির ভিতরে তার আগমন শুনতে পারলাম তার নিকট গেলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন,
হে হাম্মাদ তোমার নিকট কারা?
আমি বললাম অমুক অমুক। আমার নিকট যারা ছিল তাদের নাম উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন,
তোমরা কি নিয়ে আছো?
আমি বললাম,
<span class="c2">(ইলমুল কালামের)</span>
অমুক অমুক অধ্যায়ে। তখন তিনি আমাকে বললেন,
হে হাম্মাদ!
তুমি কালাম বর্জন করো।</p><p class="ltr justify" id="p104">তিনি বলেন,
আমি আমার পিতাকে কখনো এলোমেলো পাইনি এবং এমন লোকদের মধ্যেও নয় যে কোন বিষয়ে আদেশ দিয়ে তা থেকে আবার নিষেধ করে। আমি তাকে বললাম,
হে আমার পিতা,
তুমিই কি আমাকে তা শেখার নির্দেশ দাও নি?
তিনি বললেন,
অবশ্যই,
হে আমার ছেলে। তবে আমি আজকে তোমাকে তার থেকে নিষেধ করছি। আমি বললাম কেন?
তিনি বললেন,
হে আমার ছেলে কালামের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিতর্ককারী এরা সবাই যাদেরকে তুমি দেখেছো এক কথা ও একই দীনের ওপর ছিল,
অবশেষে শয়তান তাদের সম্পর্ক নষ্ট করল এবং তাদের মাঝে দুশমণি ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে দিল ফলে তারা বিপরীত মুখী হয়ে পড়ল।</p><p class="ltr justify" id="p105">এবং আবূ হানীফা আবূ ইউসূফকে বলেন,
তুমি জন সাধারণকে দীনের মৌলিক বিষয়ে কালাম সম্পর্কে কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। কারণ তারা এমন লোক যারা তোমার অন্ধ অনুকরণ করবে,
ফলে সেটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যাবে।</p><p class="ltr justify" id="p106">এ হলো ইমাম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহ এর কিছু বাণী এবং দীনের মৌলিক বিষয়ে তিনি যা বিশ্বাস করতেন তার বর্ণনা এবং ইলমুল কালাম ও মুতাকাল্লিমীনের বিপক্ষে তার অবস্থান।</p><h2 class="ltr start" id="p15"><a id="t15" class="anchor"> </a><a href="#t15">তৃতীয় অধ্যায়</a></h2><h3 class="ltr start" id="p16"><a id="t16" class="anchor"> </a><a href="#t16">ইমাম মালেক ইবন আনাসের আকীদাহ</a></h3><h3 class="ltr justify" id="p17"><a id="t17" class="anchor"> </a><a href="#t17">তাওহীদ বিষয়ে তাঁর বাণী:</a></h3><p class="ltr justify" id="p107">হারাভী শাফে'ঈ থেকে বর্ণনা করেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
তিনি বলেন
:</span> ইমাম মালেককে কালাম
<span class="c2">(তর্কশাস্ত্র)</span>
ও তাওহীদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন,
নবীর প্রতি এ ধারণা করা অসম্ভব যে,
তিনি তার উম্মতকে এস্তেঞ্জা শিখিয়েছেন অথচ তাদের তাওহীদ শিখাননি। তাওহীদ হলো তাই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
যেমন :</span>
“আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলবে,
আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। যার দ্বারা জান ও মাল নিরাপদ থাকে তাই প্রকৃত তাওহীদ।</p><p class="ltr justify" id="p108">দারাকুতনী ওয়ালীদ ইবন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেছেন,
আমি মালেক,
সাওরী,
আওযা'ঈ ও লাইস ইবন সা'আদকে সিফাত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তারা বললেন,
এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই রেখে দাও।</p><p class="ltr justify" id="p109">ইবন আবদুল বার বলেন,
ইমাম মালেককে জিজ্ঞাসা করা হলো,
কিয়ামতের দিন কি আল্লাহকে দেখা যাবে?
তিনি বললেন,
হ্যাঁ । আল্লাহ আয্যা অজাল্লা বলেন,সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।আল-<span class="c6">কিয়ামাহ :</span> ২২আর তিনি অপর সম্প্রদায়ের জন্য বলেন,কখনো নয়,
নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।আল-<span class="c6">মুতাফফিফীন :</span>
১৫আর কাযী আয়ায ইবন নাফে ও আশহাব থেকে
'তারতীবুল মাদারিক'
নামক গ্রন্থে বলেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
তারা উভয়ে বললো
:</span> হে আবূ আব্দুল্লাহ তাদের একদল কি অপর দলের চেয়ে বেশি হবে?সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।তারা আল্লাহর দিকে দৃষ্টি দেবে?
তিনি বললেন,
হ্যাঁ,
তাদের এ দু'চোখ দ্বারা। আমি তাকে বললাম,
কতক সম্প্রদায় বলে,
আল্লাহর দিকে তাকানো যাবে না। এখানে দেখার অর্থ হলো,
সাওয়াবের অপেক্ষা করা। তিনি বললেন,
তারা মিথ্যা বলেছে,
বরং আল্লাহর দিকেই তাকানো হবে। তুমি কি মূসা আলাইহিস সালাম এর কথা শোননি?
তিনি বলেছেন,
<span class="c1" data-redactor-tag="span">“হে আমার রব!
আপনি আমাকে দেখা দিন,
আমি আপনাকে দেখব"</span>। <span class="c2">(আল-<span class="c6" data-redactor-class="c6">আরাফ :</span> ১৪৩)</span> তুমি কি মনো করো মূসা তার রবের নিকট অসম্ভব কিছু চেয়েছেন?
আল্লাহ বলেন,তুমি আমাকে কখনো দেখবে না।আল-<span class="c6">আরাফ :</span> ১৪৩অর্থাৎ, দুনিয়াতে। কারণ,
এটি হলো ক্ষণস্থায়ী ঘর। আর অস্থায়ী বস্তু দ্বারা চিরস্থায়ী বস্তু দেখা যায় না। যখন তারা স্থায়ী ঘরের দিকে যাবে তখন তারা স্থায়ী বস্তু দ্বারা স্থায়ী বস্তু দেখবে। আল্লাহ বলেন,কখনো নয়,
নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।আল-<span class="c6">মুতাফফিফীন :</span>
১৫</p><p class="ltr justify" id="p110">আবূ নু'আইম জা'ফর ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেছেন,
আমরা মালেক ইবন আনাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম এমতাবস্থায় এক লোক তার কাছে এসে বলল,
হে আবূ আব্দুল্লাহ!
<span class="c1">“রহমান আরশের ওপর ওঠেছেন"</span>
কিভাবে ওঠেছেন
?</p><p class="ltr justify" id="p111">তার এ প্রশ্নের কারণে মালিক যে কষ্ট পেলেন অন্য কোনো কারণে তিনি এরূপ কষ্ট পাননি। তিনি যমীনের দিকে তাকালেন ও তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ঠুকতে লাগলেন,
এমনকি তার শরীরে ঘাম বেরিয়ে আসল। অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন ও লাঠিটি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন,
<span class="c2">(আরশে ওঠার)</span>
ধরণ বোধগম্য নয়,
তবে তার ওপরে ওঠা অজানা বিষয় নয়। আর তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং তার সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত। আর আমি তোমাকে একজন বিদ'আতি মনে করি। আর তাকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন,
ফলে তাকে বের করে দেওয়া হলো।</p><p class="ltr justify" id="p112">আবূ নু'আইম ইয়াহইয়া ইবন রাবী থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন,
আমি মালেক ইবন আনাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম,
এমতাবস্থায় তার কাছে এক লোক আসল ও বলল,
হে আবূ আব্দুল্লাহ!
যে বলে কুরআন মাখলুক আপনি তার সম্পর্কে কি বলেন?</p><p class="ltr justify" id="p113">মালিক বললেন,
সে জিন্দিক—বদ্বীন, তাকে হত্যা করো। সে বলল,
হে আবূ আব্দুল্লাহ!
আমি একটি শোনা কথা বর্ণনা করছি। তিনি বললেন,
আমি তা কারো হতে শুনিনি কেবল তোমার থেকেই শুনেছি। তিনি এ কথাকে মারাত্মক জানলেন।</p><p class="ltr justify" id="p114">ইবন আব্দুল বার আব্দুল্লাহ ইবন নাফে'
থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেছেন,
মালেক ইবন আনাস বলতেন,
যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে,
কুরআন মাখলুক তাকে প্রহার করে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাওবা না করা পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হবে।</p><p class="ltr justify" id="p115">আবূ দাউদ আব্দুল্লাহ ইবন নাফে'
থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন,
মালেক বলেছেন,
আল্লাহ আসমানে আর তার ইলম সব জায়গায়।</p><h3 class="ltr justify" id="p18"><a id="t18" class="anchor"> </a><a href="#t18">কাদর <span class="c2">(তাকদীর)</span> বিষয়ে তার বাণী</a></h3><p class="ltr justify" id="p116">আবূ নু'আইম ইবন ওহাব থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন,<span class="c6" data-redactor-tag="span">
আমি ম
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
ছবিসহ ও লিংকসহ মন্তব্য অ্যাডমিন দেখে প্রকাশ করেন।